গাড়ি চুরি ও দোকান লুট চক্রের ৪ সদস্য গ্রেফতার

গাড়ি চুরি ও দোকান লুট চক্রের ৪ সদস্য গ্রেফতার

জাতীয়

নিজস্ব প্রতিবেদক : গাড়ি চুরি ও দোকান লুট চক্রের ৪ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা লালবাগ বিভাগ। এ সময় তাদের হেফাজত থেকে চোরাইকৃত বিভিন্ন সামগ্রীসহ চুরির কাচে ব্যবহৃত সরঞ্জামাদি উদ্ধারমূলে জব্দ করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- মোঃ সিদ্দিকুর রহমান, মোঃ নুরু মিয়া, মোঃ হেমায়েত হোসেন ওরফে হিমু ও মোঃ আবুল বাশার। আজ রোববার (১০ জানুয়ারি) সকালে ডিএমপি গোয়েন্দা অফিস কম্পাউন্ডে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) এ কে এম হাফিজ আক্তার।

তিনি জানান, গতকাল শনিবার গাজীপুর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে থেকে তাদেরকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা লালবাগ বিভাগের সংঘবদ্ধ অপরাধ ও গাড়ি চুরি প্রতিরোধ টিম। এ সময় চোরা ও লুটেরা চক্রের সক্রিয় ৫ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। তখন তাদের হেফাজত হতে ১টি প্রাইভেটকার, ১টি মোটরসাইকেল, ১ টি তালা কাটার কার্টার, ১ টি লাগেজ, ১৯টি কাটা তালা, ৬টি অ্যান্ড্রয়েড ডেমো মোবাইল ফোন, ১৬টি এয়ারটেল সিম, ২টি ডেবিট কার্ড ও ৪টি এনআইডি কার্ড উদ্ধার করা হয়।

ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার জানান, মিরপুর এলাকায় চুরির একটি ঘটনায় গত ৬ জানুয়ারি মিরপুর মডেল থানায় একটি মামলা রুজু হয়। থানা পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা লালবাগ বিভাগ উক্ত মামলারও তদন্ত শুরু করে। সেই মামলার সূত্র ধরেই এই চক্রের ৪ জনকে গ্রেফতার করে ডিবি লালবাগ বিভাগের সংঘবদ্ধ অপরাধ ও গাড়ি চুরি প্রতিরোধ টিম। তিনি জানান, এ চক্রের মূল কাজ হল গাড়ি ছিনতাই। ছিনতাইকৃত গাড়ি দিয়ে ঢাকার আশেপাশে আশুলিয়া, গাজীপুর ও ঢাকার উত্তরায় বাজার ও দোকান-পাট লুট করে। এই চক্রের আরও কিছু সদস্য আছে। তাদের কাজ হলো রাজধানীর বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রাইভেট কার কিংবা মোটরসাইকেল ছিনতাই করা। সেই গাড়িটি তারা ছিনতাই ও চুরির কাজে ব্যবহার করত। চুরি ছিনতাই এর কাজ শেষ হলে নিজেরা বাঁচতে কোন এক নির্জন স্থানে গাড়ি ফেলে রেখে চলে যেত এ চক্রটি।

এ কে এম হাফিজ আক্তার বলেন, এই চক্রটি বিভিন্ন সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় দিয়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় চুরি ও ছিনতাই করে। গ্রেফতারকৃতরা ডিবি পুলিশের পরিচয় দিয়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিশেষ করে রাতের বেলায় বিভিন্ন দোকানপাটে চুরি ও ছিনতাই করত। চুরি-ছিনতাই করাকালে যেন কোনো সমস্যা না হয়, সেজন্য তারা রাতের বেলা বেছে নেয়। রাস্তার পাশে বিভিন্ন দোকানে বিশেষ করে মোবাইল দোকানগুলোতে চুরি করত চক্রটি। কোন দোকানে চুরি করলে সবকিছু নিয়ে নিত, কোনটা আসল আর কোনটা নকল তখনও তাদের দেখার সুযোগ থাকত না। গাড়ি চুরি বা ছিনতাইরোধে গাড়িতে ট্র্যাকার মেশিন ব্যবহার করার জন্য অনুরোধ জানান ডিবির এ গোয়েন্দা কর্মকর্তা।

সংঘবদ্ধ অপরাধ ও গাড়ি চুরি প্রতিরোধ টিমের সহকারি পুলিশ কমিশনার মধুসূদন দাস বলেন, গ্রেফতারকৃতরা অত্যন্ত কৌশলে দিনের বেলায় ফেরিওয়ালা সেজে গাড়ির মালিকদের গাড়ি কোথায় রাখে, কোন দোকান ও বাড়িতে নিরাপত্তাকর্মী নেই এবং চুরি করার আগমন ও প্রস্থান পথ রেকি করে। পরবর্তী সময়ে উক্ত চক্রটি গভীর রাতে বা সুবিধামতো সময়ে কার্টার দ্বারা বিভিন্ন বাড়ি ও দোকানের তালা কেটে টাকা, গাড়ি, মোবাইলসহ মূল্যবান সামগ্রী চুরি করে দ্রুত গাড়িযোগে পালিয়ে যায়। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে বলে এ গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানান। গ্রেফতারকৃতদেরকে রোববার মিরপুর মডেল থানায় রুজুকৃত মামলায় গ্রেফতারকৃতদের বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

 

 

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *