কটিয়াদী সদর হাসপাতাল বিশেষজ্ঞ ডাক্তার নেই ॥ আছে যন্ত্রপাতি

সারাবাংলা

ছিদ্দিক মিয়া, কটিয়াদী থেকে:
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী ৫০ শয্যা বিশিষ্ঠ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জনবল সংকট থাকায় চিকিৎসা সেবা বঞ্চিত আর সহায়ক জনশক্তির অভাবে চরম বিপাকে পড়েছেন রোগীরা। অপারেশন থিয়েটার অ্যানেস্থেসিয়া ও সার্জারি বিশেষজ্ঞ না থাকায় বছরের পর বছর ধরে চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে সরকারের লাখ লাখ টাকার যন্ত্রপাতি কোনো কাজে আসছে না। ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন আছে, কিন্তু রেডিওলোজিষ্ট না থাকায় তালাবদ্ধ রুমে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এতে গোদাম ঘরে পরিণত হয়েছে। প্যাথলজি বিভাগে টেকনোলজিষ্ট না থাকায় রক্ত, মলমূত্র পরীক্ষা করতে পারছে না রোগীরা।বাধ্য হয়ে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যেতে হচ্চে। চালক না থাকার কারণে অ্যাম্বুল্যান্সটি পরিত্যাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে, জটিল ও গুরুতর রোগীদের স্থানান্তরে বাড়তি অর্থসহ চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্চে।শিশু,মেডিসিন,গাইনী ও সার্জারিসহ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পদ শূন্য।ফলে কাঙ্খিত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ৫টি জুনিয়ার কনসালটেন্ট পদ দীর্ঘদিন থেকেই শূণ্য রয়েছে।এছাড়া টেকনোলজিষ্টসহ বিভিন্ন সহায়ক জনশক্তির ৫৬টি পদ শূণ্য আছে। শূন্যপদ থাকায় প্রযুক্তি ও উন্নত যন্ত্রপাতি অপারেশন থিয়েটার, ডিজিটাল এক্সরে মেশিন, প্যাথলজি বিভাগ, অ্যাম্বুল্যান্স থাকলেও বিশেষজ্ঞ ডাক্তার, টেকনোলজিষ্ট নেই।অথচ প্রায় সাড়ে চার লক্ষ মানুষের চিকিৎসার একমাত্র ভরসাস্থল এ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। হাসপাতালে সেবা নিতে আসা কটিয়াদী উপজেলার চরপুক্ষিয়া গ্রামের কুলছুম,লাহৌন গ্রামের আয়েশা, কাজীরচর গ্রামের ফয়েজ উদ্দিনসহ ভুক্তভোগীরা জানান,হাসপাতালে রোগ নির্ণয়ের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়ে ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে হচ্ছে। বিশেষজ্ঞ কোন ডাক্তার না থাকায় তাদের জেলা সদরে যেতে হয়।বিশেষ করে প্রসূতিদের জটিল প্রসব ও সিজারিয়ান সেবা নিতে কিশোরগঞ্জে,ভাগলপুরসহ বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে যেতে হচ্চে।এছাড়া করোনার এই সংকটকালে বাড়তি অর্থসহ ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে গরিব অসহায় রোগীদের। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ নাজমুস সালেহীন বলেন,বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকসহ শূণ্যপদ পূরণে জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে।তবে আমাদের যেটুকু রয়েছে সেটুকু দিয়েই সাধ্যমত সেবাদান করে যাচ্ছি।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *