কাউখালীতে কালভার্ট ও খাল দখল করায় জলাবদ্ধতা

সারাবাংলা

রফিকুল ইসলাম রফিক, কাউখালী থেকে:
পিরোজপুর জেলার কাউখালী উপজেলার বিভিন্ন সড়ককে সুরক্ষিত রাখার জন্য বিভিন্ন পয়েন্টে জল প্রবাহ স্বাভাবিক রাখার জন্য পুল নির্মাণ করে সড়ক ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ। কিন্তু এক শ্রেণির প্রভাবশালীদের কারণে দিন দিন খাল ভরাট করে পুলগুলো দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করেন। আবার কোথাও কোথাও পুলের জল প্রবাহ বন্ধ করে জমি বৃদ্ধি করে আস্তে আস্তে দখলে নেওয়ার পাঁয়তারা সৃষ্টি করার অভিযোগ উঠেছে। ৪নং চিরাপাড়া পারসাতুরিয়া ইউনিয়নের ডুমজুরি ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. আব্দুল জলিল অভিযোগ করে বলেন, বিভিন্ন এলাকায় এমনিভাবে পুলের নিচ ও মুখ ভরাট করে এবং স্থানীয় জল প্রবাহের জন্য ছোট ছোট খালগুলো ভরাট করে প্রভাবশালীদের নিজেদের সুবিধার্থে ব্যবহার করছে। এতে করে বর্ষা মৌসুমে স্থায়ী জলাবদ্ধতায় রূপ নেয়। ফলে এলাকার ফসলী জমি নষ্ট হয়ে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি সাধন হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
কাউখালী উপজেলার ডুমজুরী ইউনুছ ফরাজীর বাড়ি থেকে খাদেম আলী বাড়ি পর্যন্ত খালটি বালু দিয়ে ভরাট করেছে প্রভাবশালীরা। চিরাপাড়া ভিটাবাড়িয়া সড়কে কে.এম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের পুলটি নিচ থেকে উপর পর্যন্ত মাটি দ্বারা ভরাট করে আটকে জল প্রবাহ বন্ধ করে দিয়ে প্রভাবশালীদের দখলে নেওয়ার পাঁয়তারা চলছে। পশ্চিম চিরাপাড়া নদীর পাড়ে রাস্তার মজিদ ম্যানেজারের বাড়ির পশ্চিম পাশের পুলটি গোড়া ভরাট করে দখল নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। সুবিদপুর নিরোধ ঘোষের বাড়ির সামনের দুটি পুলই মাটি দিয়ে ভরাট করে জল চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। কাউখালী উপজেলা শহরের থানার পেছনের গালর্স স্কুল সড়কের পাসের খাল ভরাট করতে করতে সরু নর্দমায় রূপান্তরিত হয়েছে। একই সড়কে জালো বাড়ির সামনের খালটি এক সময়ের প্রভাবশালী নেতা সম্পূর্ণ ভরাট করে পাইলিং করে আটকিয়ে দিয়েছে। কচুয়াকাঠী এলাকায় গালর্স স্কুল ব্রীজ সংলগ্ন খালটি আদর্শ নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত বিস্তৃত এই খালটিও প্রায় বন্ধের পথে। এ ছাড়া কুমিয়ান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের খালটি সিএন্ডবি রাস্তা পর্যন্ত বিস্তৃত। এর মধ্যের অংশটিও একই কায়দায় প্রভাবশীদের কালো থাবায় গ্রাস করে নিয়েছে। যার কারণে উপজেলার অধিকাংশ এলাকা জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে থাকে। এতে সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়ে। এসব এলাকার কৃষি ফসল গত ২০-২৫ বছরের তুলনায় উৎপাদন সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে বলে জানান কৃষকরা। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার স্থাপনাগুলো বছরের একটি বড় অংশ সময় জলে ডুবে থাকে। ফলে স্থাপনাগুলোর স্থায়িত্ব দুর্বল হয়ে গেছে, যেকোনো সময় ধ্বসে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার স্বীকার হতে পারে। এ ব্যাপারে কাউখালী উপজেলা প্রকৌশলী মোস্তাক আহম্মেদ জানান, যারা জল প্রবাহ বন্ধ করে স্থাপনা তৈরি করার পাঁয়তারা করছে, তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *