কলারোয়ার প্রতিমা শিল্পীদের ব্যস্ততা

সারাবাংলা

গোলাম রসুল, কলারোয়া থেকে : সাতক্ষীরার কলারোয়ায় হিন্দু সম্প্রদায়ের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় অনুষ্ঠান শারদীয় পূজাকে সর্বাঙ্গ সুন্দর, স্বার্থক ও দেবীকে স্বাগত জানাতে সর্বত্র আনন্দঘন পরিবেশ বিরাজ করছে, উপজেলার বিভিন্ন পূজা মন্ডপে চলছে সাজ সাজ রব। শুধু হিন্দু সম্প্রদায় নয় দেশের অন্য ধর্মের মানুষেরাও এ উৎসবে অন্তর্ভূক্ত হন নানাভাবে। আগামী ২২শে অক্টোবর ৬ষ্টী তিথিতে দেবী দূর্গার বোধন ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে শুরু হয়ে ২৮শে অক্টোবর ৭ দিনব্যাপি দূর্গোৎসব। অনেক আগেই উপজেলার ৪১ টি পূজা মন্ডপে দেবীর মূল অবয়ব গড়ে তোলা হয়েছে। আর মাত্র কয়েকটা দিন বাকী, তাই সারা দেশের ন্যায় কলারোয়া উপজেলার বিভিন্ন পূজা মন্ডপ গুলোতে চলছে দেবী প্রতিমার গায়ে শেষ রং তুলির আঁচড়ের ধুম। মাটির প্রলেপ শেষে তাই মাতৃরুপকে আপন মনের মাধুরী মিশিয়ে ফুটিয়ে তুলতে সবচেয়ে বেশি কষ্ট করতে হয় প্রতিমা শিল্পী বা ভাস্করকে। কেননা পরম শ্রদ্ধা, আগ্রহ আর ভক্তিতে নিপুন হাতের পরম ছোঁয়ায় তুলির আঁচড়ে মূর্ত হয়ে উঠেন দেবী। বলা চলে গুরু দায়িত্বের কারনে দম ফেলার ফুরসত নাই প্রতিমা কারিগরদের। শনিবার সকালে কলারোয়া পৌরসভার বিভিন্ন পূজা মন্ডপ ঘুরে দেখা গেছে কয়েকটি স্থানে নির্মিত প্রতিমা গুলোতে রং তুলির কারুকাজ শেষ করে সে গুলো সজ্জিত করা হয়েছে।
এ বছর কলারোয়া উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার মোট ৪১ টি স্থানে দূর্গোৎসব উৎযাপিত হতে যাচ্ছে।
কলারোয়া পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাবু মনোরঞ্জন সাহা বলেন, কলারোয়া উপজেলার বিভিন্ন পূজা মন্ডপে ইতোমধ্যে প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। তবে মহামারী করোনার কারণে স্বাস্থবিধি মেনে সাধারণভাবে সকলেই নির্বিঘ্নে আনন্দঘন পরিবেশে পূজা উদযাপন করবে বলে আশা করি। কলারোয়া থানার ওসি (ভারপ্রাপ্ত) হারাধন চন্দ্র পাল জানিয়েছেন, পূজা উপলক্ষ্যে স্বেচ্ছা সেবক, আনসার ও পুলিশের সমন্বয়ে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে স্ট্রাইকিং ফোর্স তাদের দায়িত্ব পালন করবে। উপজেলার কোনো পূজা মন্ডপকে তিনি ঝুকিপূর্ণ বলে মনে করেননা তবে সকল মন্ডপকে সমান গুরুত্ব সহকারে নিরাপত্তার চাদরে বেষ্টিত করে রাখবেন বলে জানান। তিনি আরো বলেন, ধর্ম যার যার উৎসব সবার, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা সবার জন্য জরুরী। এজন্য আযান ও নামাজের সময় প্রত্যেক পূজা মন্ডপে মাইক বা লাউড স্পীকারের ব্যবহার অবশ্যই বন্ধ রাখতে হবে। মাদক সেবী, ইভটিজার ও শান্তিভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *