কৃষকদের আর্তনাদ

সারাবাংলা

ধামইরহাট (নওগাঁ) সংবাদদাতা:
নওগাঁর ধামইরহাটে শত শত বিঘা কৃষি জমির ফসল পানি নিষ্কাশনের অভাবে পানিতে তলিয়েছে কৃষকের স্বপ্ন। পানি নিষ্কাশনের সুষ্ঠু ব্যবস্থা না থাকায় তিন ফসলি জমিগুলো প্রায় কয়েকবছর ধরে তলিয়ে থাকার কারণে ওই এলাকার কৃষকরা বর্ষা মৌসুমে ফসল উৎপাদন করতে পারছেন না। শত কষ্টের পরেও ওইসব জমিতে কৃষকরা ধানের চারা রোপণ করে থাকলেও পানিতে তলিয়ে গিয়ে তাদের চারাগুলো নষ্ট হয়েছে। টানা বৃষ্টিপাতে নিচু জমিগুলোতে পানি জমে থাকায় ধানের রোপণকৃত চারাগুলো বিনষ্ট হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন প্রান্তিক পর্যায়ের নানা কৃষক। আর কিছুদিন পরেই কৃষকের ঘরে নতুন ধান উঠতে শুরু হবে। কিন্তু পানিতে তলিয়ে ফসল হারানো কষ্টে কৃষকদের বুকে চাপা আর্তনাদ। উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে এবারে উপজেলায় লক্ষমাত্রা রয়েছে ১৯,৭৯০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধানের। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও টানা বর্ষণে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ১২৩ হেক্টর জমির ধান নষ্ট হয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার ইসবপুর ইউনিয়নের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ছোট যমুনা নদীর মহিষগাড়ি বাঁধের পূর্ব পাশে রাঙালঘাট, মহিষপুর, মানপুর এলাকায় প্রায় ৪ শত বিঘা জমির ফসল দীর্ঘ সময় পানিতে তলিয়ে থাকায় নষ্ট হয়ে গেছে। নদীর পশ্চিম পাড়ের চর এলাকার ও শত শত বিঘা জমির ফসল পানি নিষ্কাশনের অভাবে নষ্ট হয়ে গেছে। উঁচু কিছু জমির ফসল ঘরে তুলতে পাওয়ার আশা থাকলেও নিচু জমিগুলোর ফসল সম্পূণ নষ্ট হয়ে পড়েছে। ওই ইউনিয়নে টানা বৃষ্টিপাত ও জলাবদ্ধতার কারণে ৭৪ হেক্টর জমির ধান ও ৩ হেক্টর জমির রবিশস্য চলতি মৌসুমে নষ্ট হয়ে গেছে। কৃষকদের দাবী ওই নদীর বাঁধ নির্মাণের পর থেকে পানি নিষ্কাশনের অভাবে তাদের ফসল প্রতি বছরে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বাঁধে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হলে ওইসব জমির ফসল রক্ষা পাবে এমনটা মনে করছেন ভুক্তভোগী কৃষকরা।
ওই এলাকার কৃষকদের পানির নিচে মুখ থুবড়ে পড়ে থাকা জমির ফসলগুলো রক্ষার্থে তারা পানি উন্নয়ন বোর্ড নওগাঁ ও উপজেলা প্রশাসনের নিকট রাঙ্গালঘাট এলাকার মহিষগাড়ি বাধেঁ পানি নিষ্কাশনের জন্য ব্রিজ ও কালভাট নির্মাণ এবং পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ছোট যমুনা নদীর হরিপুর ব্রিজ থেকে জাবারপুর ঘাট পর্যন্ত নদী পুনঃখনন করলে ওই সব কৃষকদের জমির ফসল সুষ্ঠুভাবে প্রতি বছরে ঘরে তুলতে পারবেন।
এ বিষয়ে রাঙ্গালঘাট এলাকার মৃত আব্দুল গফুরের ছেলে কৃষক মো. জাইদুল ইসলাম বলেন, বাধেঁর পুর্ব পার্শে আমার পরিবারের প্রায় ৫ বিঘা ফসলি জমি আছে। তার মধ্যে আমার নিজস্ব ৪৯ শতাংশ জমিতে আমি প্রতি বছরে ধান সহ রবিশস্য লাগিয়ে থাকি। তা থেকে বছরে আমার ২০-২৫ হাজার খরচ বাদে আয় হয়। কিন্তু পানি নিষ্কাশনের অভাবে কয়েকবছর থেকে আমি ফসল ভালোভাবে ঘরে আনতে পারি না।
কৃষক দেলোয়ার হোসের সরদার জানান, আমি ৮ বিঘা সম্পত্তি বহুত বছর আগে ক্রয় করেছি কিন্তু মহিষগাড়ি বাঁধ নির্মাণের পর থেকে আমার সম্পূণ জমির ফসল বর্ষা মৌসুম এলেই পানিতে তলিয়ে যায়। পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় দীর্ঘ সময় ধরে ফসল পানির নিচে থাকায় সব জমির ফসল বিনষ্ট হয়ে পড়ে। এবারো আমার সব জমির ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। এ বিষয়ে ইসবপুর ইউপি চেয়ারম্যান ইমরুল কায়েশ বাদল বলেন, গত মাসে উপজেলা পর্যায়ে একটি সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে খুব শিঘ্রই এই বিষয়ে নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ড এর সঙ্গে কথা বলে আমরা ওই এলাকার পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা গ্রহন করবো। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গনপতি রায় বলেন, স্থানীয় চেয়ারম্যান সহ এলাকাবাসীদের সঙ্গে কথা বলে একটি সুষ্ঠু ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড নওগাঁ জেলা শাখার নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফউজ্জামান খান বলেন, পানি নিষ্কাশনের জন্য লিখিতভাবে ফরমুলা অনুসরণ করে আসতে পারলে আমরা বিষয়টি দেখবো। তারপরও আমার এবিষয়ে জানা ছিল না আমি আমার লোকজন ওই এলাকায় পাঠিয়ে দেবো বিষয়টি কি পর্যায়ে আছে তা দেখার পর একটি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *