কিশোর সিয়াম হত্যাকান্ড, দুই ঘাতকের আদালতে স্বীকারোক্তি

সারাবাংলা

ময়মনসিংহ অফিস : ময়মনসিংহের তারাকান্দায় অটো চালক ও ফুলপুরের ভাইটকান্দি হাইস্কুলের ষষ্ঠ শ্রেনির ছাত্র কিশোর সিয়াম হত্যাকান্ডে দুই ঘাতককে গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ। হত্যার ৪ দিনের মধ্যে ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে তাদেরকে গ্রেফতার করে পুলিশ। একই সাথে চুরিকৃত (লুন্ঠিত) অটো কিনার দায়ে আরো একজনকে গ্রেফতার এবং তার কাছ থেকে লুন্ঠিত অটো উদ্ধার করে। গ্রেফতারকৃতদের বৃহস্পতিবার আদালতে পাঠানো হয়েছে। গ্রেফতাকৃতরা পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে ও আদালতে হত্যার দায় স্কিকার করে জবানবন্দি দিয়েছে।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওসি শাহ কামাল আকন্দ জানান, ফুলপুরের ভাইকান্দি হাইস্কুলের ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র মারাদেওরা গ্রামের মকবুল হোসেনের ছেলে সিয়াম (১৩) লেখাপড়ার পাশাপাশি করোনাকাল থেকেই তার পরিবারের আর্থিক সহযোগীতার লক্ষে আধাবেলা ভাড়ায় অটো চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিল। প্রতিদিনের ন্যায় গত ২৯ জানুয়ারী দুপুরে সিয়াম কাকনি গ্রামের রিয়াজতের অটো ভ্যান ভাড়ায় নিয়ে চালানোর জন্য বের হয়। সন্ধ্যায় সে আর বাড়ী ফিরে আসেনি। পরিবারের লোকজন রাত থেকে সিয়ামকে খোঁজাখুজি শুরু করে। ৩০ জানুয়ারী তারাকান্দা কাটলী বাজার ব্রীজের নীচে তার মৃতদেহ উদ্ধার হয় এবং তার চালিত অটো ভ্যানটি পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় তারাকান্দা থানায় নিহতের পিতা মকবুল হোসেন অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। পুলিশ সুপার আহমার উজ্জামান মামলাটির দ্রুত রহস্য উদঘাটন ও হত্যায় জড়িতদের গ্রেফতারে ডিবি পুলিশকে দায়িত্ব দেন। এর আগেই খবর পেয়ে ডিবির ওসি শাহ কামাল আকন্দ একটি টিম নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং হত্যার রহস্য উদঘাটনে রাতদিন এলাকায় অবস্থান করে। চৌকস পুলিশ পরিদর্শক ডিবির ওসি হত্যাকান্ডের ৪ দিনের মধ্যে ২ ঘাতককে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় বুধবার ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতরা হলো, ফুলপুরের বড় শুনই চকহরিরামপুরের আঃ হালিমের ছেলে খাইরুল ইসলাম ও একই গ্রামের উলাস উদ্দিনের ছেলে মিজানুর রহমান মেজু। গ্রেফতারকৃতদের তথ্য মতে, সিয়ামকে হত্যার পর তার কাছ থেকে চুরিকৃত অটো (লুন্ঠিত অটো) ক্রেতা রতন কুমার সাহাকে ময়মনসিংহ নগরীর র‌্যালীর মোড় থেকে গ্রেফতার করেছে। এই সাথে রতনের গ্যারেজ থেকে লুন্ঠিত অটো উদ্ধার করে পুলিশ।

গ্রেফতারকৃতদের বরাত দিয়ে ডিবির ওসি শাহ কামাল আকন্দ আরো জানান, অটো চালক সিয়ামের কাছ থেকে অটো ভ্যান ছিনিয়ে নিতে খাইরুল ও মিজানুর রহমান মেজু পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুসারে ঘাতকদ্বয় ঘটনার দিন সিয়ামের অটো ভ্যান ২শত টাকা ভাড়ায় তারাকান্দা নিয়ে যায়। সারাদিন তাকে নিয়ে তারাকান্দা এলাকায় ঘুরাফেরা করে। সন্ধ্যার পর কাটলী বাজার ব্রীজের কাছে নির্জনস্থানে গেলে দুই ঘাতক অটো চালক কিশোর সিয়ামকে নাকে-মুখে ও গলায় চাপ দিয়ে শ্বাসরুদ্ধ করে নির্মমভাবে হত্যা করে। পরে ব্রীজের নীচে লাশ ফেলে ভ্যান নিয়ে ময়মনসিংহ শহরে চলে আসে এবং পাটগুদাম র‌্যালির মোড় রতনের গ্যারেজে ৫ হাজার ৯শত টাকায় ভ্যান বিক্রি করে ঢাকায় চলে যায়। এসআই পরিমল চন্দ্র সরকার জানান, গ্রেফতারকৃতদেরকে বৃহ্স্পতিবার আদালতে পাঠানো হলে ঘাতক খাইরুল ও মিজানুর রহমান মেজু হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার কথা স্বিকার করে এবং নিজেদের নাম জড়িয়ে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দেন। তিনি আরো জানান, গ্রেফতারকৃত রতনকে লুন্ঠিত চোরাই মালামাল কেনার অপরাধে এই মামলায় আদালতে পাঠানো হয়েছে।

দেশবিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সব সংবাদ পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *