কিশোরগঞ্জে আইন ভেঙে বন্য প্রাণী ও পাখি বিক্রি

সারাবাংলা

রাজিবুল হক সিদ্দিকী, কিশোরগঞ্জ থেকে:
কয়েক বছর আগেও হাওর অধ্যুষিত কিশোরগঞ্জ জেলায় নানা রকম পাখি দেখা যেত। হঠাৎ করেই পাখির আগের মত পাখির দেখা মিলে না। দিন দিন কমছে পাখির সংখ্যা। পাখিই একমাত্র জীব, যা সরাসরি মানুষের উপকার করে থাকে। পাখির মিষ্টি মিষ্টি ডাক শুনতে না পেলে একটি ভোর কখনো স্নিগ্ধ হয় না। মানবমনে পাখির ডাক ও সৌন্দর্য এক স্বর্গীয় অনুভূতির সৃষ্টি করে। পাখির সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে যুগে যুগে কবি, সাহিত্যিকের কলমে কত সুন্দর সুন্দর কবিতা, গল্পের জন্ম হয়েছে, যেগুলো পড়ে মানুষ কতই না আনন্দে মেতে উঠেছে। অথচ সেই পাখির খাদ্য নিয়ে আমরা কখনো মানবিক চিন্তাই করি না, উল্টো নির্বিচারে চলে পাখি নিধন।
নিষিদ্ধ হলেও অবাদে বিক্রয় কেন্দ্রে দেশীয় বন্য প্রাণী বিক্রয় হচ্ছে। হাত বদল হওয়া এসব প্রাণীর মধ্যে বেশিরভাগই পাখি। রয়েছে বিভিন্ন জাতের পাখি অন্য প্রাণীও। এদিকে পাখি বিক্রি ও সংরক্ষণ নিষিদ্ধ বন্য প্রাণী সংরক্ষণ আইন ২০১২-এর ১১ ধারা অনুযায়ী লাইসেন্স অথবা অনুমোদন ছাড়া কারও কাছে বন্য প্রাণী, বন্য প্রাণীর কোনো অংশ, মাংস, ট্রফি অথবা বন্য প্রাণী থেকে উৎপন্ন দ্রব্য বা বনজ দ্রব্য পাওয়া গেলে তা অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।
দোষী ব্যক্তিকে এক বছর পর্যন্ত কারাদন্ড অথবা সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দন্ডের বিধান রয়েছে। একই ব্যক্তি একই অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটালে সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত করাদন্ড অথবা সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবে।
আইন এবং আইন প্রয়োগের মধ্যে চলছে দেশীয় বন্য প্রাণী ও পাখি কেনাবেচা। কিশোরগঞ্জে শহরে পৌর মার্কেট, মোরগ মহল এলাকায় বিভিন্ন দোকানে বিক্রি হচ্ছে টিয়া, ময়না, শালিক, বাজরিকা, কাকাতুয়া, ঘুঘু, লাভ বার্ডসহ বিভিন্ন বন্য প্রাণী। দেশিয় ও বিদেশি পাখি বিক্রয়ের হিড়িক চলছে দোকানগুলোতে। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শামীম আলম বলেন, দেশিয় পাখি ও প্রাণী বিক্রি করা অপরাধ। বাজারে ও দোকানে বন্যপ্রাণী ও পাখি বিক্রয়ের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। বিষয়টি খোঁজ খবর নিয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের মাধ্যমে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *