কুড়িগ্রামে যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে মারপিট

সারাবাংলা

রফিকুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম থেকে
কুড়িগ্রাম জেলা সদরের কৃষ্ণপুর মিয়াপাড়া এলাকায় যৌতুক লোভী স্বামী এশরাফুল আলমের নির্যাতনের শিকার স্ত্রী রিনা বেগম বাসনা অবশেষে নিজেকে বাঁচাতে কুড়িগ্রাম সদর থানায় মামলা দায়ের করেছেন। কুড়িগ্রাম সদর থানায় দায়েরকৃত মামলা সূত্রে জানা যায়, কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলাধীন পূর্ব আঠার পাইকা গ্রামের বৃদ্ধ হোসেন আলীর কন্যা মোছাঃ রিনা বেগমের সহিত প্রায় দেড় যুগ আগে একই এলাকার মৃত- দছির উদ্দিনের ছেলে এশরাফুল আলমের সহিত মুসলিম শরীয়ত মোতাবেক রেজিষ্ট্রিকৃত বিয়ে হয়। বিয়ে পর হতে অদ্যবদি এশরাফুল আলমের ঔরসে রিনা বেগমের গর্ভে ৩টি সন্তান জন্মগ্রহণ করে। ৩ সন্তান হচ্ছে বায়েজিদ (১৫), ফাইয়াদ হোসেন (১০), রিয়াদ হোসেন (৩)। সন্তানদের জন্মের পর থেকেই স্থানীয় মৃত গাদলু শেখের ছেলে সোলেমান মিয়ার কু-পরামর্শে এশরাফুল আলম তার স্ত্রীর কাছে যৌতুক বাবদ ৫ লাখ টাকা শ্বশুরের কাছ থেকে নিয়ে দেওয়ার জন্য নানা ভাবে চাপ প্রয়োগ করে। রিনা বেগম তার নাবালক সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে স্বামীর সব অন্যায় অত্যাচার নিরবে সহ্য করে ঘর সংসার করে আসছিল। ঘটনার দিন গত ২৯ আগস্ট স্বামী এশরাফুল আলম দক্ষিণ দুয়ারী চৌচালা টিনের শয়ন ঘরের ভেতর একত্রিত হয়ে আগের মতো তার স্ত্রী রিনা বেগমকে ৫ লাখ টাকা শ্বশুরের কাছ থেকে নিয়ে দেওয়ার জন্য বলে। এসময় রিনা বেগম তার বৃদ্ধ দরিদ্র পিতার কথা চিন্তা করে টাকা নিয়ে দিতে অস্বীকার জানায়। এসময় আসামি এশরাফুল আলম ক্ষিপ্ত হয়ে তার স্ত্রীকে বাঁশের লাঠি দিয়ে এলোপাথারী মারডাং করে ফুলা জখম করে। রিনা বেগমের ভাই মিজানুর ও আব্দুল আউয়াল সংবাদ পেয়ে বোনের বাড়িতে এসে অসুস্থ বোনকে দেখে স্বাক্ষীর উপস্থিতিতে বোনের স্বামীকে ঘটনার বিষয় জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এসময় বিবাদী এশরাফুল আলম পুনরায় যৌতুক বাবদ ৫ লাখ টাকা দাবি করেন অন্যথায় এশরাফুল আলম তার স্ত্রীকে নিয়ে ঘর সংসার করবে না মর্মে জানিয়ে দেয়। এদিকে অসুস্থ রিনা বেগম বাসনার শারীরিক চিকিৎসার জন্য উলিপুর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। যার ভর্তি রেজিঃ নং- ৩৫৬৪/৫২০/১/২, তারিখঃ ৩০ আগস্ট ২০২০ইং। চিকিৎসা শেষে মোছাম্মৎ রিনা বেগম তার স্বামীর সঙ্গে ঘর সংসার করার জন্য বিভিন্ন ভাবে আপোষ মিমাংসার চেষ্টা করেন। সন্তানদের ভবিষ্যৎ জীবনের কথা চিন্তা করে বাধ্য হয়ে কুড়িগ্রাম সদর থানায় গত ২৩ সেপ্টেম্বর স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। কুড়িগ্রাম সদর থানায় দায়েরকৃত ২০০০ সালে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন (সংশোধনী/২০০৩) এর ১১(খ)/৩০ ধারা মোতাবেক যৌতুকের জন্য মারপিট করে গুরুত্বর জখম ও সহায়তার অপরাধের মামলা নং- ২০ এবং তারিখ ২৩/০৯/২০২০ইং। মামলা দায়েরের পর আসামীরা বর্তমানে পলাতক রয়েছে বলে জানা গেছে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *