কুড়িগ্রামে জলাশয় সংস্কারের মাধ্যমে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি

সারাবাংলা

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রাম জেলা মৎস্য বিভাগের অধীনে জলাশয় সংস্কারের মাধ্যমে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি শীর্ষক দুটি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে বরোপিট, অব্যবহৃত জলাশয় সংস্কার ও বিল নার্সারি পুকুর খনন কার্যক্রমের মাধ্যমে ৩৮.৩ হেক্টর জলাশয় এর উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। ফলাফল স্বরূপ উক্ত জলাশয় অতিরিক্ত ১২০ টন মাছ উৎপাদিত হবে, যার মূল্য প্রায় ২ কোটি টাকা। ওই জলাশয় সমূহ সংস্কারের ফলে ১ হাজার ৬শ জন প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে সুফল ভোগ করবে। জলাশয় সংস্কারের মাধ্যমে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্পের আওতায় ৩৮টি জলাশয় এর প্রায় ৩৪ হেক্টর পুন:খনন কাজ সম্পন্নের পথে।
এ ছাড়া নাগেশ্বরী উপজেলায় প্রায় ৮৪ লাখ টাকা ব্যয়ে মোট ৬ হেক্টর আয়তনের ৬টি বিল নার্সারি পুকুর খনন করা হয়েছে। বিল নার্সারি পুকুরে উৎপাদিত পোনা বিল সমূহের জন্য পোনার যোগান দেবে। ফলে পোনা মাছ ক্রয়ে ব্যয় কমে গিয়ে বিলের উৎপাদন বৃদ্ধি ও সুফলভোগীদের আয় বাড়বে। পাশাপাশি সংস্কারকৃত বরোপিট সুফলভোগীদের মধ্যে ইজারা দেওয়া হলে তা মাছ উৎপাদনে নতুন ক্ষেত্র তৈরি কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ব্যাপক ভূমিকা পালন করবে। পায়রাডাঙ্গা বিলের সভাপতি আমজাদ হোসেন ও মাদাইখাল বিলের সভাপতি দীনেশ চন্দ্র দাস বলেন, বিলে নার্সারি পুকুর খনন হওয়ায় আমরা মাছ চাষে আর্থিকভাবে লাভবান হব। কারণ প্রতিবছর বিভিন্ন হ্যাচারি থেকে প্রায় ২০ লাখ টাকার পোনা ক্রয় করে বিলে মাছ চাষ করতে হয়। কিন্তু নার্সারী পুকুরের দুই থেকে তিন লাখ টাকা ব্যয়ে রেণু হতে পোনা প্রতিপালন করে লালিত পোনা বিলে ছাড়া হলে আমরা আর্থিকভাবে দ্বিগুণ লাভবান হব। মাছ চাষ করে স্বাবলম্বী হতে পারবো। স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি বলেন, পায়রাডাঙ্গা ও মাদাইখাল বিলের মাছ দিয়ে আমরা আমাদের স্থানীয় মাছের চাহিদা মেটানো সহ বিভিন্ন অঞ্চলের ব্যবসায়ী মাছ ক্রয় করেন। নার্সারি পুকুর পুনঃখনন করায় আমরা আনন্দিত। এখন থেকে আমরা আরও প্রাকৃতিক স্বাদের মাছ খেতে পারব। এ ব্যাপারে কুড়িগ্রাম জেলা মৎস্য কর্মকর্তা কালিপদ রায় জানান- মৎস্য বিভাগের আওতায় জেলায় চলমান সকল কার্যক্রম জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সার্বিক সহায়তা নিয়ে প্রকল্পের ড্রয়িং ডিজাইন অনুযায়ী কাজ শেষ পর্যায়ে। আশা করছি এ বছরেই সংস্কারকৃত জলাশয় সমূহ মাছ উৎপাদনে ব্যবহৃত হবে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *