কিশোরগঞ্জে সুবাস ছড়াচ্ছে মুকুল

সারাবাংলা

রাজিবুল হক সিদ্দিকী, কিশোরগঞ্জ থেকে:
শীতের মৌসুম শেষে এখন চলছে মাঘ পেরিয়ে ফাল্গুন মাস। অথচ এরই মধ্যে আম গাছে আসতে শুরু করেছে আমের মুকুল। তাই কোথাও কোথাও বাতাসে বইছে মৌ মৌ সুবাস। বিভিন্ন উপজেলা ঘুরে দেখা গেছে, বেশ কিছু আম গাছে উঁকি দিচ্ছে মুকুল। সোনারাঙা সেই মুকুলের পরিমাণ কম হলেও এর সৌরভ ছড়িয়ে পড়ছে বাতাসে। কয়েক দিনের মধ্যেই প্রতিটি জাতের আম গাছগুলোতে পুরোদমে আসতে শুরু করবে আমের মুকুল, জেলার সবকটি উপজেলার প্রতিটি গ্রাম যেন আমের রাজ্যে পরিণত হতে চলেছে যেদিকে তাকাই গাছে গাছে এখন শুধু দৃশ্যমান সোনালী মুকুলের আভা। মুকুলের ভারে নুয়ে পড়ার উপক্রম প্রতিটি গাছ। মৌমাছিরা আসতে শুরু করেছে মুধু আহরনে। আবহমান বাংলার সৌন্দর্যের রাজা বলে পরিচিত গ্রীষ্মকাল। ফাগুনের ছোয়ায় পলাশ শিমুলের বনে লেগেছে আগুন রাঙ্গা ফুলের মেলা। রঙ্গিন বনফুলে সমারোহ প্রকৃতি যেমন সেজেছে বর্ণিল সাজে। আমের মুকুলে ভরপুর আর ঘ্রানে উপজেলাগুলোর সর্বত্র জানান দিচ্ছে বসস্তের ছোঁয়া। শোভা ছড়াচ্ছে নিজস্ব মহিমায়। মুকুলে মুকুলে ভরে গেছে বাগানসহ প্রায় ৬০ শতাংশ গাছেই।
সরজমিনে গিয়ে কটিয়াদী উপজেলার বোয়ালিয়া তেলিচারা গ্রামের আম চাষী সফল কৃষক আঃ রহমানের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পুরোপুরি ভাবে এখনো সব গাছে গাছে মুকুল আসেনি। কয়েকদিনের মধ্যে সকল গাছেই মুকুল আসবে। আমি এ আম বাগান থেকে আশা করি অনেক টাকা আয় করতে পারব যদি সঠিকভাবে পরিচর্যা করতে পারি। তিনি আম গাছের প্রাথমিক পর্যায়ের পরিচর্যা শুরু করে দিয়েছেন। মুকুলের মাথাগুলোকে পোকা-মাকড়ের আক্রমণ থেকে রক্ষার জন্য ওষুধ স্প্রে করা হচ্ছে। প্রায় গাছেই আমের মুকুল আসা শুরু হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করছেন এবার আমের ফলন ভালো হবে।
বাগান চাষে নতুন উৎসাহী মোঃ সুজন মিয়া জানান, আমরা সফল কৃষক আঃ রহমানের কাছ থেকে সফলতা দেখে আম চাষে উৎসায়ী হয়ে নিজ উদ্যোগে নতুন বাগান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিধপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ সাইফুল আলম জানান, নির্ধারিত সময়ের প্রায় একমাস আগেই আবহাওয়া ও ভাল জাতের কারণেই মূলত আমের মুকুল আসতে শুরু করেছে। তবে চলতি মাসের শেষের দিকে প্রতিটি গাছেই পুরোপুরিভাবে মুকুল ফুটতে শুরু করবে বলে আশা করছেন। কটিয়াদী উপজেলা আবহাওয়া ও মাটি আম চাষের জন্য উপযোগী।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *