কাঙ্খিত বিক্রি নেই

সারাবাংলা

শামীম হোসেন সামন, নবাবগঞ্জ থেকে:
আর মাত্র কিছু দিন পরই কোরবানির ঈদ। ঈদকে সামনে রেখে এসময় কামারদের দম ফেলার ফুসরত থাকতো না। দিনরাত কামারশালায় টুং টাং শব্দ লেগেই থাকতো। কিন্তু এবারের চলমান লকডাউনে ঢাকার নবাবগঞ্জের কামারদের ব্যস্ততা নেই বললেই চলে। কোরবানির ঈদে কামারদের দম ফেলানোর সময় থাকতো না। টানা দুই সপ্তাহের লকডাউনের কারণে এবার তেমন ব্যস্ততা নেই কামারদের। দিনের বেশির ভাগ সময় কাটে অলস। দোকান খোলা রাখলেও ক্রেতা নেই। ঈদেরর আগে এক মাস জুড়ে কামারদের ব্যস্ততা বেড়ে যেতো। কিন্তু এবার সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র। উপজেলার বারুয়াখালী, শিকারীপাড়া, জয়কৃষ্ণপুর ও বান্দুরা এলাকা ঘুরে দেখা যায়, আগের মতো কামারদের ব্যস্ততা নেই। লকডাউনে কয়েকটি কামারশালা খোলা থাকলেও তাদের হাতে তেমন কোনো কাজ নেই। ঈদকে ঘিরে আগের মতো তাদের বাড়তি প্রস্তুতিও নেই। সহযোগিদের নিয়ে দিনভর দোকানে বসে আছেন অথচ কাঙ্খিত বিক্রি নেই। একসময় কোরবানির ঈদের আগে ৪/৫ জন লোক নিয়ে কাজ করতে হতো কামার পল্লী জুড়ে।
বারুয়াখালী বাজারের বিশ্বনাথ কর্মকার নামের এক দোকানী জানান, আগে কোরবানী ঈদ আসলেই কাজের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যেত। কিন্তু এ বছর ব্যবসার সময়টায় লকডাউন। তাই এবার সে পরিমানে হাতে কাজ নেই। বিক্রির আশায় অনেক মালামাল বানিয়ে রেখেছি। এগুলো বিক্রি করতে না পারলে ঋণগ্রস্থ হয়ে পরবো।
একই বাজারের যতিন্দ্র কর্মকার নামে আরেক দোকানী বলেন, কোরবানি ঈদের একমাস আগে থেকেই দা, ছুরি, বটি, চাপাতিসহ নানা ধরনের হাতিয়ার তৈরির কাজ শুরু হতো। পাশাপাশি থাকতো পুরাতন হাতিয়ারের মেরামতের কাজ। সব মিলিয়ে প্রায় লাখ টাকার বেচাবিক্রি হতো কিন্তু লকডাউনের কারণে সব শেষ। এইবার তো কাজে কোনো ব্যস্ততা নেই। ঈদের কয়দিন বাকি থাকলেও এখনো কাজের চাপ বাড়েনি। আগে প্রায় ১ মাস জুড়ে কাজ করতাম দিন রাত। খাওয়ার সময়টুকুও পাইতাম না।
তাপস কর্মকার নামের আরেক ব্যবসায়ি বলেন, আগে এই সময়ে কামারশালার সামনে বিক্রি করার জন্য সাজানো থাকতো কোরবানি করার বিভিন্ন সরঞ্জামাদি। বিক্রি শুরু হতো কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই। এবার ঈদ ঘনিয়ে এলেও বেচাবিক্রি নেই। বেচাবিক্রি হবেই বা কিভাবে? পুলিশের ভয়ে যে বাজারে মানুষই আসে না। তারপর আবার দুই সপ্তাহ গেল লকডাউন। লকডাউনের পর আজ প্রথম দোকান খুলছি। একজন ক্রেতাও নেই। ব্রাহ্মণখালী এলাকার ব্যবসায়ী অমূল্য কর্মকার জানান, ঈদের মাসখানেক আগ থেকেই কাজের ব্যস্ততা বাড়তো। প্রতিদিন গড়ে এক থেকে দুই হাজার টাকার কাজ করতে পারতাম। এবার লকডাউনের কারণে কাজ নেই বললেই চলে। তিনি আরো বলেন, নতুন হাতিয়ার বিক্রি নেই বললেই চলে। পুরাতন হাতিয়ারে শান দেয়াও কমে গেছে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *