কক্সবাজার হানাদার মুক্ত দিবস পালন

সারাবাংলা

কক্সবাজার প্রতিনিধি : কক্সবাজার হানাদার মুক্ত দিবস পালন করা হয়েছে। শুক্রবার পাবলিক লাইব্রেরির শহিদ দৌলত ময়দানে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কক্সবাজার জেলা ইউনিট কমান্ড এর আয়োজনে, জেলা প্রশাসন ও জয়বাংলা বাহিনী’৭১ এর সার্বিক সহযোগিতায় আয়োজিত অনুষ্ঠানমালায় মধ্যমনি হিসেবে উপস্থিত থেকে পতাকা উত্তোলন ও স্মৃতিচারণ করেন জয়বাংলা বাহিনী’৭১ এর প্রধান, বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা কামাল হোসেন চৌধুরী।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) শাহজান আলির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান লে.কর্ণেল ফোরকান আহমদ (অব.)।

বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: মাসুদ কুতুবী, জেলা আওয়ামী লীগ সহ সভাপতি রেজাউল করিম, অ্যাডভোকেট ফরিদুল আলম ও নাজনীন সরওয়ার কাবেরি প্রমুখ। উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক সংসদ কক্সবাজার সভাপতি আনোয়ার হাসান চৌধুরী, যুগ্ম সম্পাদক সোহরাব হোসেন চৌধুরী ও সংগঠক সাখাওয়াত হোসেন চৌধুরী প্রমুখ।

পুরো অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন বাংলাদেশ টেলিভিশনের কক্সবাজার জেলা সংবাদদাতা জাহোদ সরওয়ার সোহেল। অনুষ্ঠানে কক্সবাজার সাহিত্যিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মো: আনছারুল করিম ও ফয়সাল রিয়াদের নেতৃত্বে একদল শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বাংলার দামাল ছেলেদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছিল একটি বিজয়, একটি লাল সবুজের পতাকা। আজকের এই দিন সমুদ্র জনপদ কক্সবাজারবাসীর জন্য এক ঐতিহাসিক ও অবিস্মরণীয় দিন।

এক সূত্রে জানা যায়, ১৯৭১ সালের ১১ ডিসেম্বর কক্সবাজারের মাটিতে পাবলিক লাইব্রেরীর মাঠে আনুমানিক সকাল ১০টায় বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে স্বাধীনতাকামী হাজারো জনতার উদ্দেশ্যে প্রথম স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন এবং আমাদের প্রিয় কক্সবাজারকে শত্রæ মুক্ত ঘোষণা করেন বঙ্গবন্ধুর বিশ্বস্ত সহচর, জয় বাংলা বাহিনী’৭১ এর প্রধান, বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ জনাব কামাল হোসেন চৌধুরী। সেই সাথে তিনি দিক নির্দেশনা মূলক ভাষণ প্রদান করেছিলেন।

সেদিন খোলা জীপে করে তাঁর জয় বাংলা বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে এয়ারপোর্ট’সহ বিভিন্ন জায়গা চার্জ করে ঐতিহাসিক পাবলিক লাইব্রেরীর মাঠে এসে লোকে লোকারণ্য, জনাকীর্ণ সমাবেশে বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত লাল সবুজের পতাকা উত্তোলন ও সশস্ত্র সালাম প্রদানের মাধ্যমে কক্সবাজারকে হানাদার মুক্ত করা হয়। সেই থেকে প্রতি বছর কক্সবাজার জেলায় শত্রু মুক্ত দিবস পালিত হয়ে আসছে। এ উপলক্ষে কক্সবাজার জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের পাশাপাশি বিভিন্ন সংগঠন কক্সবাজার শক্র মুক্ত দিবস পালন করে থাকেন। এ বিষয়ে বৃহত্তর চট্টগ্রাম জেলা ছাত্রলীগের প্রাক্তন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের প্রাক্তন সহ-সভাপতি, বাংলাদেশ যুবলীগ ও কৃষকলীগের প্রাক্তন প্রেসিডিয়াম মেম্বার, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ জাতীয় পরিষদের প্রাক্তন সদস্য এবং কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগ, আওয়ামী যুবলীগ, সদর আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, জেলা কৃষকলীগের প্রতিষ্ঠাতা আহবায়ক ও সাধারণ সম্পাদক, জেলা আওয়ামীলীগের প্রাক্তন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কামাল হোসেন চৌধুরীর শরণাপন্ন হলে তিনি বলেন, স্বাধীনতা বিরোধী মহলরা এখনো পর্যন্ত স্বাধীনতার ৪৯ বছরের ইতিহাসকে মুছে ফেলার অপচেষ্টায় লিপ্ত আছে। তাদের বংশধরেরাও স্বাধীনতার বিরুদ্ধে কাজ করছে নিরবে। ৪৯ বছর পরে ইতিহাস বিকৃতির এ অপচেষ্টাকে প্রতিহত করতে দেশের সম্মানিত মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক ও মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তিসহ সকল জনসাধারণকে সজাগ থাকতে হবে।

বিশেষ স্মরণীয় যে, ১৯৭১ সালের ৩রা মার্চ পাবলিক হল মাঠের আমতলায় বর্ষীয়ান এ নেতার নেতৃত্বে পাকিস্তানের পতাকা পুড়িয়ে সেই দিনও বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়। কক্সবাজারে প্রথম লাল সবুজের পতাকা উত্তোলনকারী কামাল হোসেন চৌধুরী ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ ভোর ৬টায় মাইকযোগে কক্সবাজার জেলায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষক ও প্রচারক।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *