খালেদা জিয়াকে বিদেশে নিতে পরিবারের আবেদন

রাজনীতি

ডেস্ক রিপোর্ট: বসুন্ধরা এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নিতে ফের আবেদন করেছে তার পরিবার। পরিবারের পক্ষ থেকে ছোট ভাই শামীম এস্কান্দার গত বৃহস্পতিবার এই আবেদন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা দেন। পরদিন তিনি যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়েন।

সোমবার (১৫ নভেম্বর) রাতে খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেন, ‘পরিবারের পক্ষ থেকে ম্যাডামের ছোট ভাই শামীম এস্কান্দার উন্নত চিকিৎসার জন্য ম্যাডামকে বিদেশে নিতে অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছেন। এটি পঞ্চম আবেদন।’ ম্যাডামকে বিদেশে উন্নত চিকিৎসার জন্য তার জামিন এবং বিদেশে প্রেরণের জন্য সরকারের কাছে এই আবেদন করা হয়।

টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে সন্ধ্যায় থেকে সদ্য সংবাদ প্রকাশ করা হচ্ছে যে, খালেদা জিয়াকে বিদেশে নিতে তার ছোট ভাই শামীম এস্কান্দার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছেন। শামীম এস্কান্দারের টেলিফোনে একাধিকবার টেলিফোন করা হলেও তিনি মোবাইল ধরেননি।

এ ব্যাপারে রাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর একান্ত সচিব দেওয়ান মাহুবুবর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, একটি আবেদন দিয়েছিলেন। এটা আমাদের কিছু না। এটা আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। সর্বশেষ গত ৬ মে শামীম এস্কান্দার খালেদা জিয়াকে বিদেশে পাঠানো অনুমতি চেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছিলেন। সেই আবেদন আইন মন্ত্রণালয় গেলে তা নাকচ হয়ে যায়।

এদিকে সন্ধ্যায় খালেদা জিয়ার বোন সেলিমা ইসলাম খালেদা জিয়াকে দেখতে বসুন্ধরায় এভারকেয়ার হাসপাতালে যান। হাসপাতালের সিসিইউতে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে বিএনপি চেয়ারপারসনকে। চিকিৎসকদের কাছ থেকে জানা গেছে, তাকে আইসিইউতে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা চলছে।

বসুন্ধরার এভারকেয়ার হাসপাতালের সিসিইউতে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. শাহাবুদ্দিন তালুকদারের তত্ত্বাবধায়নে বিএনপি চেয়ারপারসন চিকিৎসা নিচ্ছেন। গত ১৩ নভেম্বর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

৭৬ বছর বয়সী সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া বহুবছর ধরে আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, ফুসফুস, চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন। এভারকেয়ার হাসপাতালে ২৬ দিন চিকিৎসা শেষে গত ৭ নভেম্বর বিএনপি চেয়ারপারসন বাসায় ফেরেন। এর পাঁচ দিন আবার তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলো।

২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারিতে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় সাজার পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি দুই বছর। পরিবারের আবেদনে গত বছরের ২৫ মার্চ সরকারের নির্বাহী আদেশে তার সাজা স্থগিত করে তাকে মুক্তি দেয়া হয়।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *