করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু কাফন-দাফন করতে হাঁপিয়ে উঠছেন তাকওয়া ফাউন্ডেশন

সারাবাংলা

তাজাম্মূল হুসাইন, মণিরামপুর থেকে:
করোনায় আক্রান্ত হয়ে গত শনিবার মৃত্যুবরণ করেন যশোরের মণিরামপুর উপজেলার চালুয়াহাটী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আমির হোসেনর স্ত্রী বিলকিস আরা বেগম (৭০)। করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর কারণে গ্রামের কেউ এগিয়ে আসেননি আমির হোসেনের বাড়িতে। দুপুরে তাকওয়া ফাউন্ডেশনের সদস্যরা তার বাড়িতে গিয়ে লাশ দাফনের ব্যবস্থা করেন। এ অবস্থার বর্ণনা করে হতাশা প্রকাশ করলেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নাজমা খানম। তিনি জানান, তাকওয়া ফাউন্ডেশনের এই সদস্যরা করোনায় মৃতুবরণকারীদের দাফনের ক্ষেত্রে স্বেচ্ছাশ্রম দিয়েই চলছেন। কিন্তু আমরা তাদের মূল্যায়ন করতে পারছি না। তাকওয়া ফাউন্ডেশন এই সদস্যরা গত শনিবার কেবল বিলকিসের মরদেহ দাফন করেননি। এ দিন করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণকারী ৫ জনের দাফন করেছেন। অবশ্য এদিন করোনা এবং উপসর্গ নিয়ে উপজেলায় মৃত্যু হয়েছে ১১ নারী-পুরুষের। যা এ বছরের হিসেবে এ উপজেলায় সর্বোচ্চ বেশি। তাকওয়া ফাউন্ডেশনের যশোর জেলা সমন্বয়ক নাছিম খান জানান, শনিবার সবশেষ রাত সাড়ে ১২টার দিকে দাফনের কাজ শেষ করা হয়েছে দেবিদাসপুর গ্রামের করোনায় মৃত. মিজানুর রহমান (৪৮) এর লাশ দাফনের মধ্য দিয়ে। এর আগে মোহনপুর গ্রামের নজরুল ইসলাম (৫৫), কাশিপুর গ্রামের সুফিয়া বেগম (৫২), একই গ্রামের রুহুল কুদ্দুস মন্টু (৫২) এর মরদেহ দাফন করে তারা। একদিনে পাঁচ লাশ দাফন করে হাফিয়ে উঠেছেন তারা। খোঁজ খবর নিয়ে জানাযায়, এ সংগঠনের নাছিম খান যশোরের সমন্বয়ক ও মাওঃ আশরাফ ইয়াসিন কেন্দ্র কমিটির সদস্যসহ এ অঞ্চলে স্বেচ্ছাশ্রমে তাকওয়া ফাউন্ডেশনের ২০ জন কর্মী করোনায় মৃত্যুবরণকারীদের কাফন-দাফনের কাজ করে চলেছেন। তবে এ ২০ জনের মধ্যে ৪ জন নারী কর্মীও রয়েছেন। তাকওয়া ফাউন্ডেশনের কর্মীরা শুধু মুসলিম পরিবারের মৃত্যু ব্যক্তিদের দাফন করছেননা। করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণকারী পাড়ালা গ্রামের দেবন্দ্র ঘোষালের মরদেহও চিতা পর্যন্ত নেয় তারা। কাফন-দাফনে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, শনিবার পর্যন্ত তারা করোনা ও করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুবরণকারী ৩৬ ব্যক্তির মরদেহ দাফন করেছেন। তাকওয়া ফাউন্ডেশনের এ কাজকে স্বাগত জানিয়েছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ জাকির হাসান বলেন, আমার সাধ্যের মধ্যে যেটুকু পারি তা তাদের সহযোগীতা করার চেষ্টা অব্যহত রয়েছে। তাকওয়া ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাশ্রমের মরদেহ কাফন দাফনের এ কাজকে মহতি কাজ হিসেবে বিবেচিত করেছেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নাজমা খানম। তিনি বলেছেন তাদের মূল্যায়ন করতে চাই, কিন্তু তারা কোন অবস্থাতেই আমার এ প্রস্তাবে সমর্থন করতে রাজি নয়।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *