https://www.dhakaprotidin.com/wp-content/uploads/2021/01/Manikganj-0-1.jpg

কালীগঙ্গায় অবৈধ ড্রেজার, হুমকিতে জনপদ

সারাবাংলা

সাইফুল ইসলাম, মানিকগঞ্জ থেকে : সেতু-পুল, সড়ক-মহাসড়ক ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনা অথবা আবাসিক এলাকা থেকে সর্বনিম্ন ১ কিলোমিটারের মধ্যে বালু বা মাটি উত্তোলনে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও মানিকগঞ্জের কালীগঙ্গা নদীতে অবৈধভাবে ড্রেজার বসিয়ে আশপাশের বসতবাড়ি, বিভিন্ন স্থাপনা ধ্বংস করে বালু উত্তোলন করে চলছে রমরমা বালু ব্যবসা। এতে করে ঝুঁকির মুখে পড়েছে নদীর পাড়ের বসত বাড়ি ও বিভিন্ন স্থাপনা। জানা যায়, সম্প্রতি অবৈধ বালু উত্তোলন ও বিপনন রোধে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটদেরকে নির্দেশ দেন মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ।

এলাকাবাসী জানায়, ঘিওর উপজেলার বানিয়াজুরী ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের দুই শতাধিক বাড়িঘর, কয়েকশ বিঘা জমি, এক কিলোমিটার রাস্তা, একটি সেতু ও মসজিদ ইতোমধ্যে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে নদীপাড়ের অসংখ্য বাড়িঘর সহ বিভিন্ন ধরনের স্থাপনা। স্পর্শকাতর ও বিপজ্জনক হওয়া সত্তে¡ও সরকার দলীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি অবৈধভাবে মাটি ও বালু উত্তোলন করে ড্রাম ট্রাকে যোগে বিক্রি করছে। এর আগে কালীগঙ্গা নদীতে ড্রেজার বসিয়ে অবৈধভাবে বালু-মাটি উত্তোলন বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভসহ স্থানীয় প্রশাসনকে লিখিত অভিযোগ করেন এলাকাবাসী, এরপরও বন্ধ হয়নি অবৈধ ড্রেজার। সরেজমিন দেখা যায়, কালীগঙ্গা নদীর উত্তর তরা এলাকায় বেশ কয়েকটি ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। উত্তোলন করা এসব বালু পাইপের মাধ্যমে আশপাশের এলাকার বসতভিটা, ছোট ছোট ডোবা নালা ভরাট করা হচ্ছে। অপরদিকে বালু উত্তোলন করে নদীর পাশেই স্তুপ করে রেখে সেগুলো ড্রাম টাক যোগে সড়ক মহাসড়কের ক্ষতি করে বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।

উত্তর তরা গ্রামের এক গৃহবধূ নাম প্রকাশ না শর্তে বলেন, নদীতে ড্রেজার বসিয়ে অবৈধভাবে বালু ও মাটি উত্তোলনের কারণে আমাদের বসতভিটা ভেঙে যাওয়ার উপক্রম। আমরা প্রতিবাদ করতে গেলেই উল্টো আমাদের হুমকি ধামকি দিয়ে ভয়ভীতি দেখায়। আবদুল আলিম নামের এক ব্যক্তি বলেন, ড্রেজার দিয়ে নদী থেকে বালু-মাটি উত্তোলনের কারণে কিছুদিন আগে আমার বাড়ি নদীতে চলে গেছে। আমি এখন যেখানে বাড়ি করেছি, সেটিও ভাঙনের মুখে পড়েছে। আশপাশের এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ কালীগঙ্গা নদীতে অবৈধ ড্রেজার বসিয়ে মাটি ও বালু উত্তোলন বন্ধ এবং অবৈধ ড্রেজার ব্যবসায়ীদের দৃৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। এ বিষয়ে ঘিওর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আইরিন আক্তার বলেন, এসব অবৈধ ড্রেজারের বিরুদ্ধে অতি দ্রুত ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *