কমলগঞ্জ : কোনো রকমে বেঁচে আছেন মুচি সম্প্রদায় টিকে থাকা দায়

সারাবাংলা

সালাহ্উদ্দিন শুভ, কমলগঞ্জ থেকে
বাপ-দাদারা জুতা সেলাই করতেন তাদের পরে আমিও একই পেশায় জুতা সেলাইর কাজ করছি। এই পেশায় কাজ করে ৭ সদস্যের পরিবার এখন চালানো সম্ভব হচ্ছে না। নিজেও এখন বৃদ্ধ হয়ে গেছি অন্য কোন কাজও করতে পারিনা। মানুষের এখন টাকা হয়ে গেছে কেউ ছেঁড়া জুতা সেলাই করে পরেনা। আমাদের কেউ সাহায্যও করেনা কষ্টের সঙ্গে এই কথা গুলা বলেছেন ৩০ বছর ধরে জুতা সেলাই পেশায় কাজ করা কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগর বাজারের মুচি দুলাল রবিদাস। কমলগঞ্জের বিভিন্ন বাজারে রাস্তার পাশে অথবা দোকানের সামনে একটি বস্তার উপর বসে জুতা সেলাই করা, রং বা কালি দেওয়ার যাবতীয় জিনিসপত্র গুছিয়ে নিয়ে বসেন মুচি (রবিদাস) সম্প্রদায়ের লোকজন। ছেঁড়া জুতাকে চলার উপযোগী করে দিলেও তাদের ভাগ্যের নেই কোন পরিবর্তন। খেয়ে না খেয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে কোনরকম চলছে তাদের জীবন।কমলগঞ্জ ও শমশেরনগর বাজারের বেশ কয়েকজন কর্মকার মুচি সম্প্রদায়ের সঙ্গে কথা হলে তারা বলেন, আমাদের মধ্যে অনেকেই এই পেশা এখন ছেড়ে দিয়েছেন, সারা দিন কাজ করে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা আয় হয়। এই টাকা দিয়ে কিভাবে ৬/৭ জনের পরিবার চালাবো। এক কেজি চাল আর ডালের দাম এখন ১৫০ টাকা। ভানুগাছ বাজরের বাদল রবিদাস ও শমমেরনগরের বাদাইরদেউল এলাকার মন্টু রবিদাস, রাজ বুজন রবিদাস, জগদীশ রবিদাস জানান, তাদের এলাকায় এই সম্প্রদায়ের ১৪টি পরিবার একসময় জুতা সেলাই করে পরিবার চালাতেন। কিন্তু এখন অনেকই পেশা বদলে অন্য কাজ করছেন। অন্যান্য সম্প্রদায়ের মানুষজন সরকারিভাবে কোন না কোন সাহার্য্য পেলেও সরকারের পক্ষ থেকে মুচি সম্প্রদায়ের লোকজনদের তেমন কোন সাহায্য দেওয়া হয় না।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *