কাপাসিয়ায় খুনির পাল্টা মামলার প্রতিবাদে ভুক্তভোগীদের সংবাদ সম্মেলন

সারাবাংলা

জাকির হোসেন কামাল কাপাসিয়া (গাজীপুর):
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার প্রধান আসামী জামিনে মুক্তি পেয়ে প্রকৃত ঘটনা ধামাচাপা দিতে নিজেই বাদী হয়ে অন্যের নামে হত্যা মামলা দায়েরের অভিযোগ উঠেছে। প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে ‘খুনির’ ষড়যন্ত্র ও ন্যাক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদে ২৯ ডিসেম্বর মঙ্গলবার সকালে কাপাসিয়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগীরা। সংবাদ সম্মেলনে হাজির ছিলেন নিহত ইদ্রিসের মা মোরশেদা, মামা রফিক, স্ত্রী সোমাইয়া, আব্দুর রব ভূঁইয়া রবিন প্রমূখ।
ভুক্তভোগীদের পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আব্দুর রব ভূঁইয়া রবিন। লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, গত ২৪ আগস্ট রাতে কাপাসিয়া উপজেলার টোক ইউনিয়নের বাইপাস রাস্তার মোড়ে স্থানীয় শ্রমিকলীগ নেতা ইদ্রিস আলী মর্মান্তিকভাবে খুন হয়। ইদ্রিসের মা তার সন্তান খুনের ঘটনায় কাপাসিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে [মামলা নম্বর ২৮(৮)২০]। এতে সৈয়দ জহির আহসান জাহিদ ওই মামলার এক নম্বর আসামি হিসাবে গ্রেপ্তার হয়। পরে তাকে পুলিশ রিমান্ডে নেয়া হয়। পরবর্তীতে সে জামিনে মুক্তি পেয়ে আমার পরিবারের সদস্যদের হেনস্থা করতে আমার ভাগ্নে জাহিদ একটি কুচক্রী মহলের ইন্ধনে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। সে এলাকায় এসে ত্রাস সৃষ্টির চেষ্টা করছে।
সংবাদ সম্মেলনে নিহত ইদ্রিসের মা মোরশেদা বলেন, ইদ্রিস খুনের আগে ২২ আগস্ট রাতে আসামি জাহিদ ও তার সঙ্গে থাকা অজ্ঞাতনামা দুইজন লোক সহ টোক এলাকার বাইপাস মোড়ে তাকে প্রকাশ্যে অস্ত্র উচিয়ে গুলি করার চেষ্টা করে। এ সময় ইদ্রিসের ডাকচিৎকারে আমার ভাই রফিক মিয়াসহ আশপাশের লোকজন এসে ছেলেকে রক্ষা করে। পরে গত ২৪ আগস্ট রাতে আমার ছেলে টোক নয়ন বাজারে গিয়ে আর ফিরে আসেনি। সকালে অভিযুক্ত জাহিদের পুকুর পাড়ের আস্তানার পাশে ইদ্রিসের মাথায় ও গলায় কাটা রক্তাক্ত লাশ পাওয়া যায়।
মোরশেদা ক্ষুব্দকন্ঠে বলেন, ‘‘আমার ছেলের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচারের জন্য কাপাসিয়া থানায় মামলা দায়ের করি। কিন্ত মামলার কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটানো ও ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য মামলার প্রধান আসামী খুনি জাহিদ নিজেই বাদী হয়ে আমিসহ তার মামা রবিনের নামে গাজীপুর আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করে। এ যেন, ‘মা’র চেয়ে ‘মাসির’ দরদ বেশী’ এবং ঠাকুর ঘরে কে রে, আমি কলা খাইনা’র ঘটনার মতো।’’
রবিন ভুইয়া আরো জানান, সম্প্রতি সৈয়দ জহির আহসান জাহিদ হাইকোর্ট থেকে জামিনে মুক্তি লাভ করে নিজেই বাদী হয়ে ওই হত্যাকান্ডের বিচার দাবী করে আমাকে ফাঁসাতে আসামী করে গাজীপুর আদালতে মামলা দায়ের করে। কোনরকম আলাপ আলোচনা ও ভাগ বাটোয়ারা ছাড়া আমার ওই ভাগ্নে সৈয়দ জহির আহসান জাহিদ আমাদের একটি জমির মুল অংশ বিক্রি করে দেয়। অথচ জাহিদের দায়ের করা একটি বন্টনের মামলা আদালতে চলমান রয়েছে। এছাড়া জাহিদ ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আরো ৩/৪টি মামলা দায়ের করেন। ইতিমধ্যে একটি মামলা আদালত খারিজ করে দেয়। তিনি প্রকৃত ও সত্য ঘটনা উদঘাটনের জন্য উপস্থিত সাংবাদিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিকট জোরালো দাবি জানান।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *