কমলগঞ্জে ঝড়ে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন

সারাবাংলা

সালাহ্উদ্দিন শুভ, কমলগঞ্জ থেকে
মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আকষ্মিক ঝড়ে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের ভেতর কমলগঞ্জ চলে যাওয়া ৩৩ হাজার কেভি বৈদ্যুতিক লাইনের ওপর গাছ ভেঙে পড়ে। একই সাথে-শ্রীমঙ্গল সড়কে কয়েকটি স্থানে গাছ ভেঙ্গে পড়ে সড়ক যোগোযোগ ২ ঘণ্টা বন্ধ ছিল। শমশেরনগর ও পতনঊষা ও কমলগঞ্জ পৌর এলাকায় কয়েকটি স্থানে গাছ ভেঙ্গে বৈদ্যুতিক লাইনের উপর পড়ে। ফলে সন্ধ্যা সাড়ে ৫টা থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত ৫ ঘন্টা কমলগঞ্জ উপজেলা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন ছিল পুরো কমলগঞ্জ উপজেলায়। তবে গাছ সরানোর কাজে শ্রীমঙ্গল ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা গেলেও তারা কাজ না করেই ফিরে যায়। ঝড়ের কারণে বৃহস্পতিবার সাড়ে ৫টায় লাউয়াছড়ার কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল সড়কের জানকিছড়া রেসকিউ সেন্টারের সম্মুখসহ ৪-৫ স্থানে সড়কে বড় বড় ৪-৫টি গাছ উপড়ে পড়ে যায় কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল সড়কের রাস্তার ঠিক মাঝখানে। এসময় সড়কের দু-পাশে প্রায় ২শতাধিক যানবাহন আটকা পরে। এসময় অনেক ট্রাক-পিকআপ চালক ও শ্রমিকরা সড়কে পরে থাকা গাছগুলো সরানোর জন্য চেষ্টা করে। তারাও দা ও করাত দিয়ে গাছ কেটে সড়কের একপাশে নিয়ে গেলে কিছুটা স্বাভাবিক হয় চলাচল। লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের ভেতরে সড়কে পড়ে থাকা গাছ কেটে ২ ঘন্টা পর রাত ৮টায় আবারও সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়। শমশেরনগর এলাকার বৈদ্যুতিক তারের উপর থেকে গাছ কেটে ফেলে ছেড়া তার মেরামত করে ৫ ঘন্টা পর রাত সাড়ে ১০টায় আবার কমলগঞ্জ উপজেলা সদর, শমশেরনগরসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থান গুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা হয়। তবে শুক্রবার সকাল থেকে বিদ্যুৎকর্মীরা গ্রামাঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যুৎ লাইন মেরামত করে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করেন বলে দেখা যায়। এদিকে সন্ধার ঝরে কমলগঞ্জে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর থেকে মোবাইর নেট ইন্টারনেট চলে যায়,বিদ্যুৎ আসার পর আবার নেট চলে আসে। এতে ভোগান্তীতে পড়েন পুরো উপজেলা মানুষসহ স্কুল,কলেজ ও র্ভারসিটিতে অনলাইনে ক্লাস করা ছাত্রছাত্রীরা। লাউয়াছড়ার বনরেঞ্জ কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা স্থানীয় সংবাদকর্মীদের মাধ্যমে খবর পেয়ে কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল সড়কে ঝড়ের কারণে পরা গাছগুলো দ্রুত কেটে সরাই। পরে আস্তে আস্তে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।’ মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কমলগঞ্জ আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপ-মহাব্যবস্থাপক মীর গোলাম ফারক ঝড়ে বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ক্ষতির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঝড়ের পরপরই বিদ্যুৎকর্মীদের নিয়ে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় গিয়ে বেশ কিছু স্থানে গাছ পড়ে বৈদ্যুতিক তার ছিড়ে গেছে। এসব এলাকার ভেঙ্গে পড়া গাছ কেটে সরানোর পর ক্ষতিগ্রস্ত লাইন মেরামত করতে রাত সাড়ে ১০টা বাজে। এর পর উপজেলাসহ গুরুত্বপূর্ণ জনপদ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা হয়। শুক্রবার সকাল থেকে বিদ্যুৎকর্মীরা গ্রামাঞ্চলে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যুৎ লাইন মেরামত করে পর্যায়েক্রমে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *