কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্র হাসপাতালেই আহত হচ্ছে রোগীরা

সারাবাংলা

নাসিরউদ্দিন ফকির লিটন, কালকিনি থেকে:
পাঁচ লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতের গুরু দায়িত্ব ৫০ শয্যা বিশিষ্ট মাদারীপুর জেলার কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের। কিন্তু সংস্কার অভাবে এই হাসপাতালের ঝুঁকিপূর্র্ণ ভবনেই চলছে সেবা দান। এ ছাড়া বর্তমানে হাসাপাতালে বিশুদ্ধ খাবার জলের তীব্র সংকট রয়েছে। রোগী ও তার স্বজনদের নিরুপায় হয়ে বিভিন্ন বাড়ি থেকে জল এনে পান করতে হচ্ছে। এতে করে প্রতিনিয়ত ভোগান্তির মুখোমুখি হচ্ছেন তারা। গত বৃহস্পতিবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, কালকিনি হাসপাতালে প্রতিদিন প্রায় দুই শতাধিক রোগী ভর্তি থাকেন। আর প্রায় তিন শতাধিক রোগী আউটডোরে চিকিৎসা নেন। হাসপাতালের ভবনের ছাদের বিভিন্ন স্থানের পলেস্তারা ফেটে মধ্যে মধ্যেই ভেঙে পড়ছে। অনেক সময় হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের গায়ে পড়ে আহত হচ্ছে। ভবন অনেক পুরানো হওয়ায় ছাদের পলেস্তারা খসে নিচে পড়ছে। বর্তমানে বড়-বড় আকারে ফাটল ধরে পলেস্তারা ধসে পড়ে যে কোন মুহূর্তে ঘটতে পারে বড় কোনো দুর্ঘটনা। হাসপাতালের ভবনের ছাদে প্রতিনিয়ত নতুন করে বড় ফাটল দেখা দেওয়ায় অনেক রোগীরা হাসাপাতালে মৃত্যু ভয়ে ভর্তি না হয়ে বিভিন্ন ক্লিনিকে সেবা নিচ্ছে। অপরদিকে অনিচ্ছা সত্বেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নিরুপায় হয়ে রোগীদের চিকিৎসা নিতে হচ্ছে হাসপাতালের চিকিৎসকদের। এতে করে চিকিৎসাসেবা চরম আকারে ব্যাহত হচ্ছে। হাসপাতালে ৪টি গভীর নলকূপ থাকলে একটি রয়েছে নামে মাত্র সচল বাকি তিনটিই মরিচা ধরে দীর্ঘদিন ধরে অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে। হাসপাতাল ঘুরে আরও দেখা যায়, একটি মোটর দিয়ে জল উঠানো হতো, তাও আবার মাসের পর মাস নষ্ট হয়ে পরে থাকে। সব মিলিয়ে নানা সমস্যায় জর্জরিত হয়ে পড়ে আছে এই হাসপাতাল। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যারা আসেন বেশিরভাগ রোগীর স্বজনদের আশপাশের কোনো বাড়ি অথবা বিভিন্ন দোকান থেকে বোতলজাত জল কিনে খেতে হচ্ছে। তবে যাদের সামর্থ কম, তাদের জন্য এই চাপ দুঃসহ হয়ে উঠেছে। হাসপাতালে কর্মরত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মচারী বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া রোগী ও স্বজনদের বিশুদ্ধ খাবার জলেুর চাহিদা মেটাতে হাসপাতালে ব্যবস্থ্যা আছে চারটি নলকূপের। এর মধ্যে তিনটি পুরোপুরি বিকল। তবে আরেকটির ভালো থাকলেও বেশি ব্যবহারের ফলে ঘন ঘন নষ্ট হয়ে যায়। অপরদিকে ছাদের পলেস্তারা ভেঙে পড়ছে। খুব ঝুঁকিপূর্র্ণ অবস্থায় হাসপাতাল ভবন। রোগীরা প্রতিদিন এই কষ্টের কথা ওয়ার্ডে বলাবলি করে। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা দেলোয়ার মিয়া ও নাজমুলসহ বেশ কয়েকজন বলেন, দুই দিন আগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। রাতে খাবার জল দরকার। কিন্তু হাসপাতালের ভেতরের নলকূপ ও মোটর নষ্ট থাকায় জল সংগ্রহ করতে পারিনি। আমি গরীব মানুষ পকেটে টাকাও নাই। তাই ভোরবেলায় পাশের একটি বাড়ি থেকে জগ ভরে জল এনে খেয়েছি। অন্যদিকে মধ্যে মধ্যে হাসপাতালের ভবন ভেঙে পলেস্তা আমাদের গায়ের উপর পড়ছে। এতে আহত হচ্ছে অনেকেই। তারপরও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. ইউনুস আলী বলেন, হাসপাতালে খাবার জল জন্য রোগীর স্বজনদের বিভিন্ন স্থানে দৌড়ঝাঁপ করতে হচ্ছে। এ ছাড়া পুরো হাসপাতালের ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল ধরেছে। জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার করা দরকার। এ বিষয় জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবদুস সোবহান বলেন, গভীর নলকূপের বিষয় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। এ ছাড়া হাসপাতালের ভবনের ছাদের পলেস্তারা ধসে পড়ছে। আমরা বাধ্য হয়েই এই ঝুঁকিপূর্র্ণ ভবনেই দিচ্ছি স্বাস্থ্যসেবা। ভবন সংস্কার অথবা নতুন ভবন করার জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *