কালকিনিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায়

Uncategorized

নাসিরউদ্দিন ফকির, কালকিনি থেকে
মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার শহীদ স্মৃতি মহাবিদ্যালয় ও ডি.কে আইডিয়াল সৈয়দ আতাহার আলী একাডেমী এন্ড কলেজে সরকারি নিয়ম নীতিকে তোয়াক্কা না করে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। আর এতে করে বিপাকে পড়ছেন দরীদ্র ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো।

এ অতিরিক্ত টাকা আদায়ের কারণে তাদের ছেলে-মেয়েকে কলেজে ভর্তি করাতে হিমশিম খাচ্ছে। অন্যদিকে করোনায় বিপর্যস্ত মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় ছেলে-মেয়েদের কলেজে ভর্তি করা নিয়ে পড়েছেন মহাসংকটে। অনেকে টাকার অভাবে ভর্তি হতে পারছে না। তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিঘœ হয়ে পড়েছেন গরীব অভিভাবকরা। গতকাল মঙ্গলবার সকালে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিভাবকদের অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অনলাইনে আবেদনের ভিত্তিতে ফল প্রকাশের পর ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা মনোনীত কলেজে ভর্তি হতে পারবে। সে অনুযায়ী ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয়। নীতিমালা অনুযায়ী একজন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ভর্তি ফি বাবদ মফস্বলে সর্বসাকুল্যে এক হাজার টাকা নেওয়ার বিধান রয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষের।

অথচ উপজেলার শশিকর শহীদ স্মৃতি মহাবিদ্যালয় কলেজের অধ্যক্ষ দূর্লভানন্দ বাড়ৈ সরকারি নীতিমালা না মেনে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে (এক হাজার টাকার স্থলে) ভর্তি ফি-১ হাজার, উন্নয়ন ফি ১ হাজার ৫ শত ও রেডক্রিসেন্ট ফি বাবদ ২৫ টাকাসহ মোট ২ হাজার ৫ শত ২৫ টাকা আদায় করছেন। এ ছাড়া একেইভাবে উপজেলার ডাসার ডি. কে আইডিয়াল সৈয়দ আতাহার আলী একাডেমি এন্ড কলেজ কর্তৃপক্ষ ২ হাজার ৫ শত টাকা করে আদায় করছেন।

এতে বিপাকে পড়েছেন দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষ। এ অতিরিক্ত টাকা আদায়ের কারণে তাদের ছেলে-মেয়েকে কলেজে ভর্তি করাতে হিমশিম খাচ্ছে। এই এলাকাটি এক দিকে দারিদ্রপ্রবণ, অন্যদিকে করোনায় বিপর্যস্ত মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় ছেলে-মেয়েদের কলেজে ভর্তি করা নিয়ে পড়েছেন মহাসংকটে। অনেকে টাকার অভাবে ভর্তি হতে পারছে না।

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের নীতিমালা উপেক্ষা করে শশীকরের শহীদ স্মৃতি কলেজের অধ্যক্ষ দূর্লভানন্দ বাড়ৈ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ফি আদায় করছেন। এবং কি তিনি কলেজের আশপাশের দেওয়ালে ভর্তি সংক্রান্ত নোটিস টানিয়ে দিয়েছেন। ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থী পার্থ অধিকারী, শোভন হালদার, সৌরভ ও মিথুন মোল্লাসহ বেশ কয়েকজন বলেন, আমাদের কাছ থেকে ২৫ শত টাকা নিয়েছে কলেজের অধ্যক্ষ।

শিক্ষার্থী অভিভাবক টিপু, সুশিলসহ বেশ কয়েকজন বলেন, নীতিমালা অনুযায়ী একজন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ভর্তি ফি বাবদ মফস্বলে সর্বসাকুল্যে এক হাজার টাকা নেওয়ার বিধান রয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষের অথছ সেখানে ওই দুই কলেজে ২৫ শত টাকা নিচ্ছে তাই আমরা আমাদের ছেলেদের ভর্তি করতে পারিনি। শহীদ স্মৃতি মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ দূর্লভানন্দ বাড়ৈ বলেন, আমি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ভর্তি ফি ১ হাজার, উন্নয়ন ফি ১ হাজার ৫ শত ও রেডক্রিসেন্ট ফি বাবদ ২৫ টাকাসহ মোট ২ হাজার ৫ শত ২৫ টাকা আদায় করেছি। তবে “আমি সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করেই ফি আদায় করছি।

ডি.কে আইডিয়াল সৈয়দ আতাহার আলী একাডেমী এন্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. একরাম হোসেন বলেন, কলেজের ম্যানেজিং কমিটির নির্দেশক্রমে আমি ২৫ শত টাকা নিচ্ছি। এ ব্যাপারে শশীকর শহীদ স্মৃতি মহাবিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন বলেন, নীতিমালায় উন্নয় ফি নেওয়ার কথা উল্লেখ না থাকলে আমরা শিক্ষার্থীদের টাকা ফেরত দিয়ে দিব।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *