গরু পরিচর্যায় ব্যস্ত খামারি

সারাবাংলা

শামীম হোসেন সামন, নবাবগঞ্জ থেকে:
কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে গরু মোটাতাজাকরণ ও পরিচর্যায় দিনরাত ব্যস্ত সময় পার করছেন ঢাকার দোহার ও নবাবগঞ্জের খামারিরা। শতভাগ দেশীয় পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজাকরণ করছেন বলে এ দুই উপজেলার খামারিরা জানান। উপজেলার প্রাণী সম্পদ অফিসের পরামর্শে গরুর যত্নাদিতে কাজ করছেন বলে জানান খামারিরা। এ বছর দুই উপজেলায় ছোট বড় মিলে ১০৪২ টি খামারে কোরবানির গরু মোটাতাজাকরণের প্রস্তুতিতে ব্যস্ততা চলছে খামারিদের। করোনা সংকট থাকায় এ বছরও দুই উপজেলার কোরবানির পশুর চাহিদা মিটাতে এবারও পার্শ্ববর্তী ফরিদপুর ও মানিকগঞ্জ জেলা থেকে কোরবানির পশু আসবে।
সরেজমিনে দেখা যায়, নবাবগঞ্জ উপজেলার শোল্লা ইউনিয়নের আওনা গ্রামের অর্গানিক এগ্রো মিশ্র খামারে এ বছর ছোট, মাঝারি ও বড় আকারের বিদেশী জাতের ৮০টি গরু কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। সেই সাথে মহিষ ও রাম ছাগলও রয়েছে এ খামারে। এ বছর ভাল দামের আশায় এ সব গরু ছাগল ও মহিষ তৈরী করছেন বলে খামরির মালিক মাহমুদুল হাসান দোলন জানান।
দোলন আরও জানান, আমার খামারের গরুগুলোকে পরিচর্যার জন্য ৬ জন লোক রাখা হয়েছে। প্রতিদিন ভোর থেকে শুরু করে রাত পর্যন্ত তারা আমার এই গরুগুলোকে দেখা শুনা করে। অতিরিক্ত গরম থাকায় স্ট্যান্ট ফ্যান দিয়ে রাখা হয়েছে খামারে। এ ছাড়া সময়মত গোসল থেকে শুরু করে গরুর বিষ্ঠা পরিস্কার ও খামার পরিচ্ছন্ন কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারের কাজের লোকেরা। এরা সারাক্ষণ গরু যত্নের কাজে নিয়োজিত।
তিনি বলেন, সম্পূর্ণ দেশিয় পদ্ধতিতে আমার খামারের গরুগুলোকে প্রস্তুত করা হচ্ছে। কাচা ঘাস, গমের ছাটি চালের গুড়া ভুট্টার ছাটি এসব খাবার তিন বেলা গরুকে দেয়া হয়। তিন বেলা গোসলও করানো হয়। আমরা কোন ইনজেকশন দিয়ে গরু মোটতাজা করছি না। সর্বনিম্ন ৮০ হাজার ও সর্বোচ্চ ৭ লাখ টাকার মূল্যের গরু আছে আমার এ খামারে। এ বছর আমি খামার থেকেই গরু বিক্রি করবো হাটে উঠাব না। আশা করি গত বছরের তুলনায় এ বছর ভাল দাম পাওয়া যাবে বলে এ খামারি মনে করছেন।
নবাবগঞ্জ উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. জাকির হোসেন বলেন, আমরা শতাধিক খামারিদের প্রশিক্ষণ দিয়েছি। যাতে করে তারা দেশীয় পদ্ধতিতে গরু মোটতাজাকরণ করতে পারে। কোন রকম ইনজেকশন ছাড়াই আমদের সাথে পরামর্শ করে কোরবানির পশু প্রস্তুত করছে। আমরা প্রত্যেক খামারে গিয়ে ভিটামিন ও কৃমিনাশক ট্যাবলেট খাওয়াচ্ছি এবং দেখভাল করছি।
দোহার উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. শামিম নাহার বলেন, এবছর এ উপজেলায় ৪১৯টি খামার রয়েছে। আমরা তাদের সঠিক পরামর্শ দিতেছি যাতে করে তারা দেশীয় পদ্ধতিতে কোরবানির পশুগুলোকে মোটাতাজা করতে পারে। গরুর গ্রোথ বাড়াতে আমাদের জানা মতে কোন খামারি স্ট্রেরয়েড ও হরমোন জাতীয় কোন ইনজেকশন ব্যবহার করছেনা বলে এ পশু চিকিৎসক জানান।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *