কেন্দুয়ায় ঘর বাঁধা হলো না জুইয়ের, পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা

Uncategorized

সাব্বির আহম্মেদ খান, কেন্দুয়া থেকে:
কলেজছাত্রী জুই আক্তার তৃষ্ণা। পুলিশের সদস্য সাইফুল্লাহ তারেকের সঙ্গে প্রেম সম্পর্ক গড়ে তোলে ঘর বাঁধার স্বপ্ন দেখাই হল তার জীবনের অভিশাপ। প্রথমে প্রেম, এর পর জুইকে বিয়ের স্বপ্ন দেখিয়ে অন্যত্র বিয়ের আলোচনা শুরু করেন পুলিশ সদস্য সাইফুল্লাহ তারেক।

দীর্ঘদিন প্রেম সম্পর্ক করে একসঙ্গে চলাফেরার পর অবশেষে বিয়ের পিঁড়িতে না বসার তালবাহানা করে শারীরিক ও মানসিক ভাবে অমানবিক নির্যাতন শুরু হয় কলেজ ছাত্রী জুইয়ের উপর। এক পর্যায়ে প্রেম প্রতারণা ও নির্যাতন সহ তাকে দেওয়া বিভিন্ন অপবাদ সইতে না পেরে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয় জুই।

গত ১৯ আগস্ট বিকেলে নিজ বাড়িতে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেন। কেন্দুয়া থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে একটি অপমৃত্যু মামলা দায়েরের মাধ্যমে ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। এদিকে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ এনে কলেজছাত্রী জুই আক্তার তৃষ্ণার মা আসমা আক্তার পুলিশ সদস্য সাইফুল্লাহ তারেক, তার বাবা আবুল কালাম, মামা সৈয়দুজ্জামান স্বপন ও তার দুই কন্যা সহ ৫ জনকে আসামি করে কেন্দুয়া থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেন।

কেন্দুয়া উপজেলার গড়াডোবা ইউনিয়নের গাড়াদিয়া কান্দা গ্রামের রতন আহমেদের কন্যা জুই আক্তার তৃষ্ণা। একই ইউনিয়নের শিবপুর গ্রামের আবুল কালামের ছেলে পুলিশ সদস্য সাইফুল্লাহ তারেক। কলেজ ছাত্রী জুইয়ের মা আসমা আক্তার জানান, ষষ্ঠ শ্রেনীতে পড়াকালীন সময় থেকেই জুইয়ের পিছু নেয় তারেক। তখন স্কুলে আসা যাওয়ার পথে জুইয়ের পথ রোধ করে নানা ভাবে উত্যক্ত করত তারেক। অতিষ্ঠ হয়ে বিদ্যালয় পরিবর্তন করে জুইকে পার্শ্ববর্তী রওশন ইজদানী একাডেমিতে ভর্তি করান।

ভর্তির ৩/৪ মাস পর থেকেই সেখানেও পিছু নেয় তারেক। নতুন করে স্কুলে আসা যাওয়ার পথে প্রেম প্রস্তাব দিতে থাকে। এক পর্যায়ে জুইয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য তারেক তার মামাতো বোনদেরও ব্যবহার করে। এরই মাঝে দুজনের মধ্যে ঘনিষ্ঠ প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠলে বিয়ে করারও প্রতিশ্রæতি দেয় তারেক। এরই মধ্যে সাইফুল্লাহ তারেকের চাকরি হয় পুলিশে। আসমা আক্তার জানান, পুলিশের চাকরি হওয়ার পর থেকেই সাইফুল্লাহ তারেক তার মেয়ে জুইয়ের সঙ্গে প্রেম প্রতারনা শুরু করতে থাকে।

একদিন তার নির্দেশে তার মামা এবং দুই মামাতো বোন মিলে জুইকে চুলের মুঠি ধরে শারীরিক ভাবে অমানবিক নির্যাতন করে। জুই তারেককে বিয়ে করার চাপ দিতে থাকলে সাইফুল্লাহ তারেক তার প্রেমের কথা অস্বিকার করে অন্যত্র বিয়ের আলোচনা চালাতে থাকেন। চলতি বছরের আগস্ট মাসের প্রথম দিকে সাইফুল্লাহ তারেক অন্যত্র বিয়ের প্রস্তুতি নেয়। এ পর্যায়ে কলেজ ছাত্রী জুই বিয়ের দাবী তুললে সাইফুল্লাহ তারেক ও তার স্বজনরা জুইকে নিয়ে নানা কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য শুরু করে।

কৌশলে তারেকের মামার বাড়িতে নিয়ে শারীরিক, মানসিক নির্যাতন করে। তাকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ অপবাদের কারণে গত ১৯ আগষ্ট জুই আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। জুইয়ের মা আসমা আক্তার অভিযোগ করে আরো বলেন, ২৮ আগস্ট ৫ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করার পরদিনই সাইফুল্লাহ তারেকের মামা সৈয়দুজ্জামান স্বপন মামলা তুলে নিতে আমার দেবর আব্দুল মান্নানকে বিভিন্ন ভয়ভীতি প্রদর্শন করে এবং মেরে ফেলার হুমকি দেয়। হুমকির ঘটনায় আব্দুল মান্নান বাদী হয়ে গত ৩১ আগস্ট কেন্দুয়া থানায় একটি জিডি করেন।

কলেজ ছাত্রী জুইয়ের মা আসমা আক্তার এই মামলার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তার কন্যার আত্মহত্যার প্ররোচনাকারী পুলিশ সদস্য তারেক সহ অন্যান্যদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কেন্দুয়া থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) হাবিবুল্লাহ খান বলেন, মামলাটি নিখুত ভাবেই তদন্ত করা হচ্ছে। ময়না তদন্তের রিপোর্ট পেলেই তদন্তকার্য শেষ করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

গ্রেফতারের বিষয়ে তিনি বলেন, যেহেতু পুলিশ সদস্য সাইফুল্লাহ তারেক ময়মনসিংহ পুলিশ ইউনিটে সেজন্য তার বিরুদ্ধে মামলা ও প্রাথমিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নেত্রকোনা পুলিশ সুপারের মাধ্যমে ময়মনসিংহ পুলিশ সুপার বরাবর একটি প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। পুলিশ সদস্য সাইফুল্লাহ তারেক ও তার মামা সৈয়দুজ্জামান স্বপনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *