কম্পিউটার প্রদর্শককে ফাঁসাতে ভুল তদন্ত প্রতিবেদন

সারাবাংলা

মেহেদি হাসান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে :
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার চামাগ্রাম হেনা উচ্চ বিদ্যালয়ের কম্পিউটার প্রদর্শক মোঃ হোসেন আলীকে ফাঁসাতে প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি কাউসার নাসিমের সঙ্গে দ্বন্দ মীমাংসা করে দিব বলে জোরপূবর্ক স্বাক্ষর নিয়ে পরবর্তী সরকারি জনবল কাঠামো ও গেজেট উপেক্ষা করে ভুল তদন্ত প্রতিবেদন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা রাজশাহী অঞ্চল বরাবর পেস করেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শিক্ষা অফিসার মো. সাইফুল মালেক এবং তাকে সহযোগিতা করেছেন পরিদর্শক ফজলে রাব্বী ও গবেষনা কর্মকর্তা মেসবাহ্ উদ্দিন।
ভুল তদন্ত প্রতিবেদনে সংগ্রহ করে দেখা যায়, হোসেন আলীর নিয়োগ, সনদ ও নিবন্ধন এসব বিষয়ের বৈধতা নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর সিনিয়র জজ আদালতে একটি মামলা চলমান (মামলা নং ৩৯/২০২০) ও সরকারি জনবল কাঠামো , গেজেট এক নিয়ম থাকলেও সেটি উপেক্ষা করে মনগড়া নিয়ম দেখিয়ে তদন্ত রির্পোট দেয়। নিবন্ধন সংক্রান্ত বিষয়ে দেখা গেছে শিক্ষা অফিসার নিয়োগে নিবন্ধন নাই তাই নিয়োগ অবৈধ লিখলেও বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের স্বারক নং ৫৭.১৭.০০০.৪০৩.৯৯.৪৪৭.১৭/১৭৯৭ মাধ্যমে কম্পিউটার ডেমোনেস্ট্রেটর পদটি নিবন্ধন করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের এনটিআরসিএ এর চেয়ারম্যানকে অনুরোধ করা হয়। ( তারিখঃ ১৭ অক্টোবর ২০১৭ খ্রিঃ) কিন্তু হোসেন আলীর নিয়োগ ২০১৪ সালের আগষ্টে সে সময় নিবন্ধন ছিলনা। তখন শুধুমাত্র কম্পিউটারে ৬ মাসের অভিঞ্জতা সনদ ও ৪ বছর মেয়াদি অনার্স (বানিজ্য) নিয়োমে ছিল। বাংলাদেশ গেজেটে দেখা যায় ১৫ ফেব্রয়ারি ২০১৫ বেসরকারি নিবন্ধন ১০ (২) এর উপধারা (১) অনুয়ায়ী নিবন্ধন ছাড়া শিক্ষক হতে পারবে না তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে। কিন্তু উক্ত গেজেটের ২১,২২ বিধিতে বলা হয়েছে যে, যে কোন উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকার, সরকারি গেজেট প্রঞ্জাপন দ্বারা, বিধি প্রনয়ন করকে পারবে। বেসরকারি শিক্ষক নিয়োগে শিক্ষা মন্ত্রনালয় থেকে একটি পরিপত্র জারি করা হয়। ২২ অক্টোবর ২০১৫ সালের আগে নিয়োগ কার্যক্রম পূর্বের নিয়মে কার্যকর করতে পারবে। (এস.আর. ও.নং-৩০৯-আইন/২০১৫, স্বারক নং ৩৭.০০.০০০০.০৭১.০৮.০০৮.০৫(অংশ)-৯৪২) ।
পদবী সংক্রান্ত যে ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছে সে বিষয়ে জনবল কাঠামোতে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সঙ্গে সংযুক্ত ভোকেশনাল শাখা থাকলে একজন কম্পিউটার ডেমোনেস্টেটর পদবীটি আছে ৬.৪.১ (ক) (ওও) ধারার জনবল কাঠামো অনুযায়ী দায়িত্বে থাকবেন প্রধান শিক্ষক। কিন্তু রির্পোটে স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান ৬.৪.(ক) ধারা অনুযায়ী কারিগরির জনবল কাঠামোর কথা বলা রয়েছে যার পদবী কম্পিউটার ডেমোনেস্ট্রেটর কাম- মেকানিক হবে যার প্রধান হবে সুপারিনটেনন্টে। এছাড়াও সংযুক্ত মাধ্যমিক বেসরকারি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০১৮তে ৯.২ এ সংযুক্ত মাধ্যমিক কারিগরি ভোকেশনাল প্রতিষ্ঠানের জনবল কাঠামোতে কম্পিউটার প্রদর্শক পদ স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে। এছাড়া হোসেন আলীর সনদপত্র ভুয়া বললেও তৎকালীন শিক্ষা অফিসার রফিকুল ইসলাম ও প্রধান শিক্ষক নাইমুল হক সনদপত্র সঠিক দেখেই এমপিও করেছে বলে জানা গেছে। উল্লেখ্য, চামাগ্রাম হেনা উচ্চ বিদ্যালয়ের কম্পিউটার প্রদর্শক মোঃ হোসেন আলীর সঙ্গে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ মোখলেসুর রহমান ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি কাউসার নাসিম (মটন) এর সঙ্গে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির ভোটার তালিকা প্রকাশ নিয়ে দ্বন্দ হয়। সেই দ্বন্দের জেরে প্রধান শিক্ষক কম্পিউটার প্রদর্শক মোঃ হোসেন আলীর কম্পিউটার প্রদর্শক পদে নিয়োগ অবৈধ বলে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা রাজশাহী অঞ্চল বরাবর অভিযোগ দেয় বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি কাউসার নাসিম (মটন)। সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে জেলা শিক্ষা অফিসার বিদ্যালয়ে গিয়ে তদন্ত করে কম্পিউটার প্রদর্শক বিরুদ্ধে ভুল তদন্ত প্রতিবেদন প্রেরণ করে। ভুল তদন্ত প্রতিবেদনের ব্যাপারে জেলা শিক্ষা অফিসার সাইফুল মালেক জানান, আমি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছি যদি ভুল করে থাকি তার জবাব ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দেবে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *