খালে বাঁশই এখন ভরসা

Uncategorized

সোহেল রানা, শ্রীপুর: দেশের প্রথম শ্রেণীর পৌরসভার মধ্যে একটি হচ্ছে গাজীপুর জেলার শ্রীপুর পৌরসভা। প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা হওয়া স্বত্বেও মাত্র কয়েকটি রাস্তা ছাড়া পৌরসভার সংযোগ সড়কগুলোতে তেমন কোনো উন্নয়নমূলক কাজ করা হয়নি দীর্ঘ কুঁড়ি বছরেও এমন অভিযোগ রয়েছে পৌরবাসীর।

এখনও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি শ্রীপুর পৌরসভার ৭ ও ৯নং ওয়ার্ডের বংশী ঘাটা বেড়াইদে বাইদ লবলং খাল সংলগ্ন সংযোগ সড়কে। পৌরসভার বহেরার চালা ও বেড়াইদে বাইদের নালাটি যেখানে এসে লবলং খালের সঙ্গে মিশছে সেই জায়গার নাম হল বংশী ঘাটা। এই বংশী ঘাটার পাশ দিয়েই বয়ে গেছে ৭নং ওয়ার্ড বেড়াইদের চালা ও ৯নং ওয়ার্ড বহেরার চালা গ্রামের শতাধিক বছরের পুরাতন এ সংযোগ সড়ক।

এ রাস্তা দিয়েই প্রতিদিন স্থানীয় কলকারখানায় কর্মরত হাজার হাজার শ্রমিকসহ সাধারণ মানুষ চলাফেরা করে। পৌরসভার এ দুই গ্রামের সংযোগ স্থলে যে পুল ছিল সেটিও জলের স্রোতে ভেঙে যাওয়ায় বেড়ে যায় জনভোগান্তি। গত এক যুগের বেশি সময়েও দূর হয়নি। স্থানীয়রা এখানে বাঁশ দিয়ে একটি সাঁকো তৈরি করে চলাফেরা করছে।

বর্ষাকালে সাঁকোটিও জলের নিচে চলে যাওয়ায় মানুষের ভোগান্তি স্ব চোখে না দেখলে বুঝার কোন উপায় নেই। গতকাল সোমবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে কথা হয় স্থানীয় কৃষক কামাল হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, আশপাশে প্রায় ৪ থেকে ৬টি কারখানা গড়ে উঠায় এ রাস্তায় দিয়ে প্রতিদিন দুই থেকে তিন হাজার শ্রমিক চলাচল করে। সামান্য বৃষ্টি হলেই কোমর পানি। বৃষ্টির সময় কোমর পানি অতিক্রম করে পারাপার হতে হয় হাজারও শ্রমিকসহ এলাকার সাধারণ মানুষের।

এখনও রাস্তাটি সংস্কার করার জন্য কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তাকওয়া কারখানার সাইট সেট সেম্বল অপারেটর সোহাগ বলেন, বৃষ্টি হলে কোমর জল। এমন অবস্থায় এ রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে হয়। তাই স্থানীয়দের প্রাণের দাবি আগামী পৌর নির্বাচনের আগে রাস্তাটি সংস্কার করার জন্য কর্তৃপক্ষ উদ্যোগ গ্রহণ করেন। ভীনট্রেক্র কারখানার টেকনিশিয়ান মোকলেস বলেন, ২০০৮ সাল থেকে লবলং খালে পার্শ্ববর্তী কারখানা থেকে কাঁদাযুক্ত জল আসার কারণে খালটি ভরাট হয়ে গেছে। সামান্য বৃষ্টি হলে জল উঠে ফসলি জমিতে। স্থানীয় প্রশাসনের সঠিক তদারকি না থাকায় এহেন অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে।

ওই এলাকার স্কুল শিক্ষক আহসান বলেন, স্থানীয় যুবকদের সহযোগিতায় একটি সাঁকো নির্মাণ করা হলেও এখনও কোন পুল নির্মাণ করা হয়নি। জনভোগান্তি কমাতে এখানে একটি পুল জরুরি। তিনি আরও বলেন, আশা করি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখানে একটি পুল নির্মাণ করে মানুষের ভোগান্তি দূর করবে। এ ব্যাপারে শ্রীপুর ৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র আমজাদ হোসেনের সঙ্গে বার বার যোগাযোগ করেও পাওয়া যায়নি।

 

 

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *