কিশোরগঞ্জ ও কুলিয়ারচর পৌরসভা নির্বাচন

কিশোরগঞ্জ ও কুলিয়ারচর পৌরসভা নির্বাচন

সারাবাংলা

রাজিবুল হক সিদ্দিকী, কিশোরগঞ্জ থেকে : দ্বিতীয় ধাপে কিশোরগঞ্জ ও কুলিয়ারচর পৌরসভা নির্বাচনে প্রধান দুই রাজনৈতিক দলসহ প্রার্থীরা এখন মাঠে। গভীর রাত অবধি ভোট প্রার্থনায় ব্যস্ত। এতে করে দুই পৌরবাসী মাইকের প্রচার ও ব্যক্তিগত সাক্ষাতের কারণে অতিষ্ঠ। পৌরসভায় মেয়র পদে ৫ জন, সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলরের ৩টি পদে ২১ জন ও কাউন্সিলর ৯টি পদে ৬১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতাতা করছেন। এর মধ্যে মেয়র পদে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মো. ইসরাইল মিঞা (ধানের শীষ), আওয়ামী লীগের মো. পারভেজ মিয়া (নৌকা), আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী স্বতন্ত্র হিসেবে মো. শফিকুল গনি ঢালী (মোবাইল ফোন), ন্যাশনাল পিপলস্ পার্টির (এনপিপি) মো. স্বপন মিয়া (আম) ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. নজরুল ইসলাম (হাতপাখা) প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ ছাড়া সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর ও কাউন্সিলর পদে সাবেক এবং বর্তমান ছাড়াও নতুন মুখ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মূল প্রার্থীর জন্য গলার কাটা। তাকে নির্বাচনী মাঠ থেকে সরাতে না পারায় আওয়ামী লীগের মূল প্রার্থীর জন্য অন্তরায় হতে পারে। বিপুল সংখ্যক প্রার্থী মাঠে থাকায় তাদের মাইকের প্রচার এবং জনসংযোগে পৌরবাসী অতিষ্ঠ।

এদিকে আসন্ন কুলিয়ারচর পৌরসভা নির্বাচনে ১২টি কেন্দ্রে ২৫ হাজার ১৪৩ জন ভোটারের মধ্যে পুরুষ ১২ হাজার ৬০০ ও নারী ১২ হাজার ৫৪৩ জন ভোটার ইভিএমের মাধ্যমে ভোট দেবেন।

সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলরের ৩টি পদে ১২ জন ও কাউন্সিলরের ৯টি পদে ৪১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতাতা করছেন। এ নির্বাচনে বৃহত্তর দুই রাজনৈতিক দলের মধ্যে সরাসরি ভোট যুদ্ধ অনুষ্ঠিত হবে। মেয়র প্রার্থী হিসেবে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক নিয়ে সৈয়দ হাসান সারোয়ার মহসিন ও বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে নূরুল মিল্লাত প্রতিদ্বন্দ্বিতাতা করছেন। দুই প্রার্থীরই জনপ্রতিনিধিত্ব করার পূর্ব অভিজ্ঞতা রয়েছে। সৈয়দ হাসান সারোয়ার মহসিন উসমানপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি চতুর্থ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হন। অন্যদিকে নূরুল মিল্লাত কুলিয়ারচর ইউনিয়নের নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন। পরে তিনি কুলিয়ারচরকে পৌরসভায় উন্নীত করলে পৌরসভার চেয়ারম্যান ও পরে কুলিয়ারচর উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হন। রাজনৈতিকভাবে সৈয়দ হাসান সারোয়ার মহসিন এক সময় কমিউনিস্ট পার্টি করলেও বর্তমানে তিনি আওয়ামী লীগের উপজেলা সহ-সভাপতি। স্থানীয়ভাবে তিনি আপোষহীন ও অন্যায়ের প্রতিবাদী হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে নূরুল মিল্লাত উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য-সচিব। জনপ্রতিনিধি হিসেবে উভয় প্রার্থীরই জনসমর্থন রয়েছে। এ আসনে নির্বাচন হবে উভয় প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি।

এ ব্যাপারে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশ্রাফুল আলম জানান, নির্বাচনের সব প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। সুষ্ঠু নির্বাচন করার লক্ষ্যে প্রতি ওয়ার্ডে ১ জন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে র‌্যাব, বিজিবি, পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী দায়িত্ব পালন করবেন। তা ছাড়া নির্বাচনের কোনো অনিয়ম পরিলক্ষিত হলে তাৎক্ষণিক বিচারের জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ইলেক্ট্রোরাল ট্রাইব্যুনাল মাঠে থাকবে। কিশোরগঞ্জ পৌরসভার ২৮টি কেন্দ্রে ৭১ হাজার ৮৪ এর মধ্যে ৩৪ হাজার ২৮৫ জন পুরুষ ও ৩৬ হাজার ৭৯৯ জন নারী ভোট দেবেন।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *