গোমস্তাপুরের আম বাগানে মুকুলের সমারহ

সারাবাংলা

আব্দুল বাসির, গোমস্তাপুর (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) থেকে : শীতের তীব্রতা কাটিয়ে গোমস্তাপুরের আমবাগানগুলোতে ফুটতে শুরু করেছে মুকুল। মুকুলের সমারহে বাতাসে বইতে শুরু করেছে পাগল করা ঘ্রান। অন্যান্য প্রতিটি গাছে আসতে শুরু করেছে মুকুলের মোহ। এ বছর আবহাওয়া অনুকূল থাকলে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি আম উৎপাদিত হবে বলে কৃষি বিভাগ মনে করছে। অন্যদিকে বাগান মালিকরা এ বছর আমের বাম্পার ফলনের হবে বলে আশা করছেন।

গোমস্তাপুর উপজেলার আমবাগানগুলো ঘুরে দেখা গেছে, আম বাগানের সারি সারি গাছের ডালে শোভা পাচ্ছে হলুদ আর সবুজের মহামিলন। গাছের প্রতিটি ডালপালায় মুকুল ছেয়ে আছে। চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ছে মুকুলের পাগল করা ঘ্রাণ,ছড়াচ্ছে সেই মুকুলের সুবাসিত পাগল করা বাতাস। বাতাসে মিশে সৃষ্টি করছে মৌ মৌ গন্ধ। যে গন্ধ মানুষের মন ও প্রাণকে বিমোহিতসহ মুকুলের আশেপাশে মৌমাছির আনাগোনা। অনেকেই মুকুল রক্ষা করতে গাছে গাছে ওষুধ স্প্রে করতে দেখা যাচ্ছে। অনেক আমবাগান মালিক মনে করছে এ বছর আমের ফলন নির্ভর করছে আবহাওয়ার ওপর। উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর উপজেলায় ৪৩ হেক্টর জমিতে আমগাছ রয়েছে। এর মধ্যে ফজলি ৯’শ ৮৫ হেক্টর, আশ্বিনা ১ হাজার ২’শ ৩০ হেক্টর, ল্যাংড়া ৩’শ ৯৫ হেক্টর, খিরসাপাত ২’শ ৫৫ হেক্টর, গোপাল ভোগ ২’শ ২০ হেক্টর, আমরুপালি ২’শ ৮০ হেক্টর, মল্লিকা ০৫ হেক্টর, লক্ষণভোগ ১’শ ৯৫ হেক্টর,বোম্বাই ১৫ হেক্টর, উন্নত গুটি ৩’শ ৭৫ হেক্টর জমিতে আম গাছ রয়েছে। আম বাগান মালিক বাবু আলি বলেন, বর্তমানে আবহাওয়া ভাল থাকায়, বাগানের গাছে গাছে মুকুল ফুটতে শুরু করেছে। তার বাগানে গত কয়েক সপ্তাহ থেকে বেশির ভাগ গাছে মুকুল এসেছে। পোকা-মাকড় ও অন্যান্য রোগবালাই থেকে মুকুল রক্ষা করতে প্রাথমিক পর্যায়ে পরিচর্যা শুরু করা হয়েছে। বড় ধরনের কোনো দুর্যোগ না হলে আমের বাম্পার ফলন হবে বলে তিনি মনে করছেন।

বোয়ালিয়া ইউনিয়নের বাগান মালিক ও আম ব্যবসায়ী মাসুদ জানান, আম বাগানে মুকুল আসার পর থেকেই তিনি গাছের প্রাথমিক পরিচর্যা শুরু করেছেন। মুকুলে রোগবালাইয়ের আক্রমন থেকে রক্ষা করতে স্থানীয় কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ওষুধ স্প্রে করছেন।এ বিষয়ে গোমস্তাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুদ হোসেন জানান, মঙ্গলবার (১৬ ফেব্রয়ারী) পর্যন্ত উপজেলার আম বাগানগুলে মুকুল ৭৫% পর্যন্ত ফুঁটেছে। শৈত্য প্রবাহের কারণে মুকুল ফুটতে দেরি হয়েছে। তবে আবহাওয়ার পরিবেশ অনূকুল থাকায় এবার মুকুল ফুটার পরিমাণ ৯৫% বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করছেন। তিনি জানান, আমচাষীদের বিভিন্ন সময় পরিচর্চা বিষয়ে পরামর্শ দেয়া হয়েছে। যেমন মাঠ দিবস,উঠান বৈঠক, সভা-সেমিনার ইত্যাদি। ছত্রাকনাশ-কীটনাশক ব্যবহারে স্প্রের পরিমান, ফলন অথবা মটর দানা বাধার সময়, মার্বেল আকৃতি হওয়ার সময় মোট ৩বার স্প্রে দেওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। বিশেষ করে গমএইচ এবং হপারের আক্রমণ থেকে রক্ষার জন্য।এছাড়া আমচাষীদের প্রতি ২মাস অন্তর-অন্তর আম গাছের পাশে সার দেওয়ার জন্য উপ-সহকারী কর্মকর্তা মাধ্যমে পরামর্শ দেয়া হয়েছে। অন্যান্য বিষয়ে পরামর্শের প্রয়োজন হলে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা অথবা উপজেলা কৃষি অফিসে যোগাযোগ করার জন্য বলা হয়েছে। তিনি আশা করছেন চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূল থাকলে আমের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি উৎপাদন হবে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *