কাঁচা সড়কে ভোগান্তি

সারাবাংলা

শামীম হোসেন সামন, নবাবগঞ্জ থেকে
ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার বারুয়াখালী ইউনিয়নের নবগ্রাম এলাকার কাঁচা সড়কটি সংস্কার না হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। দীর্ঘ দুই যুগ ধরে সড়কটি সংস্কার না করায় ভোগান্তিতে পড়েছে বাসিন্দারা। প্রতিদিন বারুয়াখালী ইউনিয়নের নবগ্রাম ও পার্শ¦বর্তী জয়কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের পানিকাউর, তিতপালদিয়া ও সোনাবাজু এলাকার মানুষ সড়কটি যাতায়াতে ব্যবহার করে থাকে। বিকল্প কোনো সড়ক না থাকায় এলাকাবাসী বাধ্য হয়েই কাদা-জল মাড়িয়ে প্রতিনিয়ত চলাচল করছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দীর্ঘদিনেও সংস্কার না হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই কাদাজলে একাকার। সড়কের মাঝখানে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য ছোট-বড় গর্তের। আর তাতে প্রতিনিয়ত জমছে জল। চলাচল করতে পারছে না যানবাহন। পায়ে হেটে চলাচল করাও এখন কষ্টসাধ্য। কয়েকদিনের বৃষ্টিতে এখন আবার সড়কজুড়ে কাদাজলে জলাবদ্ধতাও কিছু কিছু অংশে। যানবাহন চলাচল করতে আর রোগী আনা নেওয়ার ক্ষেত্রে সীমাহীন ভোগান্তিতে পরে এলাকাবাসী। স্থানীয়রা জানান, সড়কটি সংস্কারে মধ্যে মধ্যে কিছুটা উদ্যোগ নেওয়া হলেও সামান্য বৃষ্টিতেই পুরনো চেহারা ফিরে পায়। এছাড়া এলাকাবাসীরা স্বেচ্ছাশ্রমেও সড়কটি সংস্কার করেছে কয়েকবার। সামান্য বৃষ্টি হলেই হাটু জল জমে। আর জল নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় কাদা মাড়িয়ে চলাচল করতে হয়। এমন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে দীর্ঘ দুই যুগ ধরে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, একের পর এক চেয়ারম্যান আর মেম্বার পরিবর্তন হলেও তাদের সড়কে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১৯ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত গ্রামটি এখনো অবহেলিত। বৃষ্টির দিনে প্রয়োজনের তাগিদে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয় তাদের। শুধু তাই নয়। সড়কটি দিয়ে প্রতিনিয়ত আশপাশের দুটি মাধ্যমিক, দুটি উচ্চ মাধ্যমিক, ৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহস্রাধিক শিক্ষার্থী যাতায়াত করছে চরম দুর্ভোগে। শুষ্ক মৌসুমে কোনরকমভাবে চলাচল করলেও বর্ষা আর বৃষ্টির দিনে চলাচল করা অসম্ভব। সড়ক জুড়ে কাদা আর জলের কারণেই কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারছে না।
নবগ্রাম এলাকার কলেজ ছাত্র সিফাত মল্লিক জানান, ছোটবেলা থেকেই সড়কটি এ রকম দেখতেছি। মধ্যে মধ্যে কিছুটা ঠিক করলেও সামান্য বৃষ্টিতেই আগের চেহারা ফিরে পায় সড়কটি। শুষ্ক মৌসুমে ধুলাবালি আর বর্ষা মৌসুমে কাদাজল এভাবেই চলে আমাদের যাতায়াত। তারপর যদি একটু বৃষ্টি হয় তখন তো দুঃখের শেষ নাই। স্থানীয় বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এই রাস্তাটির বেহাল অবস্থা দীর্ঘদিন ধরে। একটা রোগী নিয়ে হাসপাতালে যেতেও আমাদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। নির্বাচনের আগে জনপ্রতিনিধিরা আশ্বাস দেয়। কিন্তু পরে আর বাস্তবায়ন হয় না। ইজিবাইক চালক রাশেদ মল্লিক জানান, সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে পারি না। ইজিবাইক নিয়ে ঝুঁিকর মধ্যে পড়তে হয়। কবে একটা দুর্ঘটনা ঘটে যায়। অনেক কষ্টে চলাচল করতে হয়। পায়ে হেটেও চলাচল করা এখন কষ্টসাধ্য। নবগ্রাম এলাকার শেখ বাতেন জানান, সড়ক দিয়ে পায়ে হেটে চলাচল করাও কষ্টের। মধ্যে মধ্যে সংস্কার করা হলেও কিছুদিন যেতে না যেতেই আগের মতো হয়ে যায়। রাস্তার মাঝখানে গর্ত আর কাদাজলের মধ্যেই আমাদের যাতায়াত করতে হয়।
এলাকার স্থানীয় কয়েকজন জানান, নির্বাচনের আগে সড়কটি সংস্কারের আশ্বাস দিলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। আশ্বাস শুধু কথার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। তাদের ভাগ্যে দুর্ভোগ ছাড়া কিছুই জুটেনি। এলাকার বেশির বাগ মানুষ কৃষি কাজের সঙ্গে জড়িত। সড়কটি সংস্কার না হওয়ায় কৃষকদের উৎপাদিত খাদ্যশস্য বাজারে নিতেও প্রতিনিয়ত দুর্ভোগের শিকার হতে হয় স্থানীয়দের।
এ ব্যাপারে নবাবগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী তরুন কুমার বৈদ্য বলেন, কাঁচা সড়কগুলো স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে সংস্কার কাজ করা হয়। এ সড়কের কাজ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে হয়ে থাকে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *