কচু চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকের

সারাবাংলা

ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি:
ঈশ্বরগঞ্জে কচু চাষে আগ্রহ বাড়ছে স্থানীয় কৃষকদের। অন্যান্য সবজির তুলনায় কচু চাষে লাভ বেশি হওয়ায় দিন দিন কৃষকরা কচু চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। ঈশ্বরগঞ্জের বিভিন্ন হাট-বাজারে প্রতিদিনই সবজি হিসেবে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কচু, কচুর লতি, ডাঁটাসহ পাত া বিক্রি হচ্ছে। এ উপজেলায় বিভিন্ন প্রজাতির কচুর চাষ হয়েছে। জাতগুলো হলো পানি কচু, মুখি কচু, লতিরাজ কচু, কাট কচু ও বাংলা কচু।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় এ বছর ১শ ৬০হেক্টর জমিতে কচুর চাষ হয়েছে। গত বছর ১শ ৫০হেক্টর জমিতে কচুর চাষ হয়েছিলো। তারমধ্যে সবচেয়ে বেশি কচু চাষ হয়েছে উপজেলার তারুন্দিয়া উনিয়নে। এ ইউনিয়নে প্রায় ৩০হেক্টর জমিতে কচুর চাষ করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূল থাকায় কচুর ফলনও ভালো হয়েছে।
চরশংকর গ্রামের কৃষক কৃষক মোঃ মোতালেব হোসেন বলেন, আমার জমিতে আগে ধান চাষ করতাম এই বছর কৃষি অফিসের পরামর্শে মুখি কচু চাষ করেছি। ধানের চেয়ে খরচ কম কিন্তু লাভ বেশি । আমি ৩৫ শতক জমিতে কচুর চাষ করেছি, আশা করি থেকে ৫০ হাজার টাকা লাভ হবে। পোকামাকড়ের আক্রমণ নাই তাই বিষ দেওয়া লাগেনা। কৃষি অফিস থেকে সহযোগিতা পেলে আগামীতে আরও বেশি জমিতে চাষাবাদ করা সম্ভব।
মল্লিকপুর গ্রামের আব্দুস সালাম বলেন, আমার বাড়ির সামনের ক্ষেতে ধান চাষ করতাম আমাদের ব্লকের উপসহকারী কৃষি অফিসার এর পরামর্শে এখন ধানের পাশাপাশি বিভিন্ন সবজি,লতি কচু, কাট কচু চাষ করেছি। এখন আমাদের পরিবারের সবজির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বাজারে বিক্রি করতেছি। লতা ও কচু বিক্রি করে যে টাকা পাই তা দিয়ে অন্যান্য বাজার খরচ করেও কিছু টাকা জমানো যায়।
উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সোহেল রানা বলেন, কচু অত্যাধিক লাভজনক ফসল প্রায় সব ধরনের মাটিতেই চাষ করা যায়। কচু চাষে পরিচর্যা তুলনামূলক কম। কচুতে তেমন রোগ বালাই নেই বললেই চলে তাই বালাইনাশক ব্যবহার করতে হয় না। কচু উচ্চ পুষ্টিসমৃদ্ধ সবজি। কচু শাকে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ, সি, আয়রন, ক্যালসিয়াম, আয়োডিন ও রাফেজ থাকে যা রাতকানা, রক্তশূন্যতা, কোষ্টকাঠিন্য ও ডায়বেটিস রোগীদের জন্য উপকারী। কচু চাষ বৃদ্ধি ও সম্প্রসারণে ব্লকের কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দিয়ে সার্বিক সহযোগিতা করে যাচ্ছি।
উপজেলার কৃষি অফিসার সাধন কুমার গুহ মজুমদার বলেন, এই ফসলের উৎপাদন খরচ খুব কম, পাশাপাশি রাসায়নিক সারের প্রয়োজন হয় খুব কম। কৃষি অফিসের প্রয়োজনীয় সহযোগিতায় কচুর চাষ ভালো হয়েছে। শ্রমিক, যত্ন ও চাষাবাদে স্বল্প ব্যয় হওয়ায় অনেক কৃষক কচু চাষকে বাণিজ্যিকভাবে গ্রহণ করেছেন। কম উৎপাদন খরচ ও ভালো মুনাফা হওয়ায় কৃষকদের মাঝে দিন দিন কচু চাষে আগ্রহ বাড়ছে। গত বছরের তুলনায় এবার কচুর আবাদ বেড়েছে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *