কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্র ম্যাসেজ না পেলেও টিকা নিতে ভিড়

সারাবাংলা

সালাহ্উদ্দিন শুভ, কমলগঞ্জ থেকে:
মহামারি করোনা দেশে জীবন-মৃত্যুর মধ্যখানে উৎকণ্ঠায় দিন পার করছে সাধারণ মানুষজন। এ অবস্থায় মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় টিকা নিতে আসা মানুষজনের ভিড় বাড়ছে। শুধু পৌরসভা এলাকা নয়, এখন ইউনিয়ন পর্যায়ের গ্রাম এলাকার মানুষও টিকা নিতে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। এ কারণে ম্যাসেজ পেতে দেরি হওয়ায় শত শত মানুষ ভিড় করছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টিকা গ্রহণের বুথে। ম্যাসেজ না পেলেও করোনার ভয়ে নিতে চাচ্ছেন টিকা। ৩টা বুতে টিকা দিলেও এখন অতিরিক্ত ১টা বুতের মাধ্যমে টিকা দেওয়া হচ্ছে। তবে শত শত মানুষজন টিকা নিতে আগ্রহী হওয়ার বিষয়টিকে পজিটিভ হিসেবে দেখছে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ। তারা জানিয়েছে, দেশে করোনার ভয়াবহ সংক্রমণ ঘটেছে। তাছাড়া এখন প্রতি ঘরে ঘরেই করোনা উপসর্গের রোগী রয়েছে। এ কারণে এখন গণহারে টিকা দেয়ার বিকল্প নেই। করোনাকে নিয়ন্ত্রিত করতে হলে টিকা কার্যক্রম সফল করতেই হবে। প্রথম দফা কমলগঞ্জ উপজেলায় অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা প্রদানের সময় আগ্রহ দেখাননি মানুষ। অনেক সময় টিকা ফেরত গিয়েছে। কিন্তু এ দফা করোনার প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় টিকা গ্রহণে মানুষের আগ্রহ বেড়েছে এবং দিন দিন আগ্রহ আরও বাড়ছেই। চাহিদার চেয়েও বেশি মানুষের উপস্থিতি থাকায় টিকা দিতেও হিমশীম খাচ্ছেন ডাক্তার নার্সরা। তবে টিকা নিতে অতিরিক্ত সময় লাগলে খারাপ ব্যবহার করছেন টিকা নিতে আসা মানুষরা।কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্যমতে জানা যায়, কমলগঞ্জে এখন পর্যন্ত প্রায় ১৫ হাজার মানুষকে টিকার আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। প্রতিদিন প্রায় ৫-৬’শ জনকে করোনার টিকা প্রদান করা হচ্ছে। এর মধ্যে পুরুষের সংখ্যাই বেশি। সর্বশেষ গত জুলাই মাসে ৭ হাজার ৬০৮ জনকে করোনার টিকা প্রদান করা হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে টিকা নিতে আসা মায়া বেগম,সাদেক মিয়া,সালাহ্উদ্দিন শুভ,আলম আহমেদসহ একাধিক টিকাগ্রহীতারা বলেন, করোনার টিকা নেয়ার জন্য তারা অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন করে এসেছেন। তবে তাদের মোবাইল ফোনে টিকা নিতে কোন ম্যাসেজ আসেনি। করোনা যে হারে বাড়ছে তাতে এখন টিকা নেয়া জরুরী। তাছাড়া টিকা গ্রহনের জন্য প্রতিদিন যেভাবে ভীড় হচ্ছে তাতে করে পরে টিকা পাবেন কি না তা নিয়েও তারা চিন্তিত। তাই ম্যাসেজ না পেয়েও টিকা নিচ্ছেন তারা। করোনার টিকার দায়িত্বে থাকা কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট (ইপিআই) আশরাফুল আলম বলেন, ‘প্রথম দিকে কমলগঞ্জ উপজেলায় টিকা নিতে মানুষের আগ্রহ কম থাকলেও বর্তমানে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মানুষজনের ভিড় বাড়ছে। প্রতিদিনই চাহিদার চেয়ে বেশি টিকা প্রদান করা হচ্ছে। মোবাইল ফোনে টিকা গ্রহণের ম্যাসেজ না আসার পরও মানুষজন ভীড় জমাচ্ছেন। আমরা সবাইকে বলে দিচ্ছি ম্যাসেজ আসলে টিকা গ্রহণের জন্য। তাছাড়া ৩টা বুতে টিকা দিলেও এখন অতিরিক্ত ১টা বুতের মাধ্যমে টিকা দেওয়া হচ্ছে।’ কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহবুবুল আলম ভূইঁয়া বলেন, ‘এ উপজেলায় প্রতিদিনই করোনা শনাক্তের হার বাড়ছে। এ অবস্থায় মানুষের করোনার টিকা নিতে আগ্রহও বেড়েছে। এখন প্রতি ঘরে ঘরেই করোনা উপসর্গের রোগী রয়েছে। গ্রামের মানুষের মধ্যে আগ্রহ দেখা দেয়ায় ভিড় বাড়ছে। করোনা ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ করতে হলে টিকা গ্রহণ ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। এ কারণে আমরাও সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি টিকার উপর। তাছাড়া আমরা যেভাবে টিকা দিতে পারছি এভাবে অন্য উপজেলাও দেওয়া সম্ভব হয়নি। আমরা সর্বচ্ছো চেষ্টা করছি কমলগঞ্জের সাধারন মানুষদের করোনা ভাইরাস থেকে রক্ষা করার। সবাই যদি নিয়ম মতো চলেন,তাহলে করোনা ভাইরাস নিয়ন্ত্রনে আনা সম্ভব।’

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *