কারাগারে কাজী

সারাবাংলা

সহকারী দিয়েই নিকাহ ও তালাক রেজিষ্ট্রি চলছে
সাইফুল ইসলাম, মানিকগঞ্জ থেকে :
বাল্যবিয়ের দায়ে মানিকগঞ্জ পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের নিকাহ রেজিষ্ট্রার কাজী মো. মনিরুজ্জামান জেলে থাকলেও থেমে নেই তার সহযোগীদের বাল্যবিয়ে ও নিকাহ রেজিষ্ট্রি কার্যক্রম। নিকাহ রেজিষ্ট্রি আইনে কাজীর সহকারী নিয়োগের কোন বিধান না থাকলেও কাজী মো. মনিরুজ্জামান জেলহাজতে যাওয়ার পর থেকে তার ছোট ভাই মো. ওলীউজ্জামান ও সহকারী মো. জাকির হোসেন নিকাহ রেজিষ্ট্রি আইন অমান্য করে মানিকগঞ্জ জজকোর্ট এলাকায় বিভিন্ন আইনজীবীর চেম্বারে নিকাহ রেজিষ্টার বহি নিয়ে নিকাহ ও তালাক রেজিষ্ট্রি কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।
এর আগে গত ৮ অক্টোবর মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বধুবরণ কমিউনিটি সেন্টারে বাল্যবিয়ে পড়ানোর সময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি), এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আলী রাজিব মাহমুদ মিঠুন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে কাজী মো. মনিরুজ্জামানকে ১ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেন।
বেশ কয়েকজন আইনজীবী ও আইনজীবী সহকারীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কাজী মনিরুজ্জামান কারাগারে যাওয়ার পর থেকেই তার ছোট ভাই ও একজন সহকারী যোগসাজশে অবৈধভাবে আইনজীবীদের চেম্বারে বিয়ে ও তালাক রেজিষ্ট্রি করে আসছে। ভবিষ্যতে এসব বিয়ে ও তালাকের কোন সার্টিফাইড কপি পাওয়া যাবে কি না সে বিষয়েও সন্দিহান তারা। এ প্রসঙ্গে কাজী মনিরুজ্জামানের ছোট ভাই মো. ওলীউজ্জামান বলেন, আমি আমার ব্যক্তিগত মামলা নিয়ে কোর্টে ঘুরি। আমি কোন বিয়ে করাই না। সহকারী জাকিরের কথা জিজ্ঞাসা করতেই বলেন, জাকির এলএলবি পড়তেছে। তাই সে কোর্টে ঘোরে।
এ বিষয়ে জেলা রেজিষ্ট্রার মো. মোশতাক আহমেদ বলেন, নিকাহ রেজিষ্ট্রি আইনে কাজীর সহকারী নিয়োগের কোন বিধান নেই। কাজী মনিরুজ্জামানের সহকারীরা যদি নিকাহ রেজিষ্ট্রি করে, তাহলে সেটা সম্পূর্ণ আইন বহির্ভূত। তাদের কাছে কেউ রেজিষ্ট্রি করলে সেই বৈবাহিক সম্পর্ক প্রমাণে ঝুঁকির সম্ভাবনা রয়েছে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *