শনিবার ২রা জুলাই, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ ১৮ই আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

ওজন কমলেই দূর হবে টাইপ-২ ডায়াবেটিস

জুলাই ৩, ২০২১

ডেস্ক রিপোর্ট: ওজনের সমস্যায় ভুগছেন অনেকেই। শরীরে ক্যালোরি হ্রাস না পাওয়ায় মোটা হয়ে যাওয়ার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি দেখা দেয়। শরীরের ওজন বাড়তে থাকায় ধীরে ধীরে আমাদের দৈনন্দিন কাজে ব্যাঘাত ঘটায়। সেই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি রোগ ডায়াবেটিস থাকলে আরো জটিলতা বাড়তে থাকে। সাধারণত টাইপ-২ ডায়াবেটিস হওয়ার কারণ হল অতিস্থূলতা ও শারিরীক পরিশ্রমের অভাব।

এখন টাইপ-টু ডায়াবিটিস ধরা পড়ার পর চিকিৎসকরা ইনসুলিনসহ নানা রকমের ওষুধ দিয়ে রোগীর রক্তে শর্করার মাত্রা কমানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু তখন অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে। কোনও ওষুধই আর তেমন কাজ করে না।

আমেরিকার আরিজোনা বিশ্ববিদ্যালয় এবং ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা জানান, এ বার শরীরের অস্বাভাবিক স্থূলত্বের পরিমাপ করেই চিকিৎসকরা টাইপ-২ ডায়াবেটিসের আঁচ পেতে পারেন আগেই এবং আর তা রোখার চিকিৎসা শুরু করতে পারেন। যৌথ গবেষণায়। গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান গবেষণা পত্রিকা ‘সেল রিপোর্টস’-এ। বিশ্বে এখন টাইপ-ওয়ান এর চেয়ে ২৪ গুণ রোগী আক্রান্ত হচ্ছেন টাইপ-টু ডায়াবেটিসে। যা পুরোপুরি নিরাময়যোগ্য নয়।

অস্বাভাবিক স্থূলত্ব যে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের একটি অন্যতম কারণ তা বিজ্ঞানীদের জানা ছিল। যকৃতে ফ্যাট বা ফ্যাটি অ্যাসিডের পরিমাণ বৃদ্ধির জন্য স্থূলত্ব হয়, এটাও জানা ছিল। কিন্তু সেই ফ্যাটি অ্যাসিডের কী ভূমিকা থাকে টাইপ-টু ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে, সেটা এত দিন ছিল অজ্ঞাত।

গবেষণায় প্রকাশিত, যকৃতে ফ্যাট বা ফ্যাটি অ্যাসিডের পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে অনেকটা বেড়ে গেলেই সেই ফ্যাটি অ্যাসিড আর এক ধরনের পদার্থ তৈরি করে। তার নাম গামা-অ্যামাইনোবিউটারিক অ্যাসিড বা ‘গাবা’। এই গাবা মানবমস্তিষ্কে স্নায়ুগুলিকে ধীরে ধীরে অবশ করে দেয়। তার ফলে যকৃতের কোষের পাঠানো বার্তা আর মস্তিষ্কে পৌঁছতে পারে না। তখন মস্তিষ্ক রক্তে আরও বেশি পরিমাণে শর্করা তৈরির নির্দেশ পাঠাতে শুরু করে। শুধু তাই নয়, অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন বেরিয়ে আসতেও বাধা দেয় গাবা। ফলে, রক্তে শর্করার বাড়তি মাত্রা কমানোর আর কোনও উপায় থাকে না।

বিশেষজ্ঞদের একাংশ বলছেন, অস্বাভাবিক স্থূলত্ব দেখলেই যকৃতে গাবার পরিমাণ জানার চেষ্টা হবে। আর তা নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য ওষুধও আসবে বাজারে।

উল্লেখ্য, টাইপ-২ ডায়াবেটিস আংশিক প্রতিরোধ যোগ্য। ওজন স্বভাবিক রাখা, নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম ও নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে এই রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। এর প্রাথমিক চিকিৎসা হল ব্যায়াম ও ডায়াবেটিক পথ্য। রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব না হলে ওষুধের কথা চিন্তা করা হয়। কতক ব্যক্তির ক্ষেত্রে ইনসুলিনের প্রয়োজন হয়। স্থূলকায় ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ব্যারিয়াট্রিক সার্জারি ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
সর্বশেষ

বাইডেনের ক্ষমতা কমল

ঢাকা প্রতিদিন আন্তর্জাতিক ডেস্ক : গ্রিনহাউজ গ্যাসের নির্গমন হ্রাস করতে কিছু ক্ষমতা হারিয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন। যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম

Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031