কাদা মাটিতে বুনছে কৃষকের স্বপ্ন

সারাবাংলা

শেখ মো. ইব্রাহীম, সরাইল থেকে : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলায় শীত ও ঘন কুয়াশা উপেক্ষা করেই প্রত্যন্ত অঞ্চলে ইতোমধ্যে কাদা মাটিতে বুনতে শুরু করেছে কৃষকের স্বপ্ন। মাঘের শীতকে উপেক্ষা করে ইরি-বোরো ধানের চারা রোপণে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন কৃষক। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সার ও বীজ চারা নিয়ে কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন তারা। বিরামহীন গতিতে চলছে বোরো রোপণের কাজ। প্রচন্ড শীতে বীজতলা তৈরি করা থেকে শুরু করে চারা রোপণ করা পর্যন্ত ব্যস্ততার মধ্যে সময় কাটে কৃষকের। নানা সমস্যা ও সংকট থাকার পরও ধানের চারা রোপণের জন্য কোমর বেঁধে মাঠে নেমে পড়েছেন তারা। এখন গভীর নলকীপের মাধ্যমে সেচ দিয়ে ধানের চারা রোপণের কাজ চলছে। কোনো জমিতে চলছে চাষ, বীজতলা থেকে তোলা হচ্ছে বীজ, চলছে রোপণ, সব মিলিয়ে জমিতে জোরেশোরে চলছে বোরো রোপণ। উপজেলার গলানিয়া, চানপুর, নোয়াগাঁও, আঁখিতারা, সূর্যকান্দি, শাহজাদাপুর, পাকশিমুল, অরুয়াইল, পানিশ্বর, চুন্টা গ্রামে বিভিন্ন মাঠে চলছে বোরো ধানের চারা রোপণের কাজ। কৃষকরা বলছেন, এক ফসল বিক্রি করে অন্য ফসল আবাদ করা হয়। এবারো তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। ধান আবাদের উপকরণের দাম বেশি। তারপরও কৃষকরা বেঁচে থাকার তাগিদে ঘরের ভাত খাওয়ার জন্য হলেও আবাদ করছেন এসব ধানি জমি। সরাইল সবচেয়ে বিপাকে আছেন জমি বর্গা নেওয়া কৃষকরা। আবাদ যাই হোক আর ধান উৎপাদন যাই হোক নির্দিষ্ট ধান মালিককে দিতে হবে। নইলে জমি বর্গাচাষিদের হাত থেকে হাত ছাড়া হবে। বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ও কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে এমন সব তথ্য। কৃষকরা জানান, উপকরণের মূল্য বেশি থাকার কারণে শ্রমিকের মজুরিও বেশি। দৈনিক ৩৫০-৪০০ টাকার উপরে মজুরি দিতে হচ্ছে। ইউরিয়া সার বস্তা প্রতি ৮০০ টাকা, এমওপি ৭৫০ টাকা, ডিএপি ৭৮০ টাকা। এরপরও আরো অন্যান্য খরচ আছে। কৃষকরা জানান, যদি এই সারগুলোর দাম কম থাকলে উৎপাদন খরচও কমতো। উপজেলার গলানিয়া গ্রামের কৃষক আনোয়াররুল হক বলেন, জমি প্রস্তুত। চারা রোপণ করবো। যদি প্রাকৃতিক কোনো দূর্যোগ না হয় ভালোমতে ফসলটি ঘরে তুলতে পারি, তাহলে পরিবার পরিজন নিয়ে খেয়ে পরে বাঁচতে পারবো।

সরাইল উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কৃষি কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোসাম্মৎ মর্জিনা আক্তার বলেন, কৃষকদের ভালো ফলনের জন্য কৃষি কর্মকর্তরা বিভিন্ন ধরণের পরামর্শ ও সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। চলতি মৌসুমে বোরো ধানের আবাদের জন্য ৯টি ইউনিয়নে প্রায় ১৪ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হবে। এর মধ্যে হাইব্রিড, উফশী ও স্থানীয় জাতের ধান রয়েছে। এ বছর আবাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। ধান রোপণসহ অন্যান্য সমস্যায় কৃষকদের সার্বিক সহযোগিতা ও পরামর্শ প্রদানের জন্য পাশে দাঁড়াতে প্রস্তুত রয়েছে কৃষি বিভাগ।

দেশবিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সব সংবাদ পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *