গার্মেন্টস পণ্য চুরি বিশেষ ব্যবস্থা নিচ্ছে আইনশৃংঙ্খলা বাহিনী

জাতীয় লিড লিড ১ লিড 2

নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে একের পর এক গার্মেন্ট পণ্য চুরির ঘটনায় উদ্বিগ্ন পোশাক রফতানিকারকরা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট অভিযান চালিয়ে একাধিক চক্রকে গ্রেফতার করলেও থামানো যাচ্ছে না চুরি। পণ্যের চালান বিদেশি ক্রেতার কাছে পৌঁছার পরই মূলত ঘটনা জানাজানি হয়। এতে করে গার্মেন্ট কারখানা মালিকদের জরিমানা গোনার পাশাপাশি নষ্ট হচ্ছে দেশের সুনামও। এই অবস্থায় চুরি ঠেকাতে বিশেষ ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কাভার্ডভ্যানে বাধ্যতামূলক জিপিএস বসানোসহ মহাসড়কে সিসিটিভি ক্যামেরাও বসানো হচ্ছে। এ বিষয়ে গত ১৩ জুলাই পোশাক রফতানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে হাইওয়ে পুলিশের প্রধান অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মল্লিক ফখরুল ইসলামকে প্রধান করে একটি কমিটি করা হয়। এরপরই উদ্যোগী হয় হাইওয়ে পুলিশ।
কমিটির সদস্য সচিব পুলিশ সদর দফতরের এআইজি (ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট) মোশারফ হোসেন মিয়াজী বলেন, নানামুখী উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। শিগগিরই চুরি নিয়ন্ত্রণে আনা যাবে। এ সংক্রান্ত নীতিমালা চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়াও চলছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, গার্মেন্টস পণ্য চুরিতে মূলত কাভার্ডভ্যানের চালকরাই জড়িত থাকে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন এলাকায় রীতিমতো গোডাউন ভাড়া করে চোরাই পণ্য রাখে চক্রের সদস্যরা। কোনও কাভার্ডভ্যান যেন মহাসড়ক ছেড়ে আশপাশের গোডাউনে ঢুকতে না পারে সেজন্য জিপিএস সিস্টেম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে গার্মেন্টস মালিকদেরও এ বিষয়ে জানানো হচ্ছে। জিপিএস প্রযুক্তি লাগানো থাকলে কাভার্ডভ্যানটি অন্য পথে যাচ্ছে কিনা বা কোথাও দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকছে কিনা তা নজরদারি করা যাবে। হাইওয়ে পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, জিপিএসের পাশাপাশি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ৪৯০টি পয়েন্টে অত্যাধুনিক সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হবে। এক কিলোমিটার পর পর বিভিন্ন দিকে তাক করা মোট ১৫৯০টি সিসিটিভি ক্যামেরা থাকবে। হাইওয়ে পুলিশের কন্ট্রোল রুম থেকে পুরো বিষয়টি নজরদারি করা হবে। এতে মহাসড়কে সংঘটিত অন্য অপরাধও নিয়ন্ত্রণে আনা যাবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, কমিটির সভায় আরও কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গার্মেন্ট কারখানা থেকে কাভার্ডভ্যানে পণ্য ওঠানোর আগে চালকের ছবি তুলে রাখা এবং মোবাইল নম্বরসহ বিস্তারিত তথ্য সংরক্ষণ করা হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আরেক কর্মকর্তা জানান, চুরির বিষয়ে গার্মেন্ট কারখানা মালিকদেরও কিছু অবহেলা রয়েছে। কোটি কোটি টাকার পণ্য পাঠানোর সময় পরিবহনের সঙ্গে একজন প্রতিনিধি পাঠানো হলেও চুরি কিছুটা ঠেকানো যেতে পারে। কিন্তু কর্তৃপক্ষ চালকের ওপর ভরসা করে পণ্য বন্দরে পাঠানোর ঝুঁকি নিচ্ছেন। হাইওয়ে পুলিশের কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার রহমত উল্লাহ বলেন, মহাসড়কে আমরা নিয়মিত টহল দিয়ে থাকি। আশা করছি চুরির ঘটনা শূন্যের কোঠায় নিয়ে আসা যাবে।
সম্প্রতি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ গার্মেন্ট পণ্য চুরি চক্রের হোতাসহ সাত জনকে গ্রেফতার করে। জিজ্ঞাসাবাদে চক্রের সদস্যরা জানিয়েছে, অনেক কাভার্ডভ্যান চালক কারখানায় যাওয়ার আগে গাড়ির নম্বর প্লেট বদলে ভুয়া ড্রাইভিং লাইসেন্সের কপি দিয়ে আসে। যাতে চুরির পর চালককে শনাক্ত না করা যায়। বাংলাদেশ কাভার্ডভ্যান-ট্রাক-প্রাইমমুভার পণ্য পরিবহন মালিক অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব চৌধুরী জাফর আহম্মদ বলেন, আমরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গার্মেন্ট কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বসে যৌথভাবে একটি নীতিমালা করছি। এটি বাস্তবায়ন হলে চুরি ঠেকানো যাবে। তিনি বলেন, কাভার্ডভ্যান ভাড়া নেওয়ার আগে ওই চালক বা গাড়ির মালিক অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য কিনা তা নিশ্চিত হওয়া এবং চালক কোনও ইউনিয়নের সদস্য কিনা তা নিশ্চিত হতে হবে। সেক্ষেত্রে চুরি হলে চালককে শনাক্ত করা সহজ হবে। আরও কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আশা করছি সবাই মিলে চুরি ঠেকাতে পারবো।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *