কিশোরগঞ্জে দুর্গা মুর্তি তৈরিতে ব্যস্ত কারিগর

সারাদেশে

রাজিবুল হক সিদ্দিকী, কিশোরগঞ্জ থেকে : আর মাত্র ৫ দিন পরই শুরু হবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গোৎসব। মণ্ডপে মণ্ডপে উঠবে দেবী দুর্গার প্রতিমা। তাই এখন প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত কিশোরগঞ্জে প্রতিমা তৈরির কারিগররা। সময় মতো প্রতিমা সরবরাহ করতে দিনরাত এক করে কাজ করে চলেছেন তারা। কিশোরগঞ্জে এ বছর মোট ৩৬৭টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। জেলার ১৩টি উপজেলায় ০৮টি ব্যক্তিগতসহ ৩৫৯টি পূজা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এর মধ্যে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলায় ৫৩টি, করিমগঞ্জ উপজেলায় ১০টি, পাকুন্দিয়া উপজেলায় ১৩টি, হোসেনপুর উপজেলায় ১৬টি, কটিয়াদীতে উপজেলায় ৩২টি, বাজিতপুর উপজেলায় ৬০টি, কুলিয়ারচর উপজেলায় ৩২টি, ভৈরব উপজেলায় ২১টি, ইটনা উপজেলায় ৩৫টি, মিঠামইন উপজেলায় ১৭টি, অষ্টগ্রাম উপজেলায় ৫০টি, নিকলী উপজেলায় ১৩টি, তাড়াইল উপজেলায় ১৫টি পূজা মণ্ডবে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। একেকজন কারিগরকে তিন থেকে পাঁচটি প্রতিমা তৈরির কাজ করতে হচ্ছে।
কিশোরগঞ্জের কালীবাড়ীতে প্রতিমা তৈরির কাজ করতে দেখা গেছে, দিলীপ পাল ও তার সহকারী শিল্পীরা প্রতিমা তৈরির কাজ করছেন। প্রতিমা শিল্পীরা জানিয়েছেন, একটি প্রতিমা তৈরিতে শিল্পীদের ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়। প্রতিমা তৈরির জন্য লাগে মাটি, খড়, কাঠ, বাঁশ, দঁড়ি, পেরেক, সুতা, ধানের তুষ ও কয়েক ধরণের রঙ কিনতে তাদের এই টাকা খরচ হয়। একেকটি প্রতিমা ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। শিল্পীরা জানান, একটি প্রতিমা তৈরি করতে সময় লাগে ১০ থেকে ১৫ দিন। প্রতিমা তৈরিতে কয়েকজন শিল্পী একসঙ্গে কাজ করেন। একেকজন শিল্পী প্রতিমার এক এক কাজে হাত দেন। সবার সম্মিলিত কাজে পূর্ণতা পায় একেকটি প্রতিমা। প্রতিমা বিক্রির পর যে টাকা লাভ হয়, তা তারা সবাই মিলেই ভাগ করে নেন।
কিশোরগঞ্জ জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অ্যাড. ভূপেন্দ্র ভৌমিক দোলান জানান, হিন্দু সম্প্রদায়ের সব থেকে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপিত হবে।
কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী জানান, দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে সব পূজা মণ্ডপে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে পূজা উদযাপনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মণ্ডপগুলোতে আনসার, ভিডিপি, পুলিশ ও র‌্যাবের পাশাপাশি সাদা পোশাকে থাকবেন গোয়েন্দারা। মণ্ডপ এলাকায় যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে। কেউ যেন কোনো প্রকার সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করতে না পারে সে জন্য সর্বদা তৎপর থাকবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। জেলা পুলিশ সুপার মো. মাশরুকুর রহমান খালেদ জানান, শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদযাপনের লক্ষ্যে প্রত্যেকটি মণ্ডপ এলাকায় নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেওয়া হবে। আয়োজকদের পাশাপাশি পুলিশের বাড়তি নজরদারী থাকবে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *