কুড়িগ্রামে সরকারী উদ্যোগে খাসজমিতে নির্মিত গুচ্ছগ্রাম জমি আত্মসাতের পাঁয়তারা

সারাবাংলা

রফিকুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম থেকে:
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলাধীন হলোখানা ইউনিয়নের আরাজি পলাশবাড়ী মৌজা এলাকায় সরকারি উদ্যোগে ১৯৮৯ সালে ভূমিহীন দরিদ্র পরিবারের জন্য সাড়ে ২২ একর খাসজমিতে গুচ্ছগ্রাম নির্মাণ করা হয়। ১৯৮৯ সাল থেকে হতদরিদ্র ১৫টি পরিবার সরকারের দেওয়া কবুলীয়ত সম্পত্তিতে বসতভিটা স্থাপনসহ হাল চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। ১৯৪০ সালের পরে কুড়িগ্রাম মহকুমায় ধরলা নদী ভাঙনের কারণে সি.এস ও এস.এ দাগ মূলে শত শত একর জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত হয়। পরবর্তীতে নদীর গতিপথ পরিবর্তন হওয়ায় আরাজি পলাশবাড়ী মৌজায় বালু চর তৈরি হয় এবং ১৯৮৯ সালে সরকারি উদ্যোগে হতদরিদ্র ১৫টি পরিবারের জন্য বালু চরে গুচ্ছগ্রাম নির্মাণ করা হয়। গুচ্ছগ্রামে রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা বীর প্রতিক তারামন বিবির জন্য সরকারি উদ্যোগে বাড়ী নির্মাণসহ তার পরিবারকে জমি বন্দোবস্ত দেওয়া হয়। ওই জমিতে বীর প্রতীক তারামন বিবির বাড়ি রয়েছে, যা তার স্মৃতি হিসেবে সংরক্ষিত। সরকারি উদ্যোগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার স্বরূপ ২০২১ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে হতদরিদ্র ২৪টি পরিবারকে পাকা ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন সময় সরকারি খাস জমিতে আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় অসংখ্য পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়েছে। কালের বির্বতে গুচ্ছগ্রামটি এখন বিপুল জনসংখ্যায় অধ্যুষিত হয়েছে। এদিকে ১৯৮২ সালে আর.এস রেকর্ড শুরু হলে স্থানীয় ভূমিদস্যুরা সরকারি খাস জমি দখলের অপচেষ্টা শুরু করে। মাঠ জরিপের সময় সরেজমিন গোপন করে অফিসে বসে সেটেলমেন্ট কর্মকর্তা কর্মচারীদের উপঢৌকন দিয়ে ম্যানেজ করে সরকারি খাস জমি সমূহ ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি হিসেবে রেকর্ডভুক্ত করা হয়। ১৯৮২ সালে আরাজি পলাশবাড়ী মৌজায় সেটেলমেন্ট কর্মকর্তা ও ভূমিদস্যুদের যোগসাজশে সরকারি খাস জমি অবৈধভাবে ভুল রেকর্ডভুক্ত করা হয়। তৎকালীন ভূমি কর্মকর্তাদের দায়িত্বহীন কর্মকাণ্ডের কারণে সরকারের নানা সময়ে গৃহিত দরিদ্র পরিবারের জন্য নেওয়া উদ্যোগ ভেস্তে যেতে বসেছে। ১৯৮৯ সালে সরকারিভাবে যখন খাস জমিতে গুচ্ছগ্রাম নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও বিষয়টি ১৯৮২ সালে আর.এস রেকর্ড এর সময় কেন গোপন রাখা হলো। কতিপয় ভূমি কর্মকর্তার দায়িত্বহীন কর্মকাণ্ড হতদরিদ্র গুচ্ছগ্রামবাসীর সোনালি ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে ফেলেছে। এরই মধ্যে অনেক পরিবার মামলা-মোকদ্দমায় নিঃশেষ হচ্ছে। সবাই তাকিয়ে আছে সরকারি সঠিক সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় সরকারিভাবে ১৯৮২ সালের আর.এস রেকর্ড সংশোধন করলে গুচ্ছগ্রামের শত শত পরিবার ভুমিদস্যুদের কবল থেকে রক্ষা পাবে। আরাজি পলাশবাড়ী মৌজায় গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা আলেপ উদ্দিন জানায়, ১৯৮৯ সালে আমাকে ভূমিহীন হিসেবে সরকারিভাবে জমি বন্দোবস্ত দেওয়া হয় আমি উক্ত বন্দোবস্ত দেওয়া জমিতে পরিবার-পরিজনসহ বসবাস করছি অথচ আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা হয়রানিমূলক মামলা দিয়ে আমার জমি আত্মসাতের পাঁয়তারা করছে এলাকার কতিপয় ব্যক্তি আমি এর প্রতিকার চাই।
আরাজি পলাশবাড়ী মৌজায় গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা হানিফ আলী জানায়, গুচ্ছগ্রামে আমরা বসবাস করি কিছু ব্যক্তি ১৯৮২ সালে সেটেলমেন্ট কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে সরকারি সম্পত্তি তাদের নামে আর.এস রেকর্ড করিয়ে আজ আমাদের নামে বন্দোবস্ত দেয়া জমি দখলে নেয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে আমরা আর.এস রেকর্ড সংশোধনের দাবি জানাচ্ছি। উল্লেখ্য ১৯৮২ সালে সরকারিভাবে আর.এস রেকর্ড টি তৎকালীন অসাধু সেটেলমেন্ট কর্মকর্তা ও ভূমিদস্যুদের যোগসাজশে সম্পন্ন হওয়ায় সরকারি খাসজমি পূর্ব পরিকল্পনা মতে সরকারি খাস জমি ব্যক্তিমালিকানায় রেকর্ডভুক্ত করে আত্মসাতের পাঁয়তারার ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *