কাজে আসছে না সেতু

সারাবাংলা

ইসমাইল খন্দকার, সিরাজদিখান থেকে:
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় সেতু আছে রাস্তা নেই। ঝিরিখালের উপর নির্মিত সেতুর অ্যাপ্রোচ সড়কে নেই কোনো মাটি। আর এ কারণে হোতার চকের কৃষি পণ্য বাধ্য হয়ে খাল দিয়ে আনতে হচ্ছে কৃষকদের। অন্যদিকে খালের মাটি দুই পাশে ফেলায় পায়ে হাঁটার একটি রাস্তা তৈরি হয়েছে। তবে অনেকে আবার বলছে এই রাস্তাটি পাকিস্তান আমল থেকে রয়েছে। সর্বপরি রাস্তা ও অসমাপ্ত সেতুটির কাজ হলে প্রায় ৮ হাজার কৃষক উপকৃত হবে। রশুনিয়া থেকে কোলা ইউনিয়নে যাতায়াতে প্রায় ৩০ মিনিট সময় কম লাগবে। গত রোববার সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, উপজেলার রশুনিয়া ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ তাজপুর গ্রামের নুরাতলি ঝিরিখালের উপর সেতুর অবস্থান। আট বছর ধরে কাজ সম্পন্ন হলেও সেতুর দুই পাশে পরেনি এখনও মাটি। আর এ কারণে সেতুর কোনো কাজে আসছে না স্থানীয়দের। বর্ষা ও শুকনো মৌসুমে বাধ্য হয়ে খাল পাড়ি দিয়েই পার হতে হচ্ছে। আর এ কারণে চরম ভোগান্তিতে পরতে হচ্ছে কৃষকসহ ২ ইউনিয়নের সাধারণ মানুষদের। অন্যদিকে মো. সোনামিয়া মেম্বারের বাড়ির পূর্ব পাশ থেকে কোলা ইউনিয়নের বেলদারপাড়া পর্যন্ত ১ কিলো ৮০ মিটার রাস্তাটি হলে প্রায় ৫ হাজার মানুষ ও ৮ হাজার কৃষক উপকৃত হবে। রশুনিয়া ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য মো. সোনামিয়া বলেন, উপজেলা থেকে আমার বাড়ির পূর্ব পাশে এসে রাস্তা শেষ হয়েছে। এখান থেকে কোলা ইউনিয়নের বেলদারপাড়া পর্যন্ত পায়ে হাটার রাস্তা রয়েছে। আর এ রাস্তাটি হলে দুই ইউনিয়নে যাতায়াতে ৩০ মিনিট সময় কম লাগবে। আমার বাড়ি থেকে বেলদারপাড়া পর্যন্ত ১ কিলো ৮০ মিটার সড়কটি এখন বেহাল অবস্থায় রয়েছে। আর এই সেতু করা হয়েছে প্রায় আট বছর ধরে। সেতুটি একটি সংস্থার অর্থায়নে এবং বর্তমান চেয়ারম্যানের আন্ডারে করা হয়েছে। সেতুর দুইপাশে মাটি না থাকার কারণে সুবিধা পাচ্ছে না কেউ। কয়েক গ্রাম নিয়ে হোতার চকের কৃষি পণ্য আনা-নেওয়ায় ভোগান্তির শেষ নেই। এই সেতুর জন্য চেয়ারম্যানকে অনেকবার অবহিত করেছি। এই সেতু ও রাস্তাটি হলে হোতার চকের প্রায় ৮ হাজার কৃষক উপকৃত হবে। সেতুর প্রায় ১১ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে।
দক্ষিণ তাজপুর গ্রামের নবুশীল (৭০) বলেন, এই সেতুটি নুরাতলী খালের উপর নির্মিত। সেতুর পাশ দিয়ে পায়ে হাঁটার রাস্তা রয়েছে। তবে রাস্তাটি সরকারি কিনা আমি সঠিক জানি না। রাস্তাটি রশুনিয়া ইউনিয়নের তাজপুর থেকে কোলা ইউনিয়নে এগিয়ে শেষ হয়েছে। তবে রাস্তাটি পাকিস্তান আমল থেকে দেখে আসছি। রশুনিয়া ইউপি চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন চোকদার বলেন, ওখানে কোনো সরকারি রাস্তা নেই, তবে ঝুরিখাল কাটা হয়েছিল। আর খালের মাটিগুলো দুইপাশে ফেলা হয়েছিল। ৮ বছর আগে বিএডিসির মাধ্যমে এই পুল করা হয়েছিল। পুলটি গোড়া থেকে জমির মালিকরা মাটি কেটে সরিয়ে ফেলেছে। পুলটি করা হয়েছিল কৃষকদের পার হওয়ার জন্য। এখন কেউ পার হয় না। আর ঝুরিখালটি আবার কাটানোর ব্যবস্থা করছি।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *