গোল্ডেন ক্রাউন তরমুজ চাষ অল্প খরচে বেশি লাভ

সারাবাংলা

ছিদ্দিক মিয়া, কটিয়াদী থেকে:
ইউটিউবে দেখে গোল্ডেন ক্রাউন, জেসমিন-২ ও ব্লাক জাম্বু জাতের তরমুজ চাষ করে এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার করগাঁও ইউনিয়নের দেওপাশা বাগ গ্রামের রাকিব, আঙ্গুর ও আকাশ তিন শিক্ষিত যুবক। গ্রীষ্মকালীন সবজির পাশাপাশি জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে গোল্ডেন ক্রাউন তরমুজ চাষ শুরু করেন। এক দিকে যেমন সফলতা পেয়েছেন, অন্যদিকে লাভবান হয়েছেন তারা। তিন শিক্ষিত যুবকের এই নতুন জাতের তরমুজ চাষে সফলতা দেখে উপজেলার অনেকেই এই চাষে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন। কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে ৫ বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করছেন স্থানীয় তিন যুবক। তরমুজ সাধারনত পাওয়া যায় ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত। এই তরমুজ গাঢ় লাল, খেতেও অনেক মিষ্টি। অল্প সময়ে ভালো ফলন, ভালো দাম ও বাজারে চাহিদা বেশি থাকায় খুশি কৃষকরা। এসব তরমুজ বাজারে তুলতে হয় না। বাগান থেকেই পাইকাররা কিনে নিয়ে যায়। ফলে বাড়তি খরচও লাগছে না তাদের। এ তরমুজের আদি নিবাস তাইওয়ান। নতুন জাতের তরমুজটি উপজেলায় প্রথমবারের মতো চাষ শুরু হলেও বাজারে ভাল দামের পাশাপাশি চাহিদাও রয়েছে বেশ।
রাকিব, আঙ্গুর, ফয়সাল জানান, তারা ইউটিউবে ক্যাপসিকাম চাষ দেখে ১ বিঘা জমি লিজ নিয়ে যাত্রা শুরু করেন। প্রথমে ৪০ শতাংশ জমিতে ৮০ হাজার টাকা খরচ করে চাষ করেন ক্যাপসিকাম। উৎপাদিত ক্যাপসিকাম বিক্রি করেন ৩ লাখ টাকা। তাদের লাভ হয় ২ লাখ ২০ হাজার টাকা।আর এ লাভকে পুজি করে আরও বড় কিছু করার স্বপ্ন জাগে। সেই স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে চুয়াডাঙ্গার কৃষি উদ্যোক্তা মো. খায়রুল ইসলাম সার্বিক সহযোগিতায় ও উপজেলার কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে পরীক্ষামূলক ৫ বিঘা জমিতে বীজ বপন করেন। এই তরমুজ চাষে প্রায় ৫বিঘা জমিতে খরচ হয়েছে ৩ লাখ টাকা এবং বিক্রি হবে ১২ লাখ টাকা। ৯ লাখ টাকা লাভবান হবেন বলে আশাবাদী। এ ছাড়া এ তরমুজ বাইরের জেলাগুলোতে পাঠাতে পারলে দিগুণ দাম পেতেন। কিন্তু করোনার প্রাদুর্ভাবে ঘোষিত লকডাউনের কারণে বাইরের জেলায় পাঠাতে পারছেন না তারা। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আরও লাভের আশা দেখছেন তারা।এছাড়া রক মেলনে ফল আসতে শুরু করেছে । রক মেলনে সফল হলে আরও বড় পরিসরে করার চিন্তা ভাবনা রয়েছে। করগাঁও ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা জাকির হোসেন জানান, উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে এ তরমুজ চাষে প্রসারের লক্ষ্যে কৃষকদের বীজ, পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় কারিগরি সহযোগিতা দিয়ে আসছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ। কটিয়াদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুকশেদুল হক বলেন, গোল্ডেন ক্রাউন তরমুজ বিদেশি ফল। এই সোনালী রঙের গোল্ডেন ক্রাউন তরমুজ চাষ ছড়িয়ে দিতে উপজেলায় বিভিন্ন চাষিদের উদ্বুদ্ধ করছে করা হচ্চে। এই তিন শিক্ষিত যুবক প্রথমবারের মতো গোল্ডের ক্রাউন জাতের তরমুজের চাষ করেছেন। আমরা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে তাদের সার্বিক সহযোগিতা দিয়েছি। এই জাতের তরমুজ চাষ কটিয়াদী উপজেলায় সম্প্রসারণের জন্য কাজ করে যাচ্ছি।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *