‘কোভিড-১৯’র ভ্যাক্সিনকে বৈশ্বিক সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে’

জাতীয়
নিজস্ব প্রতিবেদক: সব দেশ যেন কোভিড-১৯ এর ভ্যাক্সিন সময়মত পায় তা নিশ্চিত করতে জাতিসংঘকে উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, এ ভ্যাক্সিনকে বৈশ্বিক সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

আজ শনিবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৭৫তম অধিবেশনের ভাষণে এ কথা বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পদাঙ্ক অনুসরণ করে প্রতি বছরের মতো এ বছরও বাংলায় ভাষণ দেন। বঙ্গবন্ধু ১৯৭৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ২৯তম অধিবেশনে প্রথম বাংলায় ভাষণ দিয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কারিগরি জ্ঞান এবং মেধাসত্ত্ব পেলে বিপুল পরিমানে এই ভ্যাক্সিন উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে বাংলাদেশের। রোহিঙ্গা সংকট মিয়ানমারের সৃষ্টি এবং এর সমাধান মিয়ানমারকেই করতে হবে উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এ সংকট সমাধানে কার্যকর ভূমিকা নেয়ার আহ্বান জানান শেখ হাসিনা। এসময় অভিবাসী শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের বিষয়টি সহমর্মিতা ও ন্যায় সঙ্গতভাবে বিবেচনা করতে অভিবাসী গ্রহণকারী দেশগুলোকে আহ্বান জানান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, “বাংলাদেশ ১১ লাখেরও বেশি জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিককে আশ্রয় প্রদান করেছে। তিন বছরের বেশি সময় অতিক্রান্ত হলেও এখন পর্যন্ত মিয়ানমার একজন রোহিঙ্গাকেও ফেরত নেয়নি। এই সমস্যা মিয়ানমারের সৃষ্টি এবং এর সমাধান মিয়ানমারকেই করতে হবে। আমি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এ ব্যাপারে আরও কার্যকর ভূমিকা গ্রহণের অনুরোধ জানাচ্ছি।”

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “কোভিড-১৯ মহামারির কারণে বিদ্যমান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জসমূহ আরও প্রকট হয়েছে। এ মহামারি আমাদের উপলদ্ধি করতে বাধ্য করেছে যে, এ সংকট উত্তরণে বহুপাক্ষিকতাবাদের বিকল্প নেই।” এসময়, জাতিসংঘের ৭৫ বছর পূর্তিতে, এর সনদের বহুপাক্ষিকতার প্রতি পূর্ণ আস্থা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, এ আদর্শ সমুন্নত রাখতে বাংলাদেশ বদ্ধ পরিকর।

জলবায়ু পরিবরর্তণের প্রভাব এবং সন্ত্রাসবাদের মত বিষয়গুলো কোন রাষ্ট্রের একার পক্ষে মোকাবেলা করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এজন্য দরকার সমন্বিত উদ্যোগ।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *