ওরা এখন বোঝে আমারও একটা জীবন আছে’

বিনোদন

ডেস্ক রিপোর্ট :
কোরবানি শুধুই কি একদিনের পশু কোরবানি? তা হয়তো নয়। জীবনের অনেক মুহূর্তেই আমাদের অনেক কিছু কোরবান বা স্যাক্রিফাইস করতে হয়। যেগুলোর অনেকটাই জানেন না অন্যজন। তারকাদের জীবনেও এমন অনেক ঘটনা ধীরে ধীরে এক সফল সেলিব্রেটি অথবা সত্যিকারের মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে। এই কোরবানির ঈদে এমন সব গল্প শুনিয়েছেন তারা। যেমন কণ্ঠশিল্পী আঁখি আলমগীর মন খুলে বলেছেন নিজের জীবনের নানা কোরবানের কথা- কোরবান মানে তো সেক্রিফাইস। তো সে হিসেবে বললে, আমার পুরো জীবনটাই এর মধ্যদিয়ে গেছে। বিশেষ ঘটনা হিসেবে এখন মনে পড়ছে, আমার বাচ্চাদের কথা। ছোট ছোট বাচ্চা রেখে নিয়মিত শো’তে যাওয়া আমার জন্য ছিলো ভয়ংকর বেদনার বিষয়। মঞ্চে আমি হাসিমুখে নেচে-গেয়ে পুরো অডিটোরিয়াম মাত করছি ঠিকই। কিন্তু মনটা আমার প্রতিনিয়ত কাঁদতো ঘরে ফেলে আসা ছোট ছোট বাচ্চাদের কথা। আর শো যদি হতো দেশের বাইরে। বিশেষ করে ৭ দিন থেকে ১৫ দিনের ট্যুরও ছিলো তখন। সেটা ছিলো মিউজিকের জন্য বা মানুষদের আনন্দ দেওয়ার জন্য আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সেক্রিফাইস। এটা ঠিক আমার বাচ্চারা আমাকে ছাড়া নিরাপদেই থাকতো। আমার মা (কবি খোশনূর) তাদের আগলে রাখতেন। কিন্তু দিন শেষে ওরা তো আমার শরীরের একটা বড় অংশ। ফলে ওদের ছাড়া দিনের পর দিন দূরে থাকা কি যে বেদনার- সেটা আসলে মুখে বলার ভাষায় নেই। শুধু তো বাসায় রেখে যাওয়া নয়, বাচ্চাদের অনেক জন্মদিন আমি মিস করেছি। ওদের স্কুলের অনেক অনুষ্ঠান মিস করেছি। এগুলো তো আমার জীবনের জন্য মা হিসেবে অনেক বড় কোরবান। আবার বাসায় ফিরে আমি হয় তো অনেক ক্লান্ত। আমার হয়তো ঘুমে চোখ নেমে আসছে। কিন্তু বাচ্চাদের দিকে তাকিয়ে ঠিকই চেষ্টা করেছি ওদের সঙ্গে খেলতে, গল্প করতে। সেই ক্লান্তি ওদের বুঝতে দিইনি। যার অর্থ দাঁড়াচ্ছে, আমি আমার জীবনের আরাম, আনন্দ, স্বাধীনতা সব স্যাক্রিফাইস করেছি একদিকে মিউজিক আর বাচ্চাদের জন্য। আমার ছোট বাচ্চাটা হওয়ার তিন দিনের মাথায় জন্ডিস ধরা পড়ে। দুটো বাচ্চাই সিজার বেবি। তো ছোট বাচ্চার জন্ডিসের কারণে ওকে একটা বক্সে রাখা হতো- চিকিৎসার জন্য। তাকে আধা ঘণ্টা পর পর দুধ আর পানি খাওয়াতে হতো। টানা ৭২ ঘণ্টা ওকে বক্সে রাখা হয়েছিলো। পুরোটা সময় আমি এক ফোটা ঘুমাইনি। ভয়, যদি আধা ঘণ্টা পর ওকে দুধ বা পানি দিতে ভুলে যায় নার্স! অথচ নার্সরা কিন্তু এসব ভুল করার কথা না। কিন্তু আমি ঘুমাতে পারিনি। টানা ৭২ ঘণ্টা আমি এই কাজটি করেছি। অথচ আমার সিজার করা শরীর। তো আমার মনে হয়, এমন অনেক বড় বড় সেক্রিফাইস বাচ্চাদের জন্য করেছি। কিন্তু সেটা খুবই আনন্দ নিয়েই করেছি। এসব নিয়ে আমার আফসোস নেই। কারণ, আমার জীবনের প্রথম আনন্দ বা প্রায়োরিটি ছিলো বাচ্চা বা মাতৃত্ব। এরপর প্রফেশন। তারপর ফ্যামিলি। এবং চতুর্থ নম্বরে ছিলাম আমি! তো যার মেন্টালিটি এমন, তার জীবনে তো এমন কোরবানি থাকবেই। এবং এখনও এসব ভাবলে আমার মনে হয়, কোনও ভুল করিনি। এটাই আমার সঠিক রাস্তা। এখন ওরা অনেক বড় হয়েছে। ওরাই এখন আমার টেককেয়ার করতে চায়। আমি একা বের হলে ওরা খুশি হয়। ওদের নিতে চাইলে বলে, না আম্মু তুমি একাই যাও। তোমার বান্ধবীদের সঙ্গে একটা প্ল্যান করে ঘুরে আসো। মানে, ওরা এখন বোঝে- আমারও একটা জীবন আছে! এটাই বড় আনন্দ আমার। এবং মনে হয়- ছোটবেলায় যদি ওদের সঙ্গে আন্ডারস্ট্যান্ডিংটা না করতাম, ওদের জন্য নিজেকে সেক্রিফাইস না করতাম- তাহলে এই মূল্যায়নগুলো পেতাম না। তাই বলি, জীবনের কোনও কোরবানি বা সেক্রিফাইস বৃথা যায় না। সেটা উল্টো দ্বিগুণ হয়ে ফেরত আসে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *