কটিয়াদীতে তিন খুন : গ্রেফতার ৪

সারাবাংলা

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে বসত ঘরের পাশের একটি গর্ত থেকে মাটি চাপা দেওয়া অবস্থায় একই পরিবারের স্বামী স্ত্রী-শিশুসহ গত বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়নের জামষাইট গ্রাম থেকে তিনজনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতরা হলেন একই ইউনিয়নের মীর হোসেনের পুত্র ব্যবসায়ী আসাদ মিয়া (৫৫), তার স্ত্রী পারভীন (৪০) ও তার ছোট ছেলে লিয়ন (১১)।
পুলিশ সূত্র জানায়, বনগ্রাম ইউনিয়নের জামষাইট গ্রামের আসাদ মিয়া প্রতি দিনের মতো ঘুমাচ্ছিলেন। বুধবার রাত ৩টার দিকে ঘরের দরজা খোলা পেয়ে তাদের ওপর আক্রমণ চালায় আসাদের ছোট ভাই দ্বীন ইসলাম। প্রথমে আসাদ মিয়াকে লোহার শাবল দিয়ে মাথা আঘাত করে হত্যা করে। পরবর্তীতে তার ভাবী পারভীন ও ভাতিজা লিয়নকে একই কায়দায় হত্যা করে। ঘটনার পরপরই দ্বীন ইসলাম ঘরের পাশে একটি গর্ত করে তাদেরকে মাটি দিয়ে চাপা দেয়। পরের দিন বৃহস্পতিবার দুপুরে আসাদের মেঝো ছেলে মোফাজ্জল তার বাবা-মা-ভাইকে খুঁজতে থাকে। তাদের কাউকেই না পেয়ে কটিয়াদী মডেল থানায় পুলিশকে বিষয়টি অবগত করলে কটিয়াদী মডেল থানার ওসি এম এ জলিলের নির্দেশে এসআই মোজাম্মেল ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের বাড়িতে গিয়ে মোফাজ্জলের বক্তব্য অনুযায়ী বাড়ির আঙিনার একটি গর্ত থেকে মাটি চাপা দেওয়া অবস্থায় তিনজনের লাশ উদ্বার করে। এদিকে হত্যার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ওই রাতেই চারজনকে আটক করে পুলিশ। পরে শুক্রবার প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সাথে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন আসাদের ছোটভাই দ্বীন ইসলাম।
পুলিশের ধারণা, জমি নিয়ে বিরোধের জেরেই তাদের হত্যা করা হয়েছে। পরে তাদের তিনজনকে গর্তে মাটি চাপা দিয়ে রাখে ঘাতক দ্বীন ইসলাম। কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মাশরুকুর রহমান খালেদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তার মা ও ভাইসহ চারজনকে আটক করা হয়েছে। হোসেনপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সোনাহর আলী বলেন, ‘সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে তাদের হত্যা করে লাশ মাটি চাপা দিয়ে রাখা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় নিহত আসাদ মিয়ার ছোট ভাই দ্বীন ইসলামসহ চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।’
এদিকে ট্রিপল মার্ডার এর ঘটনায় নিহত আসাদ মিয়ার বড় ছেলে তোফাজ্জল বাদী হয়ে আসাদের ছোটভাই দ্বীন ইসলামকে প্রধান আসামী করে ৯ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরো কয়েকজনের বিরুদ্ধে কটিয়াদী মডেল থানায় শুক্রবার রাতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। হত্যা মামলার আসামীরা হলেন, দ্বীন ইসলাম (৪০), ফুফু নাজমা আক্তার (৩৫), দাদী কেওরা খাতুন (৬৫), আল-আমিন (৩৫), ফুফু তাসলিমা আক্তার (৪২), ফুফুাত ভাই রায়হান মিয়া (২৪), ফুফুাত ভাই মিজান মিয়া (২৭), ফুফা ফজলু মিয়া (৫৫), ফুফাত ভাই আজিজুল (২৭)। গতকাল শনিবার দুপুরে আসামী চারজনকে কিশোরগঞ্জ কোর্টে হাজির করে পুলিশ।
কটিয়াদী মডেল থানার ওসি এম এ জলিল বলেন, এ ঘটনায় আসাদ মিয়ার বড় ছেলে তোফাজ্জল বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। আমরা ইতোমধ্যে চারজন আটক করে কোর্টে প্রেরণ করেছি। বাকী আসামীদের গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত আছে। শিগগিরই ঘটনার রহস্য উদঘাটন করা হবে বলে জানান তিনি।
এদিকে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুন নূর এর খাস খামরায় দ্বীন ইসলাম তার স্বীকারোক্তিতে বলেন, পূর্ব শত্রুতা বশতঃ পরিকল্পনা মাফিক হত্যা করার জন্য সকাল থেকে পরিকল্পনা করে থাকি। সন্ধ্যার দিকে প্রথমে পারভীন আক্তার রান্না করার সময় পিছন দিক থেকে মাথায় আঘাত করি শাবল দিয়ে। এতে তাৎক্ষণিকভাবে নিহত হয় পারভীন আক্তার। তাকে বসত ঘরে রেখে দরজা বন্ধ করে রাখি। কিছুক্ষণ পর লিয়ন বাড়ি এসে মাকে ডাকতে থাকলে লিয়নের মাথায় একই শাবল দিয়ে আঘাত করি এবং মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার জন্য শাবল দিয়ে পুণরায় মাথার শিরায় ঘা দিয়ে এপার উপার করে ফেলি। তাকেও মায়ের কাছে রেখে আসি এবং দরজা বন্ধ করে গর্তের কাজ শুরু করি। রাত আনুমানিক ১টার দিকে ভাই বাজার থেকে এসে পারভীন বলে ডাক দিলে পিছনে থেকে ভাইয়ের মাথায় আঘাত করি। এতে ভাই ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। পরে অন্যান্যদের সহযোগিতায় তিনজনকে একই গর্তে মাটি চাপা দিয়ে রাখি। পুলিশ সুপার মাশরুকুর রহমান খালেদ বলেন, অতি অল্প সময়ের সময়ে আমরা প্রধান আসামী দ্বীন ইসলামসহ ৪ জনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি। তাদেরকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। আদালতে প্রধান আসামী দ্বীন ইসলাম ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী প্রদান করেছে। রবিবার ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হবে। বাকী ৫ জনকে খুব দ্রুত গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *