আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে উত্তরাঞ্চলগামী ঘরমুখো মানুষ ও কোরবানির পশুবাহী যানবাহনের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশ।
ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে জেলার গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কজুড়ে প্রায় ৬০০ পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। যানজট নিয়ন্ত্রণ, দুর্ঘটনা প্রতিরোধ এবং পশুবাহী ট্রাকের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত সিরাজগঞ্জের যমুনা সেতু পশ্চিম সংযোগ মহাসড়ক ঈদের সময় অতিরিক্ত চাপের মুখে পড়ে। এ সড়ক দিয়ে উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২২ জেলার যানবাহন চলাচল করায় ঈদের আগে-পরে যানবাহনের সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। তাই আগেভাগেই মাঠে নেমেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
জেলার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বসানো হয়েছে চেকপোস্ট। পাশাপাশি জেলা পুলিশ, ট্রাফিক পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশসহ বিভিন্ন বাহিনী সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করছে। অতীতে যেসব স্থানে যানজটের সৃষ্টি হয়েছিল, সেসব এলাকাকে চিহ্নিত করে বাড়তি নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে।
বিশেষ নজরদারিতে রয়েছে যমুনা সেতু পশ্চিম মহাসড়ক, হাটিকুমরুল গোলচত্বর, নলকা সেতু এলাকা, কড্ডার মোড়, বগুড়া ও পাবনা মহাসড়ক এবং তাড়াশ হয়ে নাটোর সীমান্ত পর্যন্ত বিভিন্ন সড়ক। এসব এলাকায় মোবাইল টহলও বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে অবৈধ পার্কিং ও ধীরগতির যানবাহন নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ঈদকে ঘিরে পশুবাহী ট্রাক চালকদের মধ্যেও স্বস্তি দেখা গেছে। পাবনা থেকে ঢাকাগামী এক ট্রাকচালক আব্দুল মান্নান বলেন, ঈদের সময় রাস্তায় অনেক চাপ থাকে। আগে যানজটে দীর্ঘসময় আটকে থাকতে হতো। এবার পুলিশ আগেভাগে ব্যবস্থা নেওয়ায় কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছি।
বগুড়া-ঢাকা রুটের বাসচালক সাইদুল ইসলাম বলেন, সিরাজগঞ্জ এলাকায় যানজট হলে পুরো রুটে ভোগান্তি তৈরি হয়। পুলিশ সক্রিয় থাকলে যাত্রীরা স্বস্তিতে বাড়ি ফিরতে পারবেন।
যাত্রীরাও আশা করছেন, মহাসড়কে বাড়তি পুলিশি তৎপরতায় ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও বিশৃঙ্খলা কমবে এবং ঈদযাত্রা হবে নিরাপদ ও স্বাভাবিক।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম সানতু বলেন, যমুনা সেতু পশ্চিম মহাসড়ক থেকে বগুড়া, পাবনা ও তাড়াশ হয়ে নাটোর সীমান্ত পর্যন্ত সড়কগুলো ঈদে সবচেয়ে ব্যস্ত থাকে। এসব এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, গত ঈদুল ফিতরে ৫৮৫ জন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এবার ঈদুল আজহায় প্রায় ৬০০ সদস্য মাঠে রয়েছেন। কোরবানির পশুবাহী ট্রাকগুলো যেন নিরাপদে চলাচল করতে পারে এবং কোথাও চাঁদাবাজি বা হয়রানির শিকার না হয়, সে বিষয়েও কঠোর নজরদারি রাখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জন্য যমুনা সেতু অন্যতম প্রধান সড়ক যোগাযোগ মাধ্যম। বিকল্প মহাসড়ক না থাকায় ঈদের সময় সামান্য দুর্ঘটনা বা যানজটও বড় ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই এবারের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে আগাম প্রস্তুতি নিয়েছে সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশ।