জাতীয় কন্যা শিশু দিবস আজ

নারী ও শিশু

নিজস্ব প্রতিবেদক: আজ (৩০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় কন্যা শিশু দিবস। এ বছর জাতীয় কন্যা শিশু দিবসের প্রতিপাদ্য – ‘আমরা সবাই সোচ্চার, বিশ্ব হবে সমতার’।

প্রতিপাদ্যে সমতার কথা থাকলেও, কন্যা শিশুর নিরাপত্তা নিয়ে মোটেও নিশ্চিত নন অভিভাবকরা। বেশ কিছুদিন ধরে দেশের বিভিন্নন স্থানে ধর্ষণসহ নারী নির্যাতনের বেশ কিছু ঘটনা ঘটেছে। করোনা মহামারীতে মানুষের জীবনযাত্রার অনেক কিছু পাল্টে গেলেও, পাল্টায়নি নারী ও কন্যা শিশুর নিয়তি পাল্টায়নি। উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা।

করোনাকালে যেখানে সবাইকে মানবিক হওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে, সেখানে নারী ও কন্যা শিশুর ওপর নির্যাতন বেড়েছে। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের তথ্য বলছে, গত চার মাসে ৩০৭ জন নারী ও শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। মোট সহিংসতার শিকার হয়েছেন ৭৮৮ জন। এদের মধ্যে ৪৫৭ জন নারী ও ৩৩১ জন শিশু। এছাড়াও এই সময়ে ১৮টি বাল্য বিবাহরে ঘটনা ঘটেছে।

নারী নেত্রী খুশি কবির বলেন, বর্তমান বাস্তবতায় সাংসারিক জীবনে অর্থনৈতিক অবদানের বড় অংশীদার নারী। নিম্নবিত্ত পরিবারে শিশুরাও অর্থনৈতিকভাবে অনেক সহায়তা করে থাকে। তারা অনেকে করোনায় কাজ হারিয়েছেন। মহামারীর এই সময়ে পরিবারকে আর্থিক সহযোগিতা করতে পারেছন না তারা। এতে পারিবারিক কলহ ও নির্যাতনের হার বেড়েছে। একই ভাবে পুরুষরাও বেকার হয়ে পড়েছেন এবং ঘরে থাকার কারণে নারী ও শিশু নির্যাতন চরমভাবে বাড়ছে। নারী ও শিশু নির্যাতন ঠেকাতে আইনি ব্যবস্থা বড় ভূমিকা রাখতে পারে ।

আমাদের দেশে সামাজিক ও পারিপার্শ্বিক কারণে স্বাভাবিক সময়ে কন্যা শিশুদের ‘ঘরবন্দি’ সময় কাটাতে হয়। করোনায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিনোদন কেন্দ্র বন্ধ থাকায় কন্যা শিশুর ‘ঘর বন্দিত্ব’ আরো দীর্ঘায়িত হয়েছে। যা মানসিকভাবে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে নারী ও শিশু নির্যাতন বেড়ে যাওয়ায় অভিভাবকরা ‘কন্যা শিশুর’ নিরাপত্তা নিয়ে ভীষণভাবে উদ্বিগ হয়ে পড়েছেন।

সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) টিএসসি এলাকা থেকে নিখোঁজ হওয়ার সাত দিন পর গোয়েন্দা পুলিশের তৎপরতায় উদ্ধার করা হয় ফুল বিক্রেতা পথশিশু জিনিয়াকে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের তৎপরতা এবং পুলিশি চেষ্টায় পথশিশু জিনিয়াকে উদ্ধার করা গেলেও এরকম কত শত জিনিয়া অন্ধকার কালো গহ্বরে হারিয়ে যায় তার খোঁজ কে রাখে?

প্রযুক্তি উৎকর্ষতার এই যুগে ‘কন্যা শিশুদের’ জন্য আরেক নতুন বিপদ হাজির হয়েছে। সেটা হচ্ছে ‘সাইবার ক্রাইম’। সাইবার ক্রাইমের কারণে ‘নারী-শিশুর’ নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। গত কয়েক বছরে সাইবার স্পেসে নারী ও শিশু নির্যাতন আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। অনেক ভুক্তভোগীরা এ ব্যাপারে প্রতিকার চেয়ে সাইবার আদালতে মামলাও করেছেন। দেশে প্রযুক্তি পণ্য সহজলভ্য হওয়াও ভিন্ন ফর্মে ‘কন্যা শিশু’ নির্যাতন বেড়েছে। এ ব্যাপারে কঠোর আইন থাকলেও মাঠ পর্যায়ে প্রায়োগিক দুর্বলতা আছে।

এমন বাস্তবতায় আজ দেশে ‘জাতীয় কন্যা শিশু দিবস’ পালিত হচ্ছে। এবারের কন্যা শিশু দিবসের প্রতিপাদ্য ‘আমরা সবাই সোচ্চার বিশ্ব হবে সমতার’ ।

কন্যা শিশুর জন্য ‘সমতার বিশ্ব গড়া’ আগে যেমন চ্যালেঞ্জিং ছিল এখনো তাই আছে; বরং করোনাকালে সেই চ্যালেঞ্জ আরো বেড়েছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে কন্যা শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *