গজারিয়ায় ১০টি মন্ডপে উৎসবের আমেজ

সারাবাংলা

গাজী মাহমুদ পারভেজ, গজারিয়া থেকে
মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় শীতের কুয়াশার আমেজ আসা মানেই সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান উৎসব (শারদীয় দূর্গোৎসব) দূর্গা প্রতিমার উৎসব। দূর্গা প্রতিমার উৎসবটি এলেই গজারিয়া উপজেলায় শীতের আমেজও বয়ে আসে। শীতের আচ্ছন্নে শুর হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান উৎসব মা-দুর্গার মহান দুর্গাপূজা উৎসব। এ উৎসবকে ঘিরে পুরো উপজেলার গোটা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বসবাসরত স্থানেও দূর্গাপূজার উৎসব পালন করা হয়।
গত ৬ অক্টোবর মহালয়ার মাধ্যমে মা-দূর্গাদেবীর আগমনী বার্তা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। আগামী ১১অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মাধ্যমে দেবীকে সনাতনীর নিয়মনীতিতে পূজার অর্চনার মধ্যে দিয়ে আহ্বান করবেন ভক্তরা। ১৫ অক্টোবর বিজয়া দশমী তিথিতে প্রতিমা বির্সজনের মাধ্যমে ৫ দিনব্যাপী এই পুজা শেষ হবে। তবে বৈশ্বিক মহামারি করোনার রোগীর প্রকোপের বৃদ্ধিতে গত বছরে সীমিত পরিসরে দুর্গাপুজা অনুষ্ঠিত হলেও এই বছরে করোনার সংক্রমনের হ্রাস পাওয়ায় পুরোদমে পুজার প্রস্তুতি শুরু করেছেন সনাতন সম্প্রদায়ের লোকজনেরা। গজারিয়া উপজেলার বিভিন্ন মন্দিরে ঘুরে দেখা যায়, রোববার প্রতিমার শেষ দিনেই মৃৎশিল্পীরা রংয়ের কাজ সম্পন্ন করেই আগামীকাল হতে মা দূর্গাদেবীকে অর্চনার মধ্যে পূজার কাজ শুরু করবেন। এ লক্ষ্যে সব মন্দিরে মন্দিরে আলোক সাজসজ্জার কাজও অনেক পূজা মন্ডপের সম্পন্ন করে ফেলেছেন পূজার দায়িত্বরত পূজা কমিটির সদস্যরা। গজারিয়া উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি প্রদিব কুমার চক্রবর্তী বলেন, এই বছরে পুরো গজারিয়া উপজেলাতে ১০টি পূজার মন্ডপ আয়োজন করা হয়েছে। আগামী ১১ অক্টোবর ষষ্ঠীর তিথির মাধ্যমে সনাতনবলম্বীদের মহান উৎসব দূর্গাপূজার উৎসবের আমেজ শুরু হচ্ছে। সুতরাং মহান উৎসবে জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে করোনাকালীন সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে আসার জন্য শুভেচ্ছা জানিয়ে পূজা মন্ডপে আমন্ত্রণ জানান। অন্যদিকে পুঝা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নরেন রাজবংশী বলেন, দূগাপূজা উপলক্ষে মৈত্রীময় পরিবেশে সবার সহযোগিতা কামনা চেয়ে শান্তিপূর্ণভাবে যে যার যার ধর্ম হোক না কেন উৎসব সবার। সুতরাং মা-দূর্গার আগমনে সবাইকে মৈত্রীপূর্ণ আচরণসহ ধর্ম প্রতিপালনে সহায়তা কামনা করেছেন। এদিকে হোসেন্দী বাজা পুজা উদযাপন কমিটির সভাপতি গোবিন্দ মন্ডল জানান, এই বছরে হোসেন্দী বাজারে ১টি পুজা মন্ডপ প্রস্তুতি নিয়েছে। দূর্গাপুজার মধ্যে দিয়ে দেশের মহামারী করোনা প্রকোপ নির্মূল ও জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সবার জন্য মা-দূর্গার কাছে প্রাথর্না করা হবে। সোমা জুয়েলার্সের মালিক কালা চান কর্মকার (সুধির) বড় ছেলে শুভ কর্মকার বলেন, গত বছর করোনার জন্য মেঘনা নদীতে বিজয়া নৌ শোভাযাত্রা করা হয়নি। এই বছরে আশা করছি বিজয়া দশমীর তিথিতে মেঘনা নদীতে নৌ শোভাযাত্রার প্রতিমা বিসর্জনের আয়োজন করা হবে।
গজারিয়ায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দূর্গাপূজা উপলক্ষে গজারিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জনাব আমিরুল ইসলাম উপজেলা জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে উপজেলার জেলার ১০টি পূজা মন্ডপে মহান উৎসবে জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে করোনাকালীন সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে আসার জন্য শুভেচ্ছা জানিয়ে পূজা মন্ডপে আমন্ত্রণ জানান।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *