কমলগঞ্জে ইউটিউব দেখে হলুদ তরমুজ চাষ

সারাবাংলা

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি:
মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জের পাত্রখোলা এলাকার কৃষক আব্দুল মতিন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে লাল তীরের সার্বিক সহযোগিতায় তার জমিতে তিন জাতের হাইব্রীড তরমুজ চাষে অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছেন। কৃষি বিভাগও অবাক সঙ্গে সঙ্গে এলাকার অন্যান্য কৃষকদের মধ্যে সাড়া জাগিয়ে দিয়েছে। আবার দেখা গেছে এই তিন বিঘা জমিতে তিনি তরমুজ চাষের পাশাপাশি শষা ও টমেটো চাষ করেছেন। কৃষক আব্দুল মতিনের চাষ করা তরমুজ জাতগুলো হলো ব্ল্যাক বেরি, মুধমালা ও হলুদ রঙয়ের লালতীর ল্যন ফাই (এলএএন এফইআই) জাতের তরমুজ। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিন আব্দুল মতিনের তরমুজ ক্ষেত পরিদর্শণে গেলে দেখা যায়, বেশ কয়েকজন সংবাদকর্মী ও কৃষক উপস্থিত ছিলেন। পরিদর্শণকালে কৃষক আব্দুল মতিন জানান, তার তিন বিঘা জমিতে এই তিন জাতের তরমুজ চাষ করেন। তিন জাতের মধ্যে হলুদ রংয়ের ল্যন ফাই জাতটির সর্বাধিক ফলন হয়েছে। ফলের ওজন ও আকার সবাইকে আকৃষ্ট করেছে। শুধু আকার নয় অসাধারণ মিষ্টি স্বাদেরও। বাজারে এর দামও বেশ ভালো পাচ্ছেন বলে জানান। তিন বিঘা জমিতে এই তিন জাতের তরমুজ চাষে এখন পর্যন্ত তার ব্যয় হয়েছে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা। আর এখন পর্যন্ত উৎপাদিত তরমুজ বিক্রি করেছেন ১ লাখ ২০ হাজার টাকার। ক্ষেতে যে পরিমাণ তরমুজ রয়েছে তাতে তিনি আরও দেড় থেকে দুই লাখ টাকা আয় করতে পারবেন বলে জানান। তিনি আরও জানান, কমলগঞ্জে ইউটিউব দেখে হলুদ তরমুজ চাষ করি। আমার এখানে ল্যন ফাই হলুদ তরমুজ অন্য জাতের চেয়ে প্রায় তিনগুণ বেশী ফলন হয়। এক একটি তরমুজের ওজন ৩ থেকে ৪ কেজি হয়। আগামীতে তিনি ব্যাপকহারে এই জাতরে তরমুজ চাষ করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তার ক্ষেতের তরমুজ ফল দেখতে প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষজন ও কৃষকরা আসেন। তার কাছে আসা কৃষকরা এই তিন জাতের তরমুজ চাষের কলা কৌশল জেনে আগামীতে তারা ও চাষ করার ইচ্ছে প্রকাশ করেন। তিনি আরো বলেন,আমি এই তরমুজের পাশাপাশি শষা ও টমেটো চাষ করছি। সেখান থেকে ভাল লাভ হবে আশা করছি।’ তবে, একটি বিষয়ে তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘আমি একজন সফল কৃষক এত কিছু চাষ করে আসছি দীর্ঘদিন ধরে। বর্তমানে আমার কৃষি জমিতে ৩০ জন শ্রমিক কাজ করে। তাদের মধ্যে ১৫জন পুরুষ ও ১৫ জন মহিলা। মাস শেষে তাদের অনেক টাকা দিতে হয়। অনেক সময় নিজে বাড়ি থেকে দার দেনা করে এনে তাদের বেতন দেই। কিন্তু আমার একটাই দু:খ। কোন যায়গা থেকে কোন ধরনের সহযোগীতা পাই না। কত জনের কাছে কত ধরনা দিয়েও কোন ধরনের প্রণোদনা পাইনি আমি। কত সরকারি যায়গায় আবেদনও করেছি। আমি চাই আমাকে সহযোগীতা করা হউক।’ এ তিন জাতের তরমুজ চাষ সম্পর্কে লাল তীর সীড লি: এর বিভাগীয় ব্যবস্থাপক তাপস চক্রবর্তী বলেন, ল্যন ফাই জাতটি সবুজ ডোরাকাটা ভেতরে হলুদ রঙয়ের শাসযুক্ত ও মিষ্টি স্বাদের। উত্তম পরিচর্যায় এক একটি তরমুজের ওজন হয় ৫ থেকে ৬ কেজি। সারা বছরব্যাপী মাচায় ও মাঠে এ তরমুজ চাষ করা যায়। এ ফলে পরিপক্কতার সময় আসে ৬৫ থেকে ৭৯ দিনে। এ জাতটি চাষ করতে প্রতি শতকে বীজের প্রয়োজন ১ গ্রাম। উত্তম পরিচর্যাতে একরে ফলন উৎপাদন হয় ৩০ থেকে ৩৫ টন। কৃষকরা সঠিক দাম পেলে এই জাতগুলো চাষে দিন দিন আগ্রহ বাড়বে কৃষকদের মধ্যে। মৌলভীবাজার জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক কাজী লুৎফুর বারী বলেন, ‘এ প্রদর্শনীতে তিন জাতের বীজ লাগানো হয়েছে। এর মধ্যে অধিক ফলন ও ফলের স্বাদের পরিমাণে ও সবদিক থেকে এগিয়ে কৃষকের মন জয় করেছে ল্যান ফাই হলুদ জাতের তরমুজ। তিনি আরও বলেন, জেলার অন্যান্য উপজেলাতেও কৃষকদের মধ্যে এই যাতগুলোর চাষ ছড়িয়ে দিতে হবে।’

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *