গাছের গোড়া থেকে ফের ধান উৎপাদন

সারাবাংলা

মাহবুব হোসেন, ভূরুঙ্গামারী থেকে:
কেটে নেয়া বোরো ধান গাছের গোড়া থেকে আবারও ধান উৎপাদন করে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার অনেক কৃষক। উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ও কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে কেটে নেয়া বোরো ধান গাছের গোড়া থেকে আবারও ধান উৎপাদন বেশ জনপ্রিয় আবাদ হয়ে ওঠছে। এতে সামান্য পরিশ্রমে কৃষক বেশ লাভবান হচ্ছেন।
ধান গাছের গোড়া (মুড়ি) থেকে ধান চাষ- এ পদ্ধতির বিষয়ে উপজেলা কৃষি বিভাগ বলছে, ধানের মুড়ি থেকে আবার ধান চাষ করা যায়। বিশেষ করে ব্রি ধান-২৮ ও ২৯ ধানের গোড়া কাঁচা থাকে। তাই ধান কাটার পর এসব ধান গাছের মুড়ি থেকে কুশি বের হয়। আর এসব মুড়ি থেকে পুনরায় ধান উৎপাদন সম্ভব। এ বছর উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রামের অনেক কৃষক মুড়ি থেকে ধান চাষ করছেন।
উপজেলার ভূরুঙ্গামারী সদর ইউনিয়নের বাগভান্ডার গ্রামের কৃষক আতাউর জানন, বোরো মৌসুমে আড়াই বিঘা জমিতে ব্রি-২৮ ধান চাষ করেন। গত মে মাসের শুরুতে এসব ধান কেটে তিনি ঘরে তোলেন। এরপর ওই জমিতে পড়ে থাকা ধান গাছের মুড়ি (গোড়া) নষ্ট না করে পুনরায় ধান উৎপাদন করতে যত্ন নেন এবং ধান গাছের গোড়া কাঁচা থাকায় দ্রুত নতুন কুশি বের হয়।তবে কোনো প্রকার সেচ ছাড়াই শুধু মাত্র সামান্য পরিমাণে সার প্রয়োগ আর কয়েক বার কীটনাশক স্প্রে করে চাষকৃত এসব মুড়ি ধানের মাঝারি ফলন পেয়েছেন।এ বছর দুই বিঘা জমিতে ধান রেখেছি। আশা করছি ৮ থেকে ১০ মণ ধান পাবো।
কৃষক আজিজার রহমান বলেন একই জমিতে গত দু’দিন আগে তিনি পুনরায় ধান কাটেন এবং এক বিঘা জমিতে ফলন পেয়েছেন প্রায় ৪ মন ধান। এতে নিজেই শ্রম দিয়ে ৫ কেজি সার ও কীটনাশক বাবদ তার খরচ হয়েছে মাত্র ৩শ টাকা। এতে এই ৪ মন ধানই বাড়তি লাভ তার।
জানতে চাইলে ভূরুঙ্গামারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান জানান, এই পদ্ধতিতে ফসল আবাদ কৃষি বিজ্ঞানের ভাষায় ‘রেটুন শষ্য আবাদ’ বলা হয়ে থাকে। বিশেষ করে বোরো ধান কেটে নেয়ার পর পরবর্তী আমন আবাদের জন্য প্রায় ২ মাস সময় কৃষকরা পায়। আর এই দুইমাস সময়ের মধ্যে পড়ে থাকা জমিতে এই পদ্ধতিতে ধান আবাদ করে কৃষকরা বাড়তি ফসল পেতে পারে। এটি বেশী লাভজনক না হলেও যেসব কৃষক নিজে পরিশ্রম করেন তারা বাড়তি ফসল পেয়ে লাভবান হতে পারেন বলেও জানান তিনি।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *