কমলগঞ্জে শতভাগ বিদ্যুৎ ঘোষণা

সারাবাংলা

সালাহ্উদ্দিন শুভ, কমলগঞ্জ থেকে : গত বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে জাতীয়ভাবে মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলাকে শতভাগ বিদ্যুতায়নের ঘোষণা করেছেন। তবে বন বিভাগের আপত্তির কারণে এখনও শতভাগ বিদ্যুতের আওতাভুক্ত হতে পারেনি কমলগঞ্জের ত্রীপুরা সীমান্তবর্তী আদমপুর বনবিট এলাকায় কালেঞ্জী খাসিয়াপুঞ্জি ও পুঞ্জির বাহিরের কালেঞ্জী গ্রাম। বিদ্যুতায়ন না হওয়ায় প্রায় দেড়শ পরিবার ও সহস্রাধিক লোক বিদ্যুতের আলো বঞ্চিত। খাসিয়া সম্প্রদায়ের সদস্যরা বলেন, মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কমলগঞ্জ উপজেলাকে শতভাগ বিদ্যুতায়ন ঘোষণা করেছে। অথচ এই দুটি গ্রাম এখনও বিদ্যুতায়নের আওতায় আসেনি। কালেঞ্জী খাসিয়া পুঞ্জির ৯৫ পরিবারের দৈনন্দিন নানা সমস্যায় জর্জরিত পুঞ্জির সদস্যরা। বন বিভাগের আপত্তির কারনে এ দুটি গ্রামে বিদ্যুতায়ন সম্ভব হচ্ছে না। পুঞ্জির পুরুষ-নারী সদস্যরা টিলার নিচের কূপ থেকে জল সংগ্রহ করে টিলার উপরে তুলে নিয়ে আসেন। বিদ্যুৎ সুবিধাপ্রাপ্ত হলে বৈদ্যুতিক পাম্প বসিয়ে নিচ থেকে টিলার উপরে ঘরে ঘরে জল তোলা যেতো। খাসিয়া সদস্যদের আয়ের প্রধান উৎস পাহাড়ি টিলায় জুমের পান। খাসিয়া পান বৃহত্তর সিলেটের ভাটি অঞ্চল ও যুক্তরাজ্যে সরবরাহ করা হয়। সম্প্রতি সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, সমতল ভূমি থেকে প্রায় ৫শ ফুট উপরে পাহাড়ি টিলার স্তরে স্তরে খাসিয়া সম্প্রদায়ের বসতঘর। খাসিয়া পুঞ্জির ৯৫ পরিবারে প্রায় ৬শ লোকসংখ্যা। তাদের আয়ের প্রধান উৎস জুমের খাসিয়া পান ও লেবু। পুঞ্জির পার্শ্ববর্তী কালেঞ্জি গ্রামেরও ৫০টি পরিবারে প্রায় অর্ধ সহস্রাধিক লোকের বসবাস। তবে বর্তমান তথ্য প্রযুক্তির যুগেও বিদ্যুতায়ন পৌঁছেনি এ দুটি গ্রামে। রাস্তারও বেহাল দশা। যাতায়াত অব্যবস্থাপনার কারণেও কালেঞ্জি খাসিয়া সম্প্রদায় ও কালেঞ্জি গ্রামের লোকদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

আদমপুর বাজার থেকে ১০ কিলোমিটার পুর্বে সংরক্ষিত বনের মধ্যে কালেঞ্জি খাসিয়া পুঞ্জি ও পুঞ্জি ঘেষা কালেঞ্জি গ্রাম। পুঞ্জি হেডম্যান রিটেঙেন ঘেরিয়েম বলেন, আমাদের পুঞ্জির স্কুল-কলেজ পড়ুয়া প্রায় ২শ ছাত্র-ছাত্রী বেশীর ভাগ সময়ে পায়ে হেটে ১০ কিলোমিটার পার হয়ে আদমপুরে যেতে হয়। সেখান থেকে গাড়ি যোগে কলেজে যেতে হয়। যাতায়াতের দুর্ভোগ মাথায় নিয়ে খাসিয়া পরিবারগুলো দৈনন্দিন হাট বাজারে ১০ কিলোমিটার দূরের আদমপুর বাজারে যেতে হয়। তিনি আরও বলেন, একই উপজেলার সংরক্ষিত বনের পাত্রখোলা, মাগুলছড়া ও লাউয়াছড়া খাসিয়া পুঞ্জিতে বিদ্যুৎ সংযোগ রয়েছে। গত ২৬ ডিসেম্বর মৌলভীবাজার-৪ আসনের সাংসদ উপাধ্যক্ষ ড. এম এ শহীদ কমলগঞ্জের পাত্রখোলায় বনের মধ্যে খাসিয়া পুঞ্জি ও গারো টিলায় আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করে ১৫০টি পরিবারকে বিদ্যুতায়নের আওতায় এনেছেন। অথচ বন বিভাগ অযৌক্তিভাবে আপত্তি দিয়ে কালেঞ্জী পুঞ্জি ও গ্রামে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রেখে দিয়েছে। আদমপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদাল হোসেন বলেন, বিদ্যুৎ সমিতি কালেঞ্জী খাসিয়া পুঞ্জি ও কালেঞ্জী গ্রামে বিদ্যুতায়নের জন্য খুঁটি এনে অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেছিল। তবে বন বিভাগের আপত্তির কারণে শতভাগ বিদ্যুতের সুবিধা ভোগ করতে পারেনি কালেঞ্জী খাসিয়া পুঞ্জি ও কালেঞ্জী গ্রাম। মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কমলগঞ্জ আঞ্চলিক অফিসের ডিজিএম মীর গোলাম ফারুক বলেন, তিনি কমলগঞ্জে নতুন যোগদান করেছেন। তবে অফিস রেকর্ড দেখে জেনেছেন, কালেঞ্জী খাসিয়া পুঞ্জি ও কালেঞ্জী গ্রামকে বিদ্যুতায়নের আওতায় আনতে কাজ শুরু হয়েছিল। ঠিকাদারের লোকজনও খাসিয়া পুঞ্জি এলাকায় বৈদ্যুতিক খুটিও এনে রাখে। শুধুমাত্র বন বিভাগের আপত্তির কারণে এ দুটি গ্রামকে এখনও বিদ্যুতায়নের আওতায় আনা যায়নি। কমলগঞ্জের রাজকান্দি বনরেঞ্জ কর্মকর্তা মোতালেব হোসেন তাদের আপত্তির কথা স্বীকার করে মুঠোফোনে বলেন, সংরক্ষিত বনের ভিতর দিয়ে বৈদ্যুতিক লাইন স্থাপনে নিষেধ আছে। শতভাগ বিদ্যুৎ নিশ্চিত করণে কালেঞ্জী খাসিয়া পুঞ্জি ও গ্রামের কথা ভেবে বনের ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে কিভাবে বৈদ্যুতিক লাইন স্থাপন করা যায় সে ব্যাপারে ইতিমধ্যে জরিপ করা হয়েছে। বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত কালেঞ্জী খাসিয়া পুঞ্জি ও কালেঞ্জী গ্রামের বিদ্যুতায়নের বিষয়ে অপেক্ষা করতে হবে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *