কুড়িগ্রামে মুঠোফোন চুরির মিথ্যা দায়ে অসহায় পরিবারকে নির্যাতন

সারাবাংলা

রফিকুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম থেকে:
করোনা মহামারীর কারনে সরকার যখন লকডাউন ঘোষণা দিয়ে সাধারন মানুষকে অকারণে বাড়ির বাইরে বের হতে দিচ্ছে না। ঠিক এরকম দুর্যোগ কালীন সময়ে গভীর রাতে কুড়িগ্রামের হলোখানা ইউনিয়নে জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে মোবাইল চুরির মিথ্যা অভিযোগে শালিস বৈঠকের নামে একটি অসহায় পরিবারকে অমানুষিক নির্যাতন করা হয়েছে। হলোখানা ইউনিয়নের হেমেরকুটি গাছবাড়ী এলাকার বাসিন্দা নুর ইসলামের পুত্র ইউনুস আলী গং এর সাথে দীর্ঘ দিন যাবৎ একই এলাকার মৃত বাদশা মিয়ার পুত্র রুবেল ইসলামের জমি সংক্রান্ত পারিবারিক বিরোধ চলে আসছে। জমি নিয়ে আদালতে মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এরই জের ধরে নুর ইসলামের পুত্র ইউনুস আলী গং এলাকায় মোবাইল চুরির মিথ্যা অভিযোগ এনে করোনা মহামারীর কারনে সরকার ঘোষিত লকডাউন চলাকালে আইন অমান্য করে গত ০২/০৭/২০২১ ইং গভির রাতে শালিস বৈঠকের আয়োজন করে। গ্রামের লোক জনের উপস্থিতিতে ইউপি মেম্বার তার অনুসারিদের দিয়ে শালিস বৈঠকে প্রমান ছাড়াই মোবাইল চুরির অপবাদ দিয়ে মৃত বাদশা মিয়ার পুত্র রুবেল ইসলাম, তার মাতা মোছাঃ রোকেয়া বেগম ও বোন মোছাঃ বানেছা বেগমকে অমানুষিক নির্যাতন করেছে। নির্যাতনের শিকার অসুস্থ মোছাঃ বানেছা বেগম বর্তমানে জেনারেল হাসহাতাল কুড়িগ্রামে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ ঘটনায় রুবেল ইসলাম নিজে বাদী হয়ে ৫জনের নামে কুড়িগ্রাম সদর থানায় অভিযোগ করেছে।
এ ব্যাপারে হলোখানা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান উমর ফারুখ জানায়, মোবাইল চুরির বিষয়টি আমি শুনেছি। এখন পর্যন্ত আমার কাছে কোনো পক্ষই আসে নাই। লকডাউনের মধ্যে শালিস বৈঠক এর বিষয়টি আমি জানি না। এ ব্যাপারে হলোখানা ইউনিয়ন পরিষদের অভিযুক্ত ইউপি সদস্য ইউনুছ আলী জানায়, এলাকার আইন শৃংখলা স্বাভাবিক রাখতে জনগনের প্রয়োজনে অনেক সময় আমাদের ভুমিকা নিতে হয়। মৃত বাদশা মিয়ার পুত্র রুবেল ইসলাম মোবাইল চুরির সাথে সম্পৃক্ত রয়েছে। চুরির পর উদ্ধার হওয়া মোবাইল বিক্রির ঘটনায় রুবেলের সম্পৃক্ততা প্রমান হয়েছে। আইনী প্রক্রিয়ায় বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে। সেই সাথে আমার জনপ্রিয়তায় একটি মহল ইর্ষান্বিত হয়ে এলাকায় আমার বিরুদ্ধে নানা রকম ষড়যন্ত্র করছে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *