করোনায় পেশা বদল বিপাকে শ্রমিক

সারাবাংলা

বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
পৌর শহরের কেশব চন্দ্র সাহা (৫৮) । দুই ছেলে ও স্ত্রী নিয়ে ভালোই সংসার চালাতেন। বড় ছেলে কৌশিক বাউফল সরকারী কলেজে দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। ছোট ছেলে কুশল বাউফল মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়াশুনা করে। সদর রোডে মুক্তিযোদ্ধা ওয়াদুদ মিয়া মার্কেটে সেলামী ছাড়া ১৫শ টাকা মাসিক ভাড়ায় চায়ের দোকান দিয়ে সংসার চালাতো। কিন্তু কোভিট-১৯ করোনায় দোকানটি বন্ধ হয়ে গেছে। আর এতে চরম বিপাকে পড়ে তার পরিবার নিয়ে। বেছে নেয় কাঁচামালের আমের আড়ৎ জয়নাল মহাজনের আম পাইকারি দোকানীদের ঝুড়ি মেপে আম বুঝিয়ে দেয়ার শ্রমিকের কাজ। এতে সে মাসে ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা বেতন পায়। তা দিয়ে কোন মতে চারজনের পরিবার চলে । শুধু কেশব সাহাই নয়, করোনায় পেশা বদল করেছে তার মতো অনেকেই। বাজারে পরিমলের মিষ্টির দোকানে মিষ্টি, পুড়ি, সিঙ্গারা তৈরিন করতো হোসনাবাদের শামল(৪৯)। সে দশ হাজার টাকা মাসিক বেতনে চাকরী করে মা স্ত্রী, সন্তান সহ ৫ জনের সংসার চালাতো। মহামারি করোনায় সে হোটেলটি বন্ধ হয়ে যায়। শ্যামল ঋণে দশ হাজার টাকা এনে বাউফল পৌর শহরে সব্জির ব্যবসা করে সংসার চালাচেছ। কেশব চন্দ্র সাহা বলেন, তার ছোট্র একটি দোকান পজিশন ছাড়া তাকে দেড় হাজার টাকা ভাড়ায় দোকানটি করতে দেয় মার্কেটের মালিকের ছেলে অহিদুজ্জামান ডিউক। তার দোকানের চারপাশে বেশ কিছু দোকানী ও দুটি ব্যাংকের লোকজন চা, সিগারেট, বিস্কুট, পান বিক্রি করতো। এতে সে দোকানের ভাড়া দিয়ে ভালোভাবেই সংসার চালিয়েছেন। কিন্তু মহাজনের এ কাঁচামালের এ ব্যবসা আর মাত্র এক মাস চলতে পারে। তারপর সে কিভাবে তার সংসার চালাবে এ দুচিন্তায় রাতে ঘুম আসেনা। আড়ৎটি খন্ডকালিন,তাই ভেবে এখন সে দিশেহারা হয়ে পড়েছে পরিবার নিয়ে এ দুর্যোগে কিভাবে বাঁচবে। সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সামনে চা দোকানি জহির (৩০) দু লাখ টাকা মালিককে সেলামী দিয়ে প্রতিমাসে ৩ হাজার টাকা ভাড়ায় চা,কফির দোকান দিয়েছিল সে । মহামারি করোনায় তার সে আশায় এখন গুঁড়ে বালি । দোকানটি বন্ধ হয়ে গেছে । তার চোখে এখন হতাশার স্বপ্ন বয়ে বেড়াচ্ছে। বেশ কয়েকটি বেসরকারি এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে সংসার চালাবে বলে আশায় বুক বেঁেধছিল ওই যুবকটি । কিন্তু দোকানের ভাড়া, এনজিওর কিস্তি তাকে এখন তাড়া করে বেড়াচ্ছে। মা, স্ত্রী, সন্তান নিয়ে চারজনের সংসার তার । জহির জানান, আর কিছুদিন এভাবে চলতে থাকলে তার সবাইকে রেখে অজানা উদ্দেশ্যে চলে যেতে হবে । নতুন করে কেউ তাকে ঋণ দিতে চায় না যে সে অন্য ব্যবসা করবে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *