কিশোরগঞ্জে কোরবানির জন্য প্রস্তুত ৮১ হাজার পশু

সারাবাংলা

রাজিবুল হক সিদ্দিকী, কিশোরগঞ্জ থেকে:
আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে জেলার ১৩টি উপজেলায় এ বছর প্রায় সাড়ে ৮১ হাজার পশু কোরবানির জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। স্থানীয়ভাবে খামারিরা গরু মোটাতাজাকরণ প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন স্থানে এসব খামার প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে খড়, ভূষি, কাঁচা ঘাস, খৈল খাওয়ানোর মাধ্যমে দেশীয় প্রযুক্তিতে পশু মোটাতাজা করছেন। এতে কোন প্রকার স্টেরয়েড হরমোন ব্যবহার করা হয়নি। ইতিমধ্যেই খামারিরা কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে লাভের আশায় লক্ষ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করেছেন। কোরবানির ঈদ ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গেই তারা এ সমস্ত পশু বিক্রি যোগ্য হওয়ায় করোনাকালীন সময় অনলাইনের মাধ্যমে প্রচার চালাচ্ছেন। জেলার ডেইরী শিল্প মূলতঃ ক্ষুদ্র কৃষিভিত্তিক শিল্প। করোনাকালীন সময়ে স্থানীয় বাজারে তাদের পশু বিক্রি নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. নজরুল ইসলাম জানান, কিশোরগঞ্জ জেলায় এ বছর ১৮ হাজার ২২১ জন খামারির মাধ্যমে ৪৭ হাজার ৫০০ ষাড়, ৪ হাজার ১০৭টি বলদ, ৯ হাজার ৩৫১টি গাভী, ১ হাজার ২৭৯টি মহিষ, ১৬ হাজার ৪৬টি ছাগল, দুই হাজার ৮৪০টি ভেড়া ও অন্যান্য ১৬২টি পশু কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। রুগ্ন পশু যাতে বিক্রি করতে না পারে তার জন্য কোরবানির হাটে ৪৭টি ভেটেনারি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। চামড়া ছাড়ানো ও সংরক্ষণের জন্য ২৩৮ জন কসাই ও ২৫০ জন মৌসুমী কসাইদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। এ বছর ভাটির রাজা নামক ষাড়ের ওজন এক হাজার কেজি এবং মালিক তাড়াইল উপজেলার কাজলা গ্রামের মতিউর রহমান দাম হাঁকছেন ১২ লাখ টাকা।
বাংলাদেশ ডেইরী ফার্মারস এসোসিয়েশন কিশোরগঞ্জ জেলার শাখার সভাপতি আজমল খান বলেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে ক্ষুদ্র খামারিরা পশু খাদ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। তার উপর উন্মুক্ত স্থানে হাট না বসায় পশু বিক্রিতে অনিশ্চয়তা রয়েছে। করিমগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতপুর ইউনিয়নের রৌহা গ্রামের জে.সি এগ্রো ফার্মের মালিক এরশাদ উদ্দিন জানান, এ বছর তার ফার্মে ৩ কোটি টাকা বিক্রির উদ্দেশ্যে ২৫০টি পশু রয়েছে। ইতিমধ্যেই অনলাইনে ৬০টি ষাড় বিক্রি করা হয়েছে এবং প্রতিদিনই গ্রাহক তার ফার্মে ষাড় দেখতে আসছে। এলাকার স্থানীয় যুবকেরা তার ফার্ম দেখে উৎসাহিত হচ্ছেন এবং আগামীতে তারা ফার্ম করবেন।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *