খেলার মাঠ রক্ষার দাবি গুরুদাসপুরবাসীর

সারাবাংলা

জনি পারভেজ, গুরুদাসপুর থেকে
খেলার মাঠ নষ্ট করে বিয়াঘাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণ কাজ চলছে। অথচ আশপাশের অন্তত ১০টি গ্রামের শিশু-কিশোরসহ অন্যরা ওই মাঠে নিয়োমিত খেলাধুলা করেন। পুড়নো এই খেলার মাঠটি রক্ষার দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী। আজ বুধবার বেলা ১১ টার দিকে ওই বিদ্যালয় মাঠেই বিক্ষোভ শেষে মানববন্ধন করা হয়। এরপর মাঠ রক্ষার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে গণসাক্ষরিত একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এলাকাবাসী। এই কর্মসূচিতে মাঠের ওপর নির্ভরশীল কয়েকশ মানুষ অংশ নেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মাঠটির পশ্চিম অংশের অন্তত ২৫ ফুটজুড়ে ওই ভবনটি নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে করে মাঠটির আয়তন কমে খেলাধুলার অনুপযোগী হয়ে যাচ্ছে। অথচ অপরিকল্পিতভাবে নির্মিত পেছনের ওয়াসব্লক সরিয়ে ভবনটি নির্মাণ করা হলে মাঠটি রক্ষা পাবে।
স্থানীয় ফুটবল দলের কোচ আব্দুল মতিন, খেলোয়ার সুমন সরদার, শাহবুদ্দিন, দিপু, মজনু, নাহিদ হাসান নয়নসহ অন্তত ১৫ জন জানান, আশপাশের একটি মাত্র মাঠ হওয়ায় বিয়াঘাটের এই স্কুল মাঠটিতে শিয়ানপাড়া, দস্তনানগর, কুমারখালি, সরকারপাড়া, সরদারপাড়া ও বিয়াঘাট বাবলাতলাসহ অন্তত দশগ্রামের মানুষ নিয়োমিত খেলাধুলা করেন। তা ছাড়া বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরও শারীরিক ও মানষিক বিকাশের অন্যতম মাধ্যম এই মাঠ। কিন্তু এলাকার শিশু-কিশোরদের কথা চিন্তা না করে মাঠ নষ্ট করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ভবনটির নির্মাণ কাজ শুরু করেছেন। বর্তমানে ভবনের বেইজ ঢালাইয়ের কাজ চলছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে থাকা সহকারী শিক্ষক কামাল হোসেন জানান, এলাকাবাসীর সঙ্গে বৈঠক করেই বিদ্যালয়ের নতুন ভবনটির নির্মাণ কাজ করা হচ্ছে। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি শাহাদত হোসেন রান্টু বলেন, তিনিও চান মাঠটি রক্ষা পাক। কিন্তু মাঠটি রক্ষা করতে গেলে ওয়াসব্লকটি ভেঙে ফেলতে হবে। আর ওয়াসব্লক ভাঙলে শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ বাড়বে। উপজেলা প্রকৌশলী মিলন হোসেন জানান, মাঠটি সাধ্যমত রক্ষা করেই ভবন নির্মাণ কাজ চলছে। গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তমাল হোসেন বলেন, খেলার মাঠ নষ্ট করে ভবন নির্মাণের ব্যাপারে একটি লিখিত অভিযোগ তিনি পেয়েছেন। অভিযোগটি তদন্তের জন্য উপজেলা প্রকৌশলীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *